‍ইতিহাস ২য় পত্র • শিল্পবিপ্লব

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

নীলগিরি দেশের শাসক দীর্ঘদিন কৃষকদের জমির সাথে বেঁধে রেখেছিলেন। ফলে কৃষকদের স্বাধীনভাবে অর্থনৈতিক জীবন গড়ার ক্ষমতা ছিল না। পরে কৃষকদের মুক্তি দেওয়া হলে তাদের অনেকে শহরে এসে কারখানার শ্রমিক হয়। সরকার বিদেশি ঋণ জোগাড় করে শিল্প স্থাপনে মূলধন জোগায়, বিদেশি যন্ত্রবিদদের সহায়তায় বড় বড় কারখানা গড়ে তোলে এবং দেশের এক প্রান্তকে অপর প্রান্তের সাথে যুক্ত করে একটি দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণ করে।

  1. ক)

    রাশিয়ায় ভূমিসদাস মুক্তি আইন কে প্রবর্তন করেন?

    (1)
  2. খ)

    রাশিয়ায় ইউরোপের অন্যান্য দেশের অনেক পরে শিল্পবিপ্লব ঘটেছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নীলগিরি দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার সাথে ব্রিটেনের শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার মূল পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রেলপথ নির্মাণই রাশিয়ার শিল্পায়নের চাবিকাঠি ছিল— উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ মন্তব্যের যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাশিয়ায় ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ভূমিসদাস মুক্তি আইন প্রবর্তন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জার শাসনামলে রাশিয়া ছিল অনগ্রসর কৃষিপ্রধান দেশ। জার সরকারের রক্ষণশীল নীতি, সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও সার্ফ প্রথার কারণে ভূমিসদাসদের স্বাধীন অর্থনৈতিক জীবন গঠনের ক্ষমতা ছিল না। সরকার লোহা-কয়লার মতো ভারী শিল্প উপেক্ষা করেছিল, পরিবহনব্যবস্থা ছিল পশ্চাৎপদ এবং সরকার যুদ্ধ ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়েই ব্যস্ত থাকত। এছাড়া অন্ত:শুল্ক ব্যবস্থা ও মূলধনী সংগঠনের অভাবও শিল্পায়নকে বিলম্বিত করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নীলগিরি দেশের শিল্পায়নের সাথে রাশিয়ার শিল্পায়নের মিল রয়েছে এবং ব্রিটেনের শিল্পায়নের সাথে এর মূল পার্থক্য হলো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। ব্রিটেনে শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার বিদেশি ঋণ জোগাড় করে মূলধন দিয়েছে, বিদেশি যন্ত্রবিদদের সহায়তায় কারখানা গড়েছে এবং রেলপথ নির্মাণ করেছে। রাশিয়ায়ও ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের পর সরকার ঋণদান বা বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে মূলধন সরবরাহ করে, প্রযুক্তিবিদ্যা না থাকায় পশ্চিমা যন্ত্রবিদদের দিয়ে বিশাল কারখানা তৈরি করে এবং শিল্পায়নের চাবিকাঠি হিসেবে রেলপথ নির্মাণ করে। তাই ব্রিটেনের ব্যক্তিগত উদ্যোগের তুলনায় নীলগিরির মতো রাশিয়ায় শিল্পায়ন ছিল সরকারনির্ভর।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাঠ্যবই রেলপথ নির্মাণকে রাশিয়ার শিল্পায়নের চাবিকাঠি বলেছে। রেলপথের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও শুধু রেলপথকেই একমাত্র চালিকাশক্তি বলা যথেষ্ট নয়; তাই আমার মতে মন্তব্যটি মূলত যথার্থ হলেও আংশিক।
    ১. পরিবহন সমস্যার সমাধান: রাশিয়ার মতো বিশাল দেশে মালামাল পরিবহনের সমস্যা ছিল জটিল এবং ইংল্যান্ডের মতো পরিবহনের সুযোগ ছিল না। বিখ্যাত ট্রান্স-সাইবেরিয়া রেলপথ রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গকে প্রশান্ত মহাসাগরের ভ্লাদিভস্টক বন্দরের সাথে যুক্ত করে। উদ্দীপকেও রেলপথ দেশের দুই প্রান্তকে যুক্ত করেছে।
    ২. বাজার সম্প্রসারণ: ইউরোপে পণ্যের বাজার না থাকায় রেলপথযোগে মঙ্গোলিয়া ও মাঞ্চুরিয়ায় পণ্য পাঠিয়ে বিক্রি করা হতো।
    ৩. মূলধন বিনিয়োগ: ফ্রান্সের ব্যাংকগুলোর মূলধন রাশিয়ার রেলপথ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়, যা শিল্পায়নে গতি আনে।
    ৪. অন্যান্য উপাদান: তবে ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ভূমিসদাস মুক্তি আইনে শিল্প শ্রমিক ও বুর্জোয়া শ্রেণির উদ্ভব, কাউন্ট উইটের ভারী শিল্প গঠন ও শিল্প কর, সরকারের ঋণদান এবং পশ্চিমা যন্ত্রবিদদের সহায়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উদ্দীপকেও কৃষকদের মুক্তি ও বিদেশি যন্ত্রবিদের ভূমিকা আছে।
    উপসংহার: রেলপথ শিল্পায়নের বাহন ও প্রধান চালিকাশক্তি হলেও শ্রমিক, মূলধন ও সরকারি নীতির সমন্বয় ছাড়া তা সম্ভব হতো না। তাই মন্তব্যটি আংশিকভাবে যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও