সাহিত্য পাঠ • তোমার আপন পতাকা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে রিকশাচালক জামাল, গার্মেন্টস কর্মী রোকেয়া, স্কুলশিক্ষক আবদুল মান্নান আর কলেজছাত্র তানভীর খালি পায়ে একই সারিতে হাঁটছে। সবার হাতে লাল-সবুজ পতাকা। কেউ কাউকে চেনে না, তবু একই সুরে গাইছে—‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...’। তানভীর খেয়াল করে, ভিড়ের কারও মুখে ভয় নেই; আছে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা, যেন সবাই একসঙ্গে বহুদিনের গ্লানি মুছে ফেলতে এসেছে।
- ক)(1)
‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- খ)(2)
“দিবালোক হয়ে ফোটে প্রাঞ্জল বিপ্লব”—চরণটি দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের পতাকা ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতায় কীসের প্রতীক হয়ে উঠেছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
“পতাকা কেবল ঐক্যের নয়, লাঞ্ছনার গ্লানি মুছে ফেলার প্রতীকও।”—উদ্দীপক ও ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার আলোকে উক্তিটির যৌক্তিকতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর চরণটি একটি চিত্রকল্প। সূর্যের আলো ফুটলে যেমন দিনের সূচনা হয় এবং চারদিক স্পষ্ট ও প্রাণময় হয়ে ওঠে, তেমনি মানুষের জাগরণও বিপ্লব হয়ে প্রকাশ্যে ফুটে উঠেছে। কবি সূর্যোদয়ের সঙ্গে বিপ্লবের প্রাণময়তা ও স্বচ্ছতাকে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ মুক্তির সংগ্রাম এখন আর গোপন নয়, তা দিনের আলোর মতো সবার সামনে দৃশ্যমান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের পতাকা ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতায় ঐক্য ও প্রত্যাশা পূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, কবি কাঁধে কাঁধ মেলানো অজস্র মানুষকে একই পতাকার বন্ধনে বাঁধতে চেয়েছেন। কবিতায় শ্রমিক, কৃষক, মাঝি, কামার, কুমোর, তাঁতি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত—সকল শ্রেণির মানুষ একই মিছিলে মিলিত হয়ে ‘কোটি হাত এক হাত’ হয়ে গেছে এবং তারা সবাই একই পতাকার নিচে সমবেত। এই পতাকাতেই তারা বহু শতাব্দীর অবগুণ্ঠিত আশা পূরণ হতে দেখে।
উদ্দীপকেও রিকশাচালক, গার্মেন্টস কর্মী, শিক্ষক ও ছাত্র ভিন্ন পেশার হয়েও একই সারিতে লাল-সবুজ পতাকা হাতে হাঁটছে। পতাকা তাদের সবাইকে এক সুরে বেঁধেছে। সুতরাং উদ্দীপকের পতাকাও কবিতার মতোই ঐক্য ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রতীক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যুক্তিসংগত। উদ্দীপক ও কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই পতাকাকে মিলিত শক্তির পাশাপাশি গ্লানি মোছার প্রতীকরূপে দেখা যায়।
কবিতার শুরুতেই কবি বলেছেন, ‘এবার মোছাব মুখ তোমার আপন পতাকায়’। যুগে যুগে ক্রূর পদাতিক ও অশ্বারোহীর আঘাতে বাংলার মুখ ক্ষোভ ও লজ্জায় নত হয়ে গেছে, বুক বিদীর্ণ হয়ে নীল বর্ণ ধারণ করেছে। সেই শোকাক্রান্ত মুখ মোছানোর উপায় হয়ে এসেছে স্বাধীন দেশের আপন পতাকা। পাশাপাশি এই পতাকাই কারখানার শ্রমিক থেকে কামার-কুমোর-তাঁতি, এমনকি মধ্যবিত্ত—সবাইকে একটি মিছিলে এনেছে। ‘সাত কোটি মুখ’ মৃত্যুকে তুচ্ছ করে ‘শত্রুকে শেষ দেখা দেখে নিতে’ এগিয়ে এসেছে এবং পতাকায় ‘বরাভয়’ হিল্লোলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে রিকশাচালক, গার্মেন্টস কর্মী, শিক্ষক ও ছাত্র একই সারিতে লাল-সবুজ পতাকা হাতে হাঁটছে—এখানে ঐক্যের দিকটি স্পষ্ট। তাদের মুখে ভয় নেই, আছে দৃঢ়তা, ‘যেন সবাই একসঙ্গে বহুদিনের গ্লানি মুছে ফেলতে এসেছে’—এ থেকে বোঝা যায়, পতাকা তাদের কাছে অতীতের বেদনা মোছার প্রতীকও। তবে কবিতায় এই গ্লানি মুছে ফেলা সশস্ত্র শত্রুর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, আর উদ্দীপকে তা শহীদদের স্মরণের শান্ত শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে; প্রেক্ষাপটে ভিন্নতা থাকলেও মর্মবস্তুতে মিল রয়েছে।
অতএব, পতাকা ঐক্য ও গ্লানিমুক্তি—দুটোরই প্রতীক; উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও