‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি 'ক' দেশে সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিলে প্রায় সব বিরোধী দল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে তা বর্জন করে। নির্বাচনের দিন তারা হরতাল ডাকে, ফলে খুব কম ভোটার কেন্দ্রে যায়। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এটিকে ভোটারবিহীন নির্বাচন বলেন। গণআন্দোলনের মুখে এ সংসদ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের বিধান যোগ করে। পরবর্তী সময়ে সেই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত আরেকটি নির্বাচনে সব প্রধান দল অংশ নেয়, অনেক বেশি ভোটার ভোট দেন এবং ঋণখেলাপিরা প্রার্থী হতে পারেননি। এ নির্বাচনে একটি দল ২১ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আসে।

  1. ক)

    ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম নির্বাচনটিকে কেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত নির্বাচন বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দুটি নির্বাচনের মধ্যে কোনটি অধিক গ্রহণযোগ্য ছিল? তোমার মতামত যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বিরোধী দলগুলো বর্জন করায় এটি দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে প্রচণ্ড আন্দোলন গড়ে তোলে। এ চাপের মুখে ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ এ সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হয়। ফলে এ সংসদ মাত্র ১১ দিন স্থায়ী ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম নির্বাচনটি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ও প্রহসনমূলক নির্বাচন হিসেবে পরিচিত।
    এর কারণগুলো হলো—১. আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় সব বিরোধী দল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে নির্বাচন বর্জন করে। ২. নির্বাচনের দিন বিরোধী দলগুলো হরতাল আহ্বান করে এবং ভোট বর্জনের ডাক দেয়, ফলে অত্যন্ত কম সংখ্যক ভোটার ভোট দেয়। ৩. দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এটিকে ভোটারবিহীন নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেন। ৪. ১১টি আসনে নির্বাচনই হয়নি এবং বিএনপি ২৭৮টি আসন পায়। ৫. সরকারি দল এটিকে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বললেও গ্রহণযোগ্যতার অভাবে এটি রাজনৈতিক সংকট তীব্র করে। এসব কারণে এ নির্বাচন সবচেয়ে বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দুটি নির্বাচন হলো ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ১২ জুনের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমার মতে, দ্বিতীয় নির্বাচন অর্থাৎ ১২ জুনের সপ্তম সংসদ নির্বাচন অধিক গ্রহণযোগ্য ছিল।
    যুক্তিগুলো নিম্নরূপ—
    ১. অংশগ্রহণ: ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রায় সব বিরোধী দল বর্জন করে; কিন্তু জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান দলগুলো অংশ নেয়। এতে ২,৫৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
    ২. ভোটার উপস্থিতি: প্রথম নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অতি নগণ্য ছিল ও এটিকে ভোটারবিহীন নির্বাচন বলা হয়। দ্বিতীয় নির্বাচনে ৭৪.১৫ ভাগ ভোট প্রদত্ত হয় এবং মহিলা ভোটারের অংশগ্রহণও আগের তুলনায় বেশি ছিল।
    ৩. নিরপেক্ষতা: দ্বিতীয় নির্বাচন ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, ফলে তা ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও কারচুপিবিহীন।
    ৪. পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা: প্রায় ৩৫ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
    ৫. ফলাফল: সব দল ফলাফল মেনে নেয়; আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়ী হয়ে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে এবং বিএনপি প্রধান বিরোধী দল হয়।
    অতএব, অংশগ্রহণ, ভোটার উপস্থিতি, নিরপেক্ষতা ও জনগ্রহণযোগ্যতা বিচারে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনই অধিক গ্রহণযোগ্য ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও