বাংলা ১ম পত্র • আমাদের সংস্কৃতি

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

রূপসা গ্রামের যাত্রাপালায় হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবাই অংশ নেয়। পালার গীতিকার জব্বার মিয়া রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের গান লেখেন, আবার মনোরঞ্জন দাস কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে পালা বাঁধেন। কেউ কেউ ধর্ম নিয়ে কলহ করলেও গ্রামবাসী মনে করে, মানুষই সবার আগে। একবার এক জমিদারের অন্যায়ের প্রতিবাদে পালার শেষ দৃশ্যে সবাই জোরালো কণ্ঠে গান গেয়ে ওঠে।

  1. ক)

    আঠারো শতক পর্যন্ত বাংলার সংস্কৃতিকে এক অর্থে কী বলা যায়?

    (1)
  2. খ)

    “মঙ্গলকাব্যে দেবতার চেয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে মানুষ”– কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জব্বার মিয়া ও মনোরঞ্জন দাসের রচনা ‘আমাদের সংস্কৃতি’ প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “আমাদের সংস্কৃতির প্রবহমান ধারায় মানবকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাত ফুটে উঠেছে।”– উদ্দীপক অবলম্বনে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আঠারো শতক পর্যন্ত বাংলার সংস্কৃতিকে এক অর্থে ধর্মমুখী বলা যায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মঙ্গলকাব্য দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য লেখা হলেও এর কাহিনিতে মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও আবেগই প্রধান হয়ে উঠেছে। পাঠক দেবতার চেয়ে মানুষের জীবনকাহিনি দ্বারাই বেশি আকৃষ্ট হয়েছে। লেখক এ কথা দ্বারা বুঝিয়েছেন, ধর্মীয় বিষয়ের মধ্যেও বাংলার সংস্কৃতিতে মানবিকতাই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জব্বার মিয়া ও মনোরঞ্জন দাসের রচনা প্রবন্ধের ধর্মসম্প্রদায়ের সীমা অতিক্রম করে সবার বক্তব্য একসঙ্গে স্থান পাওয়ার বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, বাংলার সাহিত্য ও সংগীতে নানা ধর্মসম্প্রদায়ের বক্তব্য একই সঙ্গে স্থান পেয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, অবৈষ্ণব কবি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ লিখেছেন এবং অমুসলমান কবি কারবালা-কাহিনি লিখেছেন।

    উদ্দীপকে মুসলমান গীতিকার জব্বার মিয়া রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের গান লিখেছেন এবং হিন্দু মনোরঞ্জন দাস কারবালার কাহিনি নিয়ে পালা বেঁধেছেন, যা প্রবন্ধের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন, বাংলার সংস্কৃতিতে ধর্মের পাশাপাশি মানবিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ধারা সবসময় প্রবহমান ছিল।

    ১. মানবিকতা: প্রবন্ধ অনুযায়ী বৈষ্ণব কবিতা তত্ত্বের চেয়ে প্রেমের কাহিনিরূপেই আদৃত হয়েছে। উদ্দীপকের গ্রামবাসীও মনে করে ধর্মের আগে মানুষই বড়। এখানে মানবিকতার প্রকাশ ঘটেছে।

    ২. সমন্বয়-চেতনা: প্রবন্ধে ধর্মকলহের পাশাপাশি সমন্বয়-চেতনার কথা আছে। উদ্দীপকে কিছু লোক ধর্ম নিয়ে কলহ করলেও পালায় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নেয়, যা সেই সমন্বয়ের পরিচয়।

    ৩. অন্যায়ের প্রতিবাদ: প্রবন্ধে বলা হয়েছে, পুরনো ধারার সংস্কৃতিতে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদ আছে এবং একালের সংস্কৃতিতে বিদ্রোহের কথা সরবে শোনা যায়। উদ্দীপকে জমিদারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবার জোরালো কণ্ঠে গান গেয়ে ওঠা সেই প্রতিবাদী চেতনার প্রকাশ।

    সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাগুলোতে প্রবন্ধে বর্ণিত মানবকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়ের পক্ষপাতই ফুটে উঠেছে। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও