বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংকব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

উপকূলীয় এলাকা সুন্দরনগরে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে অনেক ঘরবাড়ি ও বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। সরকার দ্রুত ত্রাণ বিতরণ ও বাঁধ মেরামতের জন্য জরুরি অর্থ বরাদ্দ করে। ওই এলাকার বৃদ্ধ ও বিধবা মানুষেরা সরকারের কাছ থেকে প্রতি মাসে ভাতা পেয়ে থাকেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বললেন, 'এসব খাতে সরকারকে প্রতি বছরই অর্থ ব্যয় করতে হয়।'

  1. ক)

    অপ্রত্যাশিত ব্যয় কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশ সরকার বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যয় করে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ত্রাণ ও ভাতা সরকারের ব্যয়ের কোন কোন খাতের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সরকার যদি কেবল ত্রাণ ও ভাতায় ব্যয় না করে উন্নয়ন ব্যয়ে বেশি মনোযোগ দেয়, তাহলে সুন্দরনগরের মানুষের ভবিষ্যৎ কীভাবে উপকৃত হবে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, মহামারি ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও এর ফলে সৃষ্ট জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সরকার যে ব্যয় করে, তাকে অপ্রত্যাশিত ব্যয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট, সেতু, রেলপথ ইত্যাদি উন্নয়ন ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। এসব অবকাঠামো নির্মাণ করলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হয়। বেড়িবাঁধ দুর্যোগ থেকে মানুষ ও ফসলের ক্ষতি কমায়। তাই দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকার এ খাতে ব্যয় করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ত্রাণ বিতরণ ও বাঁধ মেরামতের জন্য জরুরি বরাদ্দ সরকারের অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে বৃদ্ধ ও বিধবাদের মাসিক ভাতা সামাজিক নিরাপত্তা খাতের অন্তর্ভুক্ত।
    অপ্রত্যাশিত ব্যয়: ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগে থেকে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। দুর্যোগের পর জরুরি ত্রাণ ও পুনর্গঠনে সরকারকে তাৎক্ষণিক অর্থ ব্যয় করতে হয়।
    সামাজিক নিরাপত্তা: বৃদ্ধ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের মতো অসহায় মানুষের জীবনধারণ সহজ করতে সরকার নিয়মিত ভাতা দেয়।
    এভাবে এ দুটি খাতে ব্যয় করে সরকার জনকল্যাণ নিশ্চিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ত্রাণ ও ভাতা দুর্যোগ বা অসহায়তার তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়, কিন্তু উন্নয়ন ব্যয় স্থায়ী কাঠামো তৈরি করে।
    ১. টেকসই অবকাঠামো: সরকার শক্ত বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার ও উঁচু রাস্তা নির্মাণে ব্যয় করলে ভবিষ্যতে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি অনেক কমবে। ফলে প্রতিবছর জরুরি অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের চাপও কমবে।
    ২. কর্মসংস্থান ও আয়: রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ে এবং মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এতে ভাতার ওপর নির্ভরশীলতা কমে।
    ৩. উৎপাদনশীলতা: উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বাড়ালে জাতীয় আয় বাড়ে, যা পরবর্তীতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বেশি অর্থ বরাদ্দের সুযোগ দেয়।
    তবে অসহায় মানুষের জন্য ভাতা ও দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ বন্ধ করা যাবে না। তাই সরকারের উচিত উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে সামাজিক নিরাপত্তা ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও