জীববিজ্ঞান • জীবে পরিবহন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

জনাব জামাল ডায়াবেটিসের রোগী। তিনি মাখন, ডিমের কুসুম ও চিংড়ি খেতে খুব ভালোবাসেন এবং শারীরিক পরিশ্রম কম করেন। তার রক্ত পরীক্ষার ফলাফল নিচে দেওয়া হলো:

কোলেস্টেরলের প্রকারজামাল সাহেবের মান (মিলিমোল/লিটার)আদর্শ মান (মিলিমোল/লিটার)
LDL3.2< 1.8
HDL0.9> 1.5
ট্রাই-গ্লিসারাইড2.4< 1.7
  1. ক)

    LDL-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    HDL-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সারণি বিশ্লেষণ করে জামাল সাহেবের রক্তের কোলেস্টেরলের অবস্থা মূল্যায়ন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জামাল সাহেবের জীবনযাপনের ধরন ও রক্তের পরীক্ষার ফল তার কোন কোন রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে? প্রক্রিয়াসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর LDL-এর পূর্ণরূপ Low Density Lipoprotein।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন গঠনের মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে HDL (High Density Lipoprotein) হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং কমায়। অপরদিকে LDL হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় বলে তাকে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর এই ভূমিকার কারণেই HDL-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সারণি অনুযায়ী জামাল সাহেবের রক্তের মান আদর্শ মানের সাথে তুলনা করা হলো:
    ১. LDL: আদর্শ মান ১.৮ মিলিমোল/লিটারের কম, কিন্তু তার ৩.২। অর্থাৎ আদর্শ মানের চেয়ে ১.৪ মিলিমোল/লিটার বেশি। খারাপ কোলেস্টেরল বেশি।
    ২. HDL: আদর্শ মান ১.৫-এর বেশি হওয়া উচিত, কিন্তু তার ০.৯। অর্থাৎ ০.৬ মিলিমোল/লিটার কম। ভালো কোলেস্টেরল কম।
    ৩. ট্রাই-গ্লিসারাইড: আদর্শ মান ১.৭-এর কম, কিন্তু তার ২.৪। অর্থাৎ ০.৭ মিলিমোল/লিটার বেশি।
    তিনটি মানই আদর্শ সীমার বাইরে। তাই বলা যায়, জামাল সাহেবের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জামাল সাহেবের ঝুঁকি হৃদরোগ, বিশেষ করে করোনারি হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক এবং পিত্তথলির পাথর।
    ১. কোলেস্টেরলের উৎস: মাখন, ডিমের কুসুম ও চিংড়ি অধিক কোলেস্টেরলযুক্ত খাদ্য। এগুলোর সাথে শারীরিক পরিশ্রমের অভাব তার রক্তে LDL ও ট্রাই-গ্লিসারাইড বাড়িয়েছে।
    ২. করোনারি ধমনিতে চর্বি জমা: অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনির গায়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়। এতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও খাদ্যসার পায় না। ফলে বুকে ব্যথা (অ্যানজিনা) হয়।
    ৩. হার্ট অ্যাটাক: ধমনি আরও সংকীর্ণ হয়ে বা রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হলে হৃৎপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, একেই হার্ট অ্যাটাক বলে। জামাল সাহেব ডায়াবেটিসের রোগী, তাই তার বুকে ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
    ৪. পিত্তথলির পাথর: কোলেস্টেরল যকৃতের মাধ্যমে পিত্তরসে অপসারিত হয়। পিত্তরসে এর মাত্রা বেড়ে গেলে তলানির মতো জমে শক্ত হয়ে পিত্তথলির পাথর তৈরি হতে পারে।
    অতএব তার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ব্যায়াম এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও