তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ ও সাইবার নিরাপত্তা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্র রাতুল প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা কম্পিউটারে একটি যুদ্ধের গেম খেলে। পড়ার টেবিলে বসলেও তার মাথায় শুধু গেমের কথাই ঘুরতে থাকে। মা কম্পিউটার বন্ধ করে দিলে সে অস্থির হয়ে ওঠে এবং শরীর খারাপ লাগছে বলে অভিযোগ করে। ইদানীং স্কুলের পরীক্ষায় তার ফলাফল খারাপ হচ্ছে। রাতুল বলে, ‘গেম খেলে আমি কম্পিউটারের প্রযুক্তি শিখছি।’
- ক)(1)
কম্পিউটার গেম কী ধরনের কার্যক্রম?
- খ)(2)
কম্পিউটার গেম খেলে কম্পিউটার প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাতুলের আচরণে আসক্তির কোন কোন লক্ষণ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রাতুল এই আসক্তি থেকে মুক্ত হতে চাইলে তাকে কী কী ধাপে অগ্রসর হতে হবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কম্পিউটার গেম এক ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অনেকে কম্পিউটার ব্যবহার করে করা যেকোনো কাজকেই প্রযুক্তির ব্যবহার বলে মনে করে, কিন্তু এটি সঠিক নয়। কম্পিউটার গেম খেলার সময় ব্যবহারকারী কেবল খেলার আনন্দ পায়। এতে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামিং সম্পর্কে কিছু শেখা হয় না। তাই গেম খেলে কম্পিউটার প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রাতুল প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা কম্পিউটার গেম খেলে। এটি গেমে আসক্তির লক্ষণ। রাতুলের আচরণে আসক্তির নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়। ১. সার্বক্ষণিক গেমের ভাবনা: পড়ার টেবিলে বসেও তার মাথায় শুধু গেমের কথাই ঘুরতে থাকে। আসক্ত ব্যক্তির মাথায় সার্বক্ষণিক গেমটির ভাবনাই খেলা করে। ২. শারীরিক অস্বস্তি: মা কম্পিউটার বন্ধ করে দিলে সে অস্থির হয়ে ওঠে এবং শরীর খারাপ লাগার কথা বলে। জোর করে খেলা থেকে বিরত রাখলে আসক্ত ব্যক্তির শারীরিক অস্বস্তি হয়। ৩. লেখাপড়ায় অমনোযোগ ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত: গেমের কারণে তার পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে। এগুলো কম্পিউটার গেমে আসক্তির সুনির্দিষ্ট লক্ষণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাতুল কম্পিউটার গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এই আসক্তি থেকে মুক্ত হতে হলে তাকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে। ১. আসক্তি স্বীকার: সবার আগে রাতুলকে নিজের কাছে স্বীকার করতে হবে যে তার গেমের আসক্তি জন্মেছে। ২. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তালিকা: জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর (লেখাপড়া, খেলাধুলা, পরিবার) একটি তালিকা করতে হবে এবং সেখানে কম্পিউটার গেমের স্থান কতটুকু তা নিজেকে বোঝাতে হবে। ৩. সমস্যার তালিকা: জীবনের সমস্যাগুলোর তালিকা করে দেখতে হবে কোনগুলো গেমের কারণে হয়েছে। রাতুলের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল এর একটি উদাহরণ। ৪. সময় ভাগ করা: লেখাপড়া, হোমওয়ার্ক, মাঠে খেলাধুলা, পরিবারকে সময় দেওয়া ও সেবামূলক কাজের জন্য সময় ভাগ করে নিতে হবে। এসব শেষ করে সময় থাকলেই কেবল গেম খেলার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ৫. ধীরে ধীরে সময় কমানো: গেমের সময় ধীরে ধীরে কমিয়ে নিজেকে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। একবার আসক্তি কেটে গেলেও তা আবার ফিরে আসতে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে। সুতরাং, এই ধাপগুলো মেনে চললে রাতুল আসক্তি থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও