বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

সুন্দরবনের কাছের গ্রাম কালিন্দীতে অনেক মানুষ নদীতে মাছ ধরে এবং বন থেকে মধু সংগ্রহ করে। সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে সেখানে একটি সেতু, একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এতে গ্রামবাসীর কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং গ্রামের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

  1. ক)

    জাতীয় সম্পদের উৎস প্রধানত কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    মানবসৃষ্ট সম্পদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কালিন্দী গ্রামে জাতীয় সম্পদের উৎস অনুযায়ী কী কী সম্পদ রয়েছে? শ্রেণিবিন্যাস করে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই কোনো এলাকার উন্নয়ন হয় না; মানবসৃষ্ট সম্পদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ’—উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাতীয় সম্পদের উৎস প্রধানত দুটি—প্রকৃতি প্রদত্ত ও মানবসৃষ্ট।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো দেশের অধিবাসীরা তাদের শ্রম ও মূলধনের সাহায্যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার, সংগ্রহ ও উত্তোলন করে এবং সেগুলোর রূপান্তর বা স্থানান্তর করে যে নতুন সম্পদ সৃষ্টি করে তাকে মানবসৃষ্ট সম্পদ বলে। যেমন রাস্তাঘাট, কলকারখানা, সেতু, বন্দর, বিদ্যুৎ ইত্যাদি। এছাড়া শিক্ষক, ডাক্তারের মতো দক্ষ পেশাজীবী এবং শ্রমশক্তিও মানবসৃষ্ট সম্পদের উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাতীয় সম্পদের উৎস অনুযায়ী উদ্দীপকের সম্পদগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

    প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ: দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরের ভূমি, বনাঞ্চল, নদ-নদী ও মৎস্যসম্পদ প্রকৃতির দান। উদ্দীপকে সুন্দরবন (বনাঞ্চল ও মধু), নদী ও নদীর মাছ প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ।

    মানবসৃষ্ট সম্পদ: মানুষ শ্রম ও মূলধন খাটিয়ে যে সম্পদ সৃষ্টি করে তা মানবসৃষ্ট সম্পদ। উদ্দীপকের সেতু, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র মানুষের নির্মিত স্থাপনা, তাই এগুলো মানবসৃষ্ট সম্পদ। এছাড়া মাছ ধরা ও মধু সংগ্রহে নিয়োজিত গ্রামবাসীর শ্রমশক্তিও মানবসৃষ্ট সম্পদ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রকৃতি অনেক সম্পদ দান করে, কিন্তু মানুষ শ্রম ও মূলধন দিয়ে সেগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে বলেই উন্নয়ন সম্ভব হয়।

    উদ্দীপকে কালিন্দী গ্রামে নদী, মাছ ও সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেতু, কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরই গ্রামবাসীর কর্মসংস্থান ও আয় বেড়েছে।

    সরকারি অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা কাঁচা মাছকে বাজারজাত করার উপযোগী পণ্যে রূপান্তর করেছে, ফলে মাছের মূল্য ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র শিল্প ও জনজীবনে শক্তির জোগান দিয়েছে। এসব মানবসৃষ্ট সম্পদ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের পরিধি বাড়িয়েছে।

    অতএব, প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি হলেও মানবসৃষ্ট সম্পদ সেই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে আয় ও কল্যাণ বৃদ্ধি করে। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও