কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • কৃষি জলবায়ু

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

কৃষক জাহিদ সারা বছর ভুট্টা ও মরিচ চাষ করেন এবং প্রায় প্রতি মৌসুমেই ফলন পান। তিনি জানেন যে দেশে অনেক ফসল বছরের সব সময় জন্মানো যায় না। এজন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে টমেটো ও পেঁয়াজের এমন কিছু জাত উদ্ভাবন করেছেন, যেগুলোর ফুল ধারণ দিনের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে না।

  1. ক)

    দিবা নিরপেক্ষ উদ্ভিদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভুট্টাকে বছরের যেকোনো সময় চাষ করা যায় কেন?

    (2)
  3. গ)

    জাহিদের চাষকৃত ফসলগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    টমেটো ও পেঁয়াজের দিবা দৈর্ঘ্য নিরপেক্ষ জাত উদ্ভাবনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের কোনো প্রভাব নেই, তাদেরকে দিবা নিরপেক্ষ উদ্ভিদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভুট্টা দিবা দৈর্ঘ্য নিরপেক্ষ ফসল। এর ফুল ধারণ দিনের আলোক সময়ের ওপর নির্ভর করে না। ভুট্টা গাছের প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হলেই তাতে ফুল আসে। ফলে দিন বড় হোক বা ছোট, যেকোনো মৌসুমেই ভুট্টা ফুল ও ফল দিতে পারে। তাই বছরের যেকোনো সময় এর চাষ করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাহিদের চাষ করা ভুট্টা ও মরিচ দিবা নিরপেক্ষ ফসল। এসব ফসলের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
    ১. পুষ্পায়নের জন্য দৈনিক আলোক ঘণ্টা বিবেচ্য নয়; যেকোনো দিবা দৈর্ঘ্যে এরা ফুল ও ফল দিতে পারে।
    ২. যেকোনো মৌসুমে এদের পুষ্পায়ন হয় এবং প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই ফুল আসে।
    ৩. কম তাপমাত্রা থেকে অধিক তাপমাত্রায় জন্মাতে সক্ষম।
    ৪. অল্প বৃষ্টি থেকে অধিক বৃষ্টিতে জন্মাতে সক্ষম।
    ৫. কম আর্দ্রতা থেকে বেশি আর্দ্রতায় জন্মাতে সক্ষম।
    এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই উদ্দীপকের ফসলগুলো প্রায় সারা বছর চাষ করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে অনেক ফসল বছরের সব সময় চাষ করা যায় না। এই সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীরা টমেটো ও পেঁয়াজের দিবা দৈর্ঘ্য নিরপেক্ষ জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
    ১. মৌসুমের সীমাবদ্ধতা দূর: এসব জাত দিনের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভরশীল নয় বলে নির্দিষ্ট মৌসুমের বাইরেও ফুল ও ফল দেয়। ফলে সারা বছর চাষ সম্ভব হয়।
    ২. উৎপাদন বৃদ্ধি: একই জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল ফলানো যায়, ফলে মোট উৎপাদন বাড়ে।
    ৩. সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল: অমৌসুমেও টমেটো ও পেঁয়াজ পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বজায় থাকে এবং দামের ওঠানামা কমে।
    ৪. কৃষকের আয় বৃদ্ধি: অমৌসুমে ভালো দামে বিক্রি করে কৃষক বেশি আয় করতে পারেন।
    ৫. পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা: সারা বছর সবজির জোগান থাকায় পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় এবং আমদানি নির্ভরতা কমে।
    অতএব, দিবা দৈর্ঘ্য নিরপেক্ষ জাত উদ্ভাবন বাংলাদেশের কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও