বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
সার্জেন্ট করিমের চাচাতো ভাই জাতিসংঘ মিশনে আইভরিকোস্টে কাজ করেছেন। তিনি জানান, সেখানকার একটি ব্যস্ত সড়কের নাম এখন 'বাংলাদেশ সড়ক' এবং একটি গ্রামের নাম রাখা হয়েছে 'রূপসি বাংলা'। যেখানে অন্য দেশের সৈন্যরা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল না, সেখানে তাঁরা স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। এ কাজে তাঁর কয়েকজন সহকর্মী জীবনও দিয়েছেন।
- ক)(1)
বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে যোগদান করে?
- খ)(2)
উন্নত দেশের মতো আর্থিক সহায়তা না দিয়েও বাংলাদেশ জাতিসংঘে অবদান রাখছে কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনায় বাংলাদেশি সৈন্যরা স্থানীয় জনগণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রেখেছে? উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে ইরাক ও নামিবিয়া শান্তি মিশনে যোগদানের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশন শুরু করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাতিসংঘে বাংলাদেশের আর্থিক অবদান তুলনামূলক কম। কিন্তু বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের পথে থাকা একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ, যার প্রশিক্ষিত সামরিক-বেসামরিক বাহিনী আছে। উন্নত দেশগুলো অর্থ দিয়ে অবদান রাখলেও বাংলাদেশ তার সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের সৈন্যরা প্রাণ উৎসর্গ করেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। এভাবে মানবসম্পদ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অনন্য অবদান রাখছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আইভরিকোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করেছেন।
স্থানীয় জনগণের ভালোবাসা পাওয়ার কারণ:
১. নিরপেক্ষতা: যেখানে অন্য দেশের সৈন্যরা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল না, সেখানে বাংলাদেশি সৈন্যরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২. দক্ষতা: যুদ্ধরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাঝে দাঁড়িয়ে তাঁরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেছেন।
৩. আত্মত্যাগ: তাঁরা শান্তির জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত থেকেছেন। এ পর্যন্ত ১৬৮ জন বাংলাদেশি সৈন্য শহীদ হয়েছেন।
৪. আন্তরিক আচরণ: স্থানীয় মানুষের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের ফলে তাঁরা শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।এ কারণেই আইভরিকোস্টে একটি সড়কের নাম 'বাংলাদেশ সড়ক' এবং একটি গ্রামের নাম 'রূপসি বাংলা' রাখা হয়েছে, যা এই ভালোবাসার স্বীকৃতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সড়ক ও গ্রামের নামকরণ প্রমাণ করে যে শান্তিরক্ষা মিশন বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়াতে বিশাল ভূমিকা রেখেছে।
১. গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি: ১৯৮৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশনে প্রায় ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮৫৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কাজ করেছেন। আফ্রিকার দেশগুলোতে তাঁদের সাফল্য বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
২. শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে পরিচিতি: বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
৩. সংস্কৃতির প্রসার: সিয়েরা লিওনে বাংলা ভাষা দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে এবং আইভরিকোস্টে বাংলাদেশের নামে সড়ক ও গ্রাম হয়েছে।
৪. জাতিসংঘে অবস্থান: বর্তমানে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, যা জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রভাব বাড়িয়েছে।
৫. পুলিশ ও নারী সদস্যের অংশগ্রহণ: সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও মহিলা পুলিশের অংশগ্রহণ দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।তবে এই অর্জনের পেছনে ১৬৮ জন সৈন্যের আত্মত্যাগ আছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, শান্তিরক্ষা মিশন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও গৌরব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও