সহপাঠ • শব্দার্থ ও টীকা

সহপাঠ প্রশ্ন

শিমুলতলী গ্রামে হঠাৎ এক অচেনা লোক, সালাম, এসে হাজির হয়। কৌতূহলী গ্রামবাসী তাকে ঘিরে ধরলে সে চোখ বড় বড় করে বলে, গ্রামের পুরোনো বটতলায় এক কামেল দরবেশের কবর অযত্নে পড়ে আছে, তাই গ্রামের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসবে। শুনে মানুষগুলো লজ্জায় মাথা নিচু করে। কয়েক বছর পর পাশের গ্রামের এক লোক সালামকে চিনে ফেলে এবং জানিয়ে দেয়, সালাম আসলে সামান্য ফেরিওয়ালা।

  1. ক)

    'জাহেল' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    'জমায়েতের অধোবদন চেহারা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সালামের আচরণে মজিদের কোন কৌশলটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার জন্য মজিদ যে মিথ্যার ব্যবসা শুরু করেছে, সে খেলা সাংঘাতিক' – উক্তিটির আলোকে উদ্দীপকের সালামের পরিণতি ও মজিদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'জাহেল' শব্দের অর্থ অজ্ঞ, মূর্খ বা নির্বোধ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মজিদ যখন মোদাচ্ছের পিরের মাজারের কথা বলে উপস্থিত গ্রামবাসীকে গালাগালি করছিল, তখন তাদের ভেতরে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করছিল। তারা ভাবছিল, সত্যিই কি তারা পিরের মাজারকে এভাবে অযত্ন-অবহেলায় ফেলে রেখেছে। এই অনুশোচনা ও লজ্জায় তাদের মুখ নিচু হয়ে ছিল। 'জমায়েতের অধোবদন চেহারা' বলতে মানুষগুলোর লজ্জা ও অপরাধবোধ মেশানো নতমুখ অবস্থাকেই বোঝানো হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সালামের আচরণে অচেনা গ্রামে ঢুকে অভিনয় ও ধর্মের ভয় দেখিয়ে মানুষকে বশ করার মজিদি কৌশলটি প্রকাশ পেয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ মহব্বতনগরে অচেনা আগন্তুক হিসেবে প্রবেশ করে। নতুন মানুষ দেখে কৌতূহলী গ্রামবাসী তাকে ঘিরে ধরলে সে বুঝে ফেলে, তারা মূর্খ কিন্তু কৌতূহলী। তখন কোটরাগত চোখে আগুন জ্বেলে সে অভিনয় শুরু করে এবং মোদাচ্ছের পিরের মাজার অযত্নে পড়ে আছে বলে তাদের ভর্ৎসনা করে।

    উদ্দীপকে সালামও একই পথে হেঁটেছে। সে কৌতূহলী গ্রামবাসীর সামনে চোখ বড় বড় করে বটতলার কবরের কথা বলেছে এবং গজবের ভয় দেখিয়েছে। ফলে মানুষগুলো অপরাধবোধে মাথা নিচু করেছে।

    অতএব মিথ্যা কবর বা মাজারের গল্প এবং ধর্মীয় ভয়কে হাতিয়ার করে সরল মানুষকে প্রভাবিত করার কৌশলে সালাম মজিদের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য উক্তিতে লেখক মজিদের মিথ্যা মাজার-ব্যবসাকে এক ভয়ংকর বা 'সাংঘাতিক' খেলা বলেছেন, কারণ যে কোনো সময় এর রহস্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

    মজিদ অভাবগ্রস্ত এলাকার মানুষ। বেঁচে থাকার তাগিদে সে মহব্বতনগরে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে পিরের মাজার বলে প্রতিষ্ঠা করে এবং গ্রামবাসীকে বোকা বানিয়ে প্রতিপত্তি ও সচ্ছলতা অর্জন করে। কিন্তু এর ভিত্তি মিথ্যা। কখনো এই মিথ্যা উন্মোচিত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তার পক্ষে কঠিন, তাই লেখক একে ঝুঁকিপূর্ণ খেলা বলেছেন।

    উদ্দীপকে সালামও কবরের মিথ্যা গল্প বলে গ্রামবাসীকে প্রভাবিত করেছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর পাশের গ্রামের একজন তাকে চিনে ফেলে তার আসল পরিচয় প্রকাশ করে দেয়। এভাবে সালামের মিথ্যা ধরা পড়ে যায় এবং তার ঝুঁকিপূর্ণ খেলার পরিণতি ঘটে।

    সালামের এই পরিণতি মজিদের সম্ভাব্য বিপদের দিকটিকেই স্পষ্ট করে। মজিদের মিথ্যাও যে কোনো সময় ধরা পড়তে পারে, আর তখন তার অর্জিত সম্মান ও নিরাপত্তা মুহূর্তে ভেঙে পড়বে।

    সুতরাং উক্তিটি যথার্থ; উদ্দীপক মজিদের ব্যবসার এই বিপজ্জনক দিকটিকে স্পষ্ট করে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও