পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র • ভৌত জগৎ ও পরিমাপ

পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

বিজ্ঞান মেলায় তানভীর একটি পোস্টারে কয়েকটি বস্তুর নাম লিখল: ইট, সোনা, গরু, আমগাছ, পাথর ও মানুষ। পোস্টারের নিচে সে আরও লিখল, 'বিজ্ঞানীরা ভৌত জগতের প্রায় সবকিছুই জেনে ফেলেছেন এবং বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো চিরন্তন সত্য, এগুলো কখনো বদলায় না।' তার শিক্ষক তানভীরের এই মন্তব্যে সম্মত হলেন না।

  1. ক)

    ভৌত জগতের উপাদান কয়টি ও কী কী?

    (1)
  2. খ)

    ভর ও শক্তিকে আলাদা উপাদান না ধরে একত্রে শক্তি লেখা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বস্তুগুলোকে ভৌত জগৎ ও জীব জগতে ভাগ করে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তানভীরের পোস্টারের নিচের মন্তব্যটি যথার্থ কি না, ভৌত জগৎ ও বৈজ্ঞানিক সূত্রের প্রকৃতির আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভৌত জগৎ মূলত চারটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো হলো স্থান, কাল (সময়), ভর এবং শক্তি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র E=mc2E = mc^2 অনুসারে ভর ও শক্তি পরস্পর রূপান্তরযোগ্য, অর্থাৎ একই সূত্রে গাঁথা। ভরকে শক্তিতে এবং শক্তিকে ভরে পরিণত করা যায়। স্থান ও কাল তাত্ত্বিক ধারণা হওয়ায় ভৌত জগৎকে সাধারণত ভর ও শক্তির উপস্থিতি দিয়েই বোঝানো হয়। তাই ভর ও শক্তিকে আলাদা না রেখে একত্রে শক্তি লিখে ভৌত জগৎকে তিনটি উপাদানের সমন্বয় বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যার জীবন নেই, তা নিয়ে যে জগৎ তাকে ভৌত বা জড় জগৎ বলে। আর যার জীবন আছে তা নিয়ে গঠিত জগৎ হলো জীব জগৎ।
    উদ্দীপকের বস্তুগুলোর মধ্যে ইট, সোনা ও পাথর জীবনহীন। তাই এগুলো ভৌত জগতের অন্তর্ভুক্ত।
    গরু, আমগাছ ও মানুষ জীবিত বস্তু। তাই এগুলো জীব জগতের অন্তর্ভুক্ত।
    অতএব, ইট, সোনা ও পাথর ভৌত জগতের এবং গরু, আমগাছ ও মানুষ জীব জগতের উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভীরের মন্তব্যে দুটি দাবি আছে: (১) বিজ্ঞানীরা প্রায় সবকিছু জেনে ফেলেছেন এবং (২) বৈজ্ঞানিক সূত্র চিরন্তন সত্য। দুটি দাবিই সঠিক নয়।

    প্রথম দাবি: ভৌত জগৎ অত্যন্ত বিশাল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। এক দিকে বস্তুকে ভেঙে অণু, পরমাণু, কণিকা, কোয়ার্ক পর্যন্ত যাওয়া যায়, অন্য দিকে উপগ্রহ, গ্রহ, সৌরজগৎ, ছায়াপথ ও ব্ল্যাকহোল পর্যন্ত বিস্তৃত। অনুমান করা হয় সমগ্র ভৌত জগতের মাত্র প্রায় 4% মানুষ জানতে পেরেছে। সুতরাং বিজ্ঞানীরা সবকিছু জেনে ফেলেছেন, একথা ঠিক নয়।

    দ্বিতীয় দাবি: কোনো বর্তমান বৈজ্ঞানিক সূত্র কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে না পারলে নতুন সূত্র দাঁড় করাতে হয়। যেমন গ্যালিলিও রূপান্তরকে পরিবর্তন করে লরেঞ্জ রূপান্তরে পরিণত করতে হয়েছে। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক সূত্র পরিমার্জিত বা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এগুলোকে চিরন্তন সত্য বলা যায় না।

    অতএব, শিক্ষক তানভীরের মন্তব্যে সম্মত না হয়ে যথার্থ কাজই করেছেন; তানভীরের মন্তব্য যথার্থ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও