সাহিত্য পাঠ • আলো চাই

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ড. তানভীর একজন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে তিনি সমুদ্রের তলদেশের জীবজগৎ নিয়ে গবেষণা করছেন। অনেক অজানা প্রাণীর সন্ধান তিনি পেয়েছেন, তবু তিনি বলেন, “যা জেনেছি তা সামান্য, যা জানি না তার শেষ নেই।” প্রতিদিন নতুন কৌতূহল নিয়ে তিনি আবার সাগরের গভীরে নামেন; কোনো আবিষ্কারেই তিনি থেমে যান না।

  1. ক)

    সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্য-পত্রিকাটির নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “সে-দুর্জেয় নীরব কাহিনি”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    ড. তানভীরের মনোভাবে ‘আলো চাই’ কবিতার কবির কোন বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ড. তানভীরের অনুসন্ধান-স্পৃহা ও ‘আলো চাই’ কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষা এক সূত্রে গাঁথা।”— তুমি কি এ মন্তব্যের সাথে একমত? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্য-পত্রিকাটির নাম ‘সমকাল’।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সে-দুর্জেয় নীরব কাহিনি’ বলতে প্রকৃতির সৃষ্টির গোপন রহস্যকে বোঝানো হয়েছে। কবি চৈত্রের পত্রঝরা শাখায় নতুন সবুজের শিশুর আগমন দেখে ভেবেছেন, এর পেছনে এক ইতিহাস অদৃশ্য অক্ষরে লেখা আছে। এই ইতিহাস সহজে বোঝা যায় না, তাই তা দুর্জেয়। আবার প্রকৃতি তা মুখে বলে না, নীরবে ধারণ করে, তাই তা নীরব কাহিনি। কবি দিনরাত উন্মুখ শ্রবণে এই রহস্য শুনতে চেয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ড. তানভীরের মনোভাবে ‘আলো চাই’ কবিতার কবির চিরঅতৃপ্ত অনুসন্ধিৎসার বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। কবিতায় কবি প্রকৃতির রহস্য ও সৌন্দর্যের কিছু আলো হৃদয়ে পেয়েছেন, কিন্তু স্বীকার করেছেন, ‘বুঝিনি অনেক কিছু তার’। যেটুকু বুঝেছেন তাও শোনানোর মতো নয়। তবু তিনি থেমে যাননি, বরং ‘দেখবার বুঝবার অশেষ বিস্ময়ে’ আরও আলোর জন্য প্রার্থনা করেছেন। উদ্দীপকের ড. তানভীরও চল্লিশ বছর গবেষণার পরে বলেন, যা জেনেছেন তা সামান্য, যা জানেন না তার শেষ নেই। প্রতিটি আবিষ্কারের পরেও তিনি নতুন কৌতূহল নিয়ে আবার সাগরের গভীরে নামেন। এভাবে অর্জনে তৃপ্ত না হয়ে আরও জানার আকাঙ্ক্ষাই দুজনের মধ্যে মিল তৈরি করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি মন্তব্যটির সাথে আংশিক একমত; মূল চেতনায় মিল আছে, তবে আকাঙ্ক্ষার ধরনে পার্থক্যও আছে। মিলের দিকটি হলো অতৃপ্তি। ‘আলো চাই’ কবিতায় কবি প্রকৃতির রহস্যের কিছু আলো পেয়েও তৃপ্ত নন। তিনি স্বীকার করেন, অনেক কিছুই বোঝেননি, তাই বারবার বলেন, ‘আলো চাই- আরও আলো’। উদ্দীপকের ড. তানভীরও চল্লিশ বছরের গবেষণার পরে মনে করেন, যা জেনেছেন তা সামান্য। দুজনেই জানা ও দেখার অশেষ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে চলেন। তবে পার্থক্যও রয়েছে। ড. তানভীরের অনুসন্ধান মূলত জ্ঞানজাগতিক; সাগরের তলদেশের অজানা প্রাণীর তথ্য আবিষ্কারই তাঁর লক্ষ্য। কবির আলো কেবল জ্ঞান নয়, তা ‘অন্তরের, তীব্রতম আলো’। প্রকৃতির রূপ-রস, তার মর্মবাণী হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করা এবং সৃষ্টিতে প্রকাশ করাই তাঁর চাওয়া। তাই অতৃপ্তি ও আরও পাওয়ার আকুতিতে দুজন এক সূত্রে গাঁথা হলেও কবির আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি অন্তর্মুখী ও নান্দনিক। এ কারণে মন্তব্যটি মূলভাবের দিক থেকে যথার্থ, পূর্ণাঙ্গ অর্থে নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও