সাহিত্য পাঠ • সোনার তরী
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
রহিম শেখ গ্রামের সামান্য কৃষক। ছেলে কামালকে লেখাপড়া শেখাতে তিনি জমি বিক্রি করেছেন, সঞ্চয় নিঃশেষ করেছেন এবং নিজে অনাহারে থেকেছেন। কামাল বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে সেখানেই সংসার পেতে বসেছে। বাবার সবকিছু নিয়েছে, কিন্তু বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে যায়নি। রহিম শেখ ভাঙা ঘরের বারান্দায় বসে প্রতিদিন নদীর দিকে তাকিয়ে থাকেন।
- ক)(1)
‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষক কোথায় একা বসে আছে?
- খ)(2)
“যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী”— কেন বলা হয়েছে?
- গ)(3)
“এখন আমারে লহো করুণা করে”— চরণটির ভাব উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রহিম শেখের বেদনা এবং ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের বেদনার মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষক নদীর কূলে একা বসে আছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কৃষক তার ছোট খেতের সব সোনার ধান পরম আশায় মাঝির নৌকায় তুলে দিয়েছিল। মাঝি তার সব ফসলই তরীতে তুলে নিয়ে চলে যায়, কৃষকের হাতে কিছুই থাকে না। এখানে ‘যাহা ছিল’ বলতে কৃষকের সমস্ত শ্রম ও সম্পদ বোঝানো হয়েছে। প্রতীকী অর্থে মহাকাল শিল্পস্রষ্টার সমগ্র সৃষ্টি নিজের অধিকারে নিয়ে যায়, তাই চরণটি বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষক তার সমস্ত সোনার ধান তরীতে তুলে দেওয়ার পর মাঝির কাছে করুণা প্রার্থনা করে বলেছে, এখন যেন তাকেও নৌকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই চরণে সর্বস্ব দান করার পর নিজের আশ্রয়ের জন্য কৃষকের ব্যাকুল আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে রহিম শেখও ছেলের ভবিষ্যতের জন্য জমি, সঞ্চয় ও সুখ সবকিছু দান করেছেন। কিন্তু কবিতার কৃষকের মতোই তিনি নিজে আশ্রয় পাননি; তাঁর ছেলে তাঁকে সঙ্গে নেয়নি। নদীর দিকে তাকিয়ে থাকা রহিম শেখের মধ্যে কবিতার কৃষকের সেই অসহায় প্রত্যাশা ও করুণা ভিক্ষার মনোভাব স্পষ্ট। এভাবে চরণটির ভাব উদ্দীপকের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিম শেখ ও ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষক দুজনেই সবকিছু দিয়ে একা পড়ে থাকে, তবু তাদের বেদনার মূল উৎস ও প্রকৃতিতে পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, রহিম শেখের বেদনা পারিবারিক ও সামাজিক। সন্তানের অকৃতজ্ঞতা ও অবহেলাই তাঁর কষ্টের কারণ। কবিতার কৃষকের বেদনা কোনো মানুষের নিষ্ঠুরতাজনিত নয়; তার উৎস মহাকালের অমোঘ নিয়ম, যেখানে সৃষ্টি স্থান পায় কিন্তু স্রষ্টার ব্যক্তিসত্তা বিলীন হয়। দ্বিতীয়ত, রহিম শেখের ত্যাগ ছেলের জন্য, ব্যক্তিগত স্নেহের বশে; কবিতার কৃষকের ধান শিল্পস্রষ্টার সৃষ্টিসম্ভারের প্রতীক, যা চিরায়ত শিল্পলোকের জন্য নিবেদিত। তৃতীয়ত, রহিম শেখের ত্যাগের ফল অনিশ্চিত ও ব্যক্তিগত ক্ষতিতে পরিণত, আর কবিতার কৃষকের সৃষ্টি মহাকালের তরীতে স্থায়িত্ব পায়, অর্থাৎ ব্যক্তির ক্ষয়ের বিনিময়ে সৃষ্টির অমরত্ব নিশ্চিত হয়। চতুর্থত, উদ্দীপকের বেদনা বাস্তব জীবনের হতাশা, আর কবিতার বেদনায় আছে দার্শনিক উপলব্ধি ও নিয়তিকে মেনে নেওয়ার সুর। সুতরাং বাহ্যিক মিল থাকলেও বেদনার কারণ, প্রকৃতি ও তাৎপর্যে উভয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও