বাংলা ১ম পত্র • যাব আমি তোমার দেশে

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

গ্রীষ্মের ছুটিতে গ্রামের স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশের বড় দিঘিতে সাঁতার কাটে। দিঘির পাড়ের শাপলা-লতা পায়ে জড়িয়ে গেলে তারা হেসে ওঠে। সাঁতারের শেষে ভেজা গায়ে রোদ পড়লে ঝিলমিল করে ওঠে। তারা ডুব দিয়ে তুলে আনে লাল শাপলা, আর পাড়ে বসে সবাই মিলে কাড়াকাড়ি করে ফুল ভাগ করে নেয়।

  1. ক)

    ‘ধল-দীঘি’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “দূর দেশীয় মেঘ-কনেরা মাথায় লয়ে জলের ঝারি”—চরণটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোন কোন বিষয় ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কোন কোন চরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “দলবদ্ধ খেলাধুলার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার আনন্দই উদ্দীপক ও কবিতার মূল সুর।”—‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ধল-দীঘি’ শব্দের অর্থ মস্ত বড় দীঘি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি এখানে বৃষ্টিভরা মেঘকে কনের রূপে কল্পনা করেছেন। দূর দেশ থেকে আসা মেঘেরা যেন মাথায় জলভরা ঝারি নিয়ে আসা কনে। তারা পল্লির আকাশে এসে দাঁড়ায় এবং বিদ্যুতের আলো তাদের পাড়ওয়ালা আঁচলের মতো দুলে ওঠে। এর মাধ্যমে পল্লির আকাশের মেঘ ও বৃষ্টির সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সাব্বিরদের দিঘিতে সাঁতার কাটা, শাপলা-লতায় পা জড়িয়ে যাওয়া এবং লাল শাপলা তুলে আনার বিষয়গুলো কবিতার একটি অংশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

    কবিতায় কবি বলেছেন, “ধল-দীঘিতে সাঁতার কেটে আনব তুলে রক্ত-কমল, শাপলা লতায় জড়িয়ে চরণ ঢেউ-এর সাথে খাব যে দোল।” উদ্দীপকে সাব্বির ও তার বন্ধুরা দিঘিতে সাঁতার কাটে, শাপলা-লতায় পা জড়িয়ে গেলে হেসে ওঠে এবং ডুব দিয়ে লাল ফুল তুলে আনে। কবিতার রক্ত-কমল তোলা ও লতায় পা জড়ানোর চিত্রই এখানে মিলে যায়। আবার “হিজল-ঝরা জলের ছিটায় গায়ের বরণ রঙিন হবে, খেলবে দীঘির ঝিলিমিল”—এই অংশের সঙ্গে উদ্দীপকের ভেজা গায়ে রোদের ঝিলমিল করার চিত্র সঙ্গতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপক ও কবিতা দুটিতেই বন্ধুদের সঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে প্রকৃতির কোলে খেলার আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে। মন্তব্যটি অনেকাংশে যথার্থ।

    ১. দলবদ্ধ খেলা: কবিতায় কবি বলেছেন, “পাড়ার যত দস্যি ছেলে, তাদের সাথে দল বাঁধিয়া হেথায় সেথায় ফিরব খেলে।” উদ্দীপকে সাব্বির বন্ধুদের সঙ্গে দিঘিতে সাঁতার কাটে।

    ২. প্রকৃতির সঙ্গে মিলন: কবি ঢেউয়ের সাথে দোল খেতে এবং শাপলা-লতায় চরণ জড়াতে চান। উদ্দীপকের ছেলেরাও শাপলা-লতা ও জলের সঙ্গে মেতে ওঠে। জল, ফুল ও রোদ তাদের আনন্দের অংশ হয়ে যায়।

    ৩. সহজ আনন্দ: দুই জায়গাতেই আনন্দ আসে কোনো কৃত্রিম উপকরণ ছাড়া, পল্লির দিঘি, ফুল ও বন্ধুদের সঙ্গ থেকে। ফুল তুলে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে বন্ধুত্বের উষ্ণতাও প্রকাশ পেয়েছে।

    ৪. কবিতার অতিরিক্ত দিক: কবিতায় আরও আছে পাখির সঙ্গে ভাব করা, সন্ধ্যায় ঘাটে ফুলের মালা রেখে আসার কল্পনা এবং পল্লি-দুলালের প্রতি স্নেহ। উদ্দীপকে এগুলো নেই।

    সুতরাং খেলাধুলা ও প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতার আনন্দ উভয়ের মূল সুর হলেও কবিতার ভাব আরও ব্যাপক ও গভীর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও