ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
ঢাকার একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি হাসপাতাল অবস্থিত। সারাদিন বাস ও ট্রাকের হর্ন, মাইকে প্রচার এবং পাশের ভবন নির্মাণের যন্ত্রের শব্দে রোগী ও চিকিৎসকরা অতিষ্ঠ। অনেক রোগীর মাথাব্যথা ও ঘুমের সমস্যা বেড়েছে। হাসপাতালের পরিচালক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
- ক)(1)
ডেসিবেল কী?
- খ)(2)
শব্দ দূষণকে মানবসৃষ্ট দূষণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণের উৎস এবং এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডেসিবেল হলো শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে যে দূষণ সংঘটিত হয় তাকে মানবসৃষ্ট দূষণ বলে। যানবাহনের হর্ন, মাইকের ব্যবহার, কলকারখানা ও নির্মাণকাজের যন্ত্রের উচ্চ শব্দ সবই মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্টি হয়। এসব উচ্চ তীব্রতার শব্দ মানুষের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায়। তাই শব্দ দূষণকে মানবসৃষ্ট দূষণ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণটি হলো শব্দ দূষণ। মানুষের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায় এরূপ উচ্চ তীব্রতার শব্দকে শব্দ দূষণ বলে।
দূষণের উৎস: উদ্দীপকে এর উৎস হিসেবে বাস ও ট্রাকের হর্ন, মাইকে প্রচার এবং ভবন নির্মাণের যন্ত্রের শব্দের কথা বলা হয়েছে। এগুলো সবই মানবসৃষ্ট উৎস।
স্বাস্থ্যগত প্রভাব: অতিরিক্ত শব্দের ফলে মানুষের মাথাব্যথা হয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং দীর্ঘদিন এমন শব্দের মধ্যে থাকলে হৃদরোগ ও স্নায়ুবিক বৈকল্য দেখা দিতে পারে। উদ্দীপকে রোগীদের মাথাব্যথা ও ঘুমের সমস্যা বেড়ে যাওয়া এই প্রভাবেরই প্রমাণ। হাসপাতালের মতো স্থানে এটি রোগীর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হাসপাতালে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
১. হর্ন নিয়ন্ত্রণ: হাসপাতালের আশপাশের সড়কে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা এবং ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে আইন কার্যকর করা উচিত। এতে যানবাহনের শব্দ কমবে।
২. মাইক ব্যবহারে বিধিনিষেধ: নির্ধারিত মাত্রার বেশি তীব্রতায় মাইক ব্যবহার আইন করে বন্ধ করা প্রয়োজন।
৩. নির্মাণকাজের সময় নির্ধারণ: ভবন নির্মাণের ভারী যন্ত্র ব্যবহারের সময় সীমিত করা এবং কম শব্দের যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া উচিত।
৪. প্রাকৃতিক শব্দনিরোধক: হাসপাতালের চারপাশে ঘন গাছের সারি লাগালে শব্দ অনেকাংশে শোষিত হয়।
৫. সচেতনতা বৃদ্ধি: চালক ও সাধারণ মানুষকে শব্দ দূষণের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।এসব পদক্ষেপ একসাথে বাস্তবায়ন করা গেলে হাসপাতালের পরিবেশ শান্ত হবে এবং রোগীদের মাথাব্যথা ও ঘুমের সমস্যা কমে আসবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও