বাংলা ১ম পত্র • স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রফিক ও জামাল ছোটবেলার বন্ধু। রফিক এখন পুলিশ কর্মকর্তা। জামাল দেশের মানুষের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করায় সরকার তাকে খুঁজছে। এক রাতে নির্জন স্থানে জামালের মুখোমুখি হয়ে রফিক ভাবল, “আইন আমার হাত-পা বেঁধে রেখেছে, কিন্তু মন বলছে বন্ধুর পাশে দাঁড়াই।” শেষ পর্যন্ত সে জামালকে চলে যেতে দিল।
- ক)(1)
নূর মোহাম্মদ নিজেকে কী বলে উল্লেখ করেছেন?
- খ)(2)
“আমার হাত-পা সব বন্দি।”—নূর মোহাম্মদ কেন একথা বলেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রফিকের মানসিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ নাটিকার নূর মোহাম্মদের দ্বন্দ্বের মিল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“নূর মোহাম্মদ কর্তব্য থেকে সরে আসেননি, বরং বৃহত্তর কর্তব্য পালন করেছেন।”—রফিকের সিদ্ধান্তের আলোকে মন্তব্যটি যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নূর মোহাম্মদ নিজেকে পাহারাদার এবং একটি বহুত দিনের পুরাতন যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নূর মোহাম্মদ ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চাকরি করেন। তিনি হুকুমের টহলদার, তাঁকে আইন ও উর্ধ্বতনের নির্দেশ মেনে চলতে হয়। দেশকে ভালোবাসলেও তিনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাই ইচ্ছা থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে বিপ্লবীর পক্ষে কিছু করতে পারেন না। এই অসহায়তা বোঝাতেই তিনি একথা বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রফিকের মানসিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে নাটিকার নূর মোহাম্মদের কর্তব্য ও বিবেকের দ্বন্দ্বের মিল রয়েছে।
নাটিকায় নূর মোহাম্মদ পুলিশের দায়িত্বে ঘাট পাহারা দেন। বিপ্লবীকে ধরতে পারলে পুরস্কারও পাবেন; আবার দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর মন কাঁদে। তিনি বলেন, তাঁর হাত-পা বন্দি, তিনি বহুত দিনের পুরাতন যন্ত্র। একদিকে ‘ডিউটি ইজ ডিউটি’ বোধ, অন্যদিকে দেশপ্রেম তাঁকে টানে। উদ্দীপকে রফিকও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আইনের কাছে বাঁধা, অথচ মন বন্ধুর পাশে থাকতে চায়। এই দ্বন্দ্বে দুজনই সমান। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নূর মোহাম্মদ আসামিকে ধরার দায়িত্বে ছিলেন; অথচ তিনি তাঁকে ছেড়ে দেন। প্রথমে এটি কর্তব্য থেকে সরে আসা মনে হলেও গভীরভাবে দেখলে এটি দেশের প্রতি বৃহত্তর কর্তব্যই। মন্তব্যটি যথার্থ।
১. আনুষ্ঠানিক কর্তব্য: নূর মোহাম্মদ পুলিশ হিসেবে আসামিকে ধরতে বাধ্য। তিনি বলেছিলেন, “ডিউটি ইজ ডিউটি।” উদ্দীপকের রফিকও আইনের কাছে বাঁধা।
২. দেশপ্রেমের কর্তব্য: নূর মোহাম্মদ বলেন, দেশকে ভালোবাসা পাপ নয় এবং স্বাধীনতার জন্য যারা কাজ করছে তাদের তিনি ভালোবাসেন। পরাধীন দেশে স্বাধীনতার সৈনিককে ধরা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। রফিকও বন্ধু জামালকে মানুষের অধিকারের সংগ্রামী জেনেই মুক্তি দেয়।
৩. লোভ জয়: দু হাজার টাকা পুরস্কার পেলে নূর মোহাম্মদ মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে পারতেন। তবু তিনি লোভ জয় করে বিপ্লবীর সঙ্গে করমর্দন করেন। এতে তাঁর আদর্শের জয় হয়।
সুতরাং নূর মোহাম্মদ আইনের কর্তব্যের চেয়ে দেশ ও জনগণের প্রতি বৃহত্তর কর্তব্যকে বেছে নিয়েছেন। রফিকের সিদ্ধান্তও একই। মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও