জীববিজ্ঞান • জীবপ্রযুক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

একটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সিম্বিডিয়াম অর্কিডের চারা উৎপাদনের দুটি পদ্ধতির তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ করেছে:

উদ্ভিদপ্রচলিত পদ্ধতিতে বছরে চারামেরিস্টেম কালচারে বছরে চারা
সিম্বিডিয়াম অর্কিড৮টি৪০,০০০টি

কেন্দ্রটি আরও জানায়, সাধারণ বীজ-আলু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফলন কমিয়ে ফেলে, কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে উৎপন্ন আলুর চারা রোগমুক্ত।

  1. ক)

    মেরিস্টেম কী?

    (1)
  2. খ)

    টিস্যু কালচারের মাধ্যমে রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করা যায় কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী মেরিস্টেম কালচার প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় কত গুণ বেশি চারা দেয় এবং বছরে অতিরিক্ত কতটি চারা পাওয়া যায়? নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়নে বাংলাদেশের জন্য টিস্যু কালচার প্রযুক্তির উপযোগিতা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেরিস্টেম হলো উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অংশ, যেখানে অবিশ্লেষায়িত কোষ থাকে এবং উপযুক্ত উদ্দীপনায় এ কোষ থেকে শাখা, পাতা, মূল ইত্যাদি অঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভাইরাস সাধারণত উদ্ভিদের মেরিস্টেম অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে না বা সেখানে কম থাকে। টিস্যু কালচারে ভাইরাসমুক্ত এই মেরিস্টেম অংশ এক্সপ্লান্ট হিসেবে নিয়ে জীবাণুমুক্ত মাধ্যমে কালচার করা হয়। ফলে এ থেকে উৎপন্ন সব চারা রোগমুক্ত হয়। এভাবে ১৯৫২ সালে মার্টিন রোগমুক্ত ডালিয়া ও আলুগাছ উদ্ভাবন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রচলিত পদ্ধতিতে চারা = ৮টি
    মেরিস্টেম কালচারে চারা = ৪০,০০০টি
    গুণিতক = ৪০,০০০ ÷ ৮ = ৫,০০০ গুণ
    অতিরিক্ত চারা = ৪০,০০০ − ৮ = ৩৯,৯৯২টি
    অতএব, মেরিস্টেম কালচারে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ৫,০০০ গুণ বেশি চারা পাওয়া যায় এবং বছরে অতিরিক্ত ৩৯,৯৯২টি চারা উৎপন্ন হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী টিস্যু কালচার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. কম সময়ে অধিক চারা: এই প্রযুক্তিতে স্বল্প সময়ে ও কম জায়গায় একই বৈশিষ্ট্যের অসংখ্য চারা পাওয়া যায়। অর্কিডের ক্ষেত্রে ৮টির বদলে ৪০,০০০ চারা পাওয়া সম্ভব।
    ২. রোগমুক্ত ফসল: রোগমুক্ত আলুর চারা বা মাইক্রোটিউবার উৎপাদনের মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করা যায়, যা বাংলাদেশে সফলভাবে হচ্ছে।
    ৩. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া অর্কিড রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। বাংলাদেশেও অর্কিড চারা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, তাই রপ্তানির সুযোগ আছে।
    ৪. সংরক্ষণ ও ঋতুনিরপেক্ষতা: বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা যায় এবং ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা থাকে না। কলা, বেল, কাঁঠাল, ঔষধি উদ্ভিদের উন্নত চারাও উৎপাদন করা যাচ্ছে।
    সুতরাং টিস্যু কালচার বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও