জীববিজ্ঞান • খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

করিম মিয়া ৩৫ বছর বয়সী একজন রিকশাচালক। অতিরিক্ত দৈহিক পরিশ্রমের কারণে তার দৈনিক প্রায় ৩০০০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু সে দিনে তিনবার একই ধরনের খাবার খায়। এক বেলার খাবারের পুষ্টি উপাদান নিচের ছকে দেওয়া হলো:

খাদ্যশর্করা (গ্রাম)আমিষ (গ্রাম)স্নেহ (গ্রাম)
ভাত6051
ডাল1283
মাছ0146
  1. ক)

    খাদ্য ক্যালরি কী?

    (1)
  2. খ)

    খাদ্যের ক্যালরি নির্ণয়ের সময় ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির ক্যালরি মূল্য শূন্য ধরা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত এক বেলার খাবার থেকে করিম মিয়া কত কিলোক্যালরি এবং কত কিলোজুল শক্তি পায়? নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    করিম মিয়ার বর্তমান খাদ্যাভ্যাস তার স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী কি না— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর খাদ্যের শক্তিমূল্য প্রকাশের জন্য পুষ্টিবিদরা যে ক্যালরি ব্যবহার করেন, তাকে খাদ্য ক্যালরি বলে। প্রকৃতপক্ষে 1 খাদ্য ক্যালরি = 1 কিলোক্যালরি = প্রায় 4.2 কিলোজুল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ক্যালরি হলো খাদ্য থেকে নির্গত তাপশক্তির একক। খাদ্যের উপাদানগুলোর মধ্যে শুধু শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ দেহে জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তা করলেও এগুলো থেকে দেহে কোনো শক্তি পাওয়া যায় না। এ কারণে ক্যালরি হিসাবের সময় এদের ক্যালরি মূল্য শূন্য ধরা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 1 গ্রাম শর্করা ও আমিষ থেকে 4 কিলোক্যালরি এবং 1 গ্রাম স্নেহ থেকে 9 কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।

    ভাত: শর্করা 60×4=24060 \times 4 = 240, আমিষ 5×4=205 \times 4 = 20, স্নেহ 1×9=91 \times 9 = 9; মোট =269= 269 কিলোক্যালরি।
    ডাল: শর্করা 12×4=4812 \times 4 = 48, আমিষ 8×4=328 \times 4 = 32, স্নেহ 3×9=273 \times 9 = 27; মোট =107= 107 কিলোক্যালরি।
    মাছ: আমিষ 14×4=5614 \times 4 = 56, স্নেহ 6×9=546 \times 9 = 54; মোট =110= 110 কিলোক্যালরি।

    অতএব এক বেলার মোট শক্তি =269+107+110=486= 269 + 107 + 110 = 486 কিলোক্যালরি।
    যেহেতু 1 কিলোক্যালরি =4.2= 4.2 কিলোজুল, তাই 486×4.2=2041.2486 \times 4.2 = 2041.2 কিলোজুল।

    উত্তর: এক বেলার খাবার থেকে সে 486 কিলোক্যালরি বা প্রায় 2041.2 কিলোজুল শক্তি পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর করিম মিয়ার দৈনিক প্রয়োজন প্রায় 3000 কিলোক্যালরি। গ-অংশের হিসাব অনুযায়ী এক বেলায় সে পায় 486 কিলোক্যালরি। দিনে তিনবার একই খাবার খেলে তার দৈনিক প্রাপ্ত শক্তি =486×3=1458= 486 \times 3 = 1458 কিলোক্যালরি।

    ঘাটতি =3000−1458=1542= 3000 - 1458 = 1542 কিলোক্যালরি, অর্থাৎ প্রয়োজনের অর্ধেকেরও বেশি শক্তি সে পাচ্ছে না।

    বিশ্লেষণ:
    ১. একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সাধারণভাবে 2000-2500 কিলোক্যালরি লাগে। রিকশা চালানোর মতো কঠোর শ্রমে এর চেয়ে বেশি শক্তি দরকার। কিন্তু সে সাধারণ পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রয়োজনের চেয়েও কম শক্তি পাচ্ছে।
    ২. শক্তির ঘাটতি পূরণে দেহ সঞ্চিত চর্বি ও আমিষ ভাঙতে শুরু করবে। ফলে ওজন কমবে, দেহ দুর্বল হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।
    ৩. খাদ্য কমে গেলে বিএমআর-এর মানও কমে যায়, ফলে দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।
    ৪. তার খাবারে ফল, শাকসবজি ও দুধজাতীয় খাবার নেই বলে ভিটামিন ও খনিজ লবণের অভাবও দেখা দিতে পারে।

    সুতরাং তার বর্তমান খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাকে ভাত, ডাল, মাছের পরিমাণ বাড়িয়ে এবং স্নেহজাতীয় খাবার, শাকসবজি ও ফল যোগ করে প্রতিদিন প্রায় 3000 কিলোক্যালরির সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও