বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
‘জনকল্যাণ ফ্রন্ট’ নামের একটি সংগঠন সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও নীতিমালা নিয়ে গঠিত হয়েছে। তারা দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত করে একটি ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যেখানে এসব সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে। তারা জনসভার মাধ্যমে জনমত গঠন করছে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে বৈধভাবে সরকার গঠন করতে চায়। অন্য একটি গোষ্ঠী অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা দখলের কথা বলছে।
- ক)(1)
রাজনৈতিক দলের ইশতেহারকে ইংরেজিতে কী বলা হয়?
- খ)(2)
‘রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না’ — ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ম্যাকাইভারের সংজ্ঞার আলোকে উদ্দীপকের ‘জনকল্যাণ ফ্রন্ট’ কি রাজনৈতিক দল? যুক্তি দাও।
- ঘ)(4)
রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যের আলোকে জনকল্যাণ ফ্রন্টের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করো এবং অন্য গোষ্ঠীটিকে কেন রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তা যুক্তিসহ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাজনৈতিক দলের ইশতেহারকে ইংরেজিতে ম্যানিফেস্টো (Manifesto) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র, আর এর মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক দল। দলকে কেন্দ্র করেই জনমত গঠন, আদর্শের প্রচার, সমর্থকগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে ওঠে। দল নির্বাচনে প্রার্থী দেয় এবং জিতলে সরকার গঠন করে। এজন্য রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ম্যাকাইভারের মতে, যারা কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়। উদ্দীপকের জনকল্যাণ ফ্রন্ট সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও নীতিমালার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ। তারা সমস্যা চিহ্নিত করে ইশতেহার দিয়েছে এবং জনমত গঠন করে নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধভাবে সরকার গঠন করতে চায়। সুতরাং সংজ্ঞার শর্তগুলো পূরণ করায় ফ্রন্টটি একটি রাজনৈতিক দল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহ্নিত করে কর্মসূচি ও নীতিমালা প্রণয়ন করা, উন্নয়ন পরিকল্পনা জনগণের কাছে পেশ করে সমর্থন সৃষ্টি করা, নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নতি ও স্বার্থ রক্ষা করা এবং বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনভার গ্রহণ করা।
জনকল্যাণ ফ্রন্ট শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত করে ইশতেহারে সমাধানের পরিকল্পনা দিয়েছে, যা প্রথম উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। জনসভার মাধ্যমে জনমত গঠন ও সমর্থন সৃষ্টি দ্বিতীয় উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বৈধভাবে সরকার গঠনের ইচ্ছা চতুর্থ উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে। বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নতিই তাদের লক্ষ্য।
অন্যদিকে অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা দখল রাজনৈতিক দলের বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক পথের পরিপন্থী। এটি গণতান্ত্রিক নীতি ও আইনের শাসনের বিরোধী এবং এতে জনসমর্থনের ভিত্তি নেই। এ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক দল বলা যায় না।
সুতরাং কেবল জনকল্যাণ ফ্রন্টের কার্যক্রমই রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও