বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

'সোনালিপুর' দেশে সরকারই ঠিক করে দেয় কোন দ্রব্য কী পরিমাণে ও কখন উৎপাদিত হবে। সেখানকার একটি কারখানার শ্রমিক রফিক তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেয়েছেন এবং কাজ অনুযায়ী মজুরি পান। কারখানার মুনাফা সরকারের কোষাগারে জমা হয়। রফিকের প্রতিবেশী বেকার নন, কারণ রাষ্ট্রই সবার কাজের ব্যবস্থা করে। তবে সেখানে কেউ নিজের ইচ্ছামতো নতুন কারখানা স্থাপন করতে পারে না।

  1. ক)

    সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকের মজুরির মূলনীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার স্বাধীনতা সীমিত কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'সোনালিপুর' দেশের অর্থব্যবস্থার কোন কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থায় সম্পদের কাম্য ব্যবহার ও সৃজনশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন"- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকের মজুরির মূলনীতি হলো 'প্রত্যেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সরকার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে কোন দ্রব্য কী পরিমাণে উৎপাদিত হবে এবং কাদের কাছে সরবরাহ করা হবে তা নির্ধারণ করে। উৎপাদক সরকার নির্ধারিত দ্রব্যই উৎপাদন করে। ভোক্তা সেই উৎপাদিত দ্রব্য প্রয়োজনমতো ক্রয় ও ভোগ করে, নিজের ইচ্ছামতো দ্রব্য ভোগের সুযোগ তার কম থাকে। তবে সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় দ্রব্য নির্বাচন ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তার কিছুটা স্বাধীনতা থাকে। এ কারণে ভোক্তার স্বাধীনতা সীমিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'সোনালিপুর' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
    ১. সরকারি নিয়ন্ত্রণ: সোনালিপুরে সরকারই ঠিক করে কোন দ্রব্য কী পরিমাণে ও কখন উৎপাদিত হবে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এসব মৌলিক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার গ্রহণ করে।
    ২. আয় বণ্টন: কারখানার মুনাফা সরকারের কোষাগারে জমা হয়। এ ব্যবস্থায় সরকারই ভূমি ও মূলধনের মালিক বলে মুনাফা, খাজনা ও সুদ রাষ্ট্রের কাছে যায়। শ্রমিক কাজ অনুযায়ী মজুরি পায়।
    ৩. বেকারত্ব না থাকা: উদ্দীপকে রাষ্ট্র সবার কাজের ব্যবস্থা করে, ফলে বেকারত্ব নেই। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র প্রত্যেকের সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে।
    ৪. ব্যক্তিগত উদ্যোগের অভাব: কেউ নিজের ইচ্ছামতো কারখানা স্থাপন করতে পারে না, কারণ এ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ নেই।
    সুতরাং উদ্দীপকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আয় বণ্টন, কর্মসংস্থান ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের অভাব, এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক, যেখানে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত নয়, মালিকানা রাষ্ট্রের। উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ ও ভোগের ক্ষেত্রেও ব্যক্তির স্বাধীনতা নেই।
    এ ব্যবস্থার কিছু ইতিবাচক দিক আছে। সবার জন্য কর্মসংস্থান হয়, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার কারণে সম্পদের অপচয় কম হয় এবং শ্রেণি বৈষম্য কমে। উদ্দীপকে রফিক যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ও কাজ অনুযায়ী মজুরি পাচ্ছেন, কেউ বেকার নন।
    তবে এর নেতিবাচক দিকও গুরুতর। ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ নেই এবং কেউ নতুন কারখানা স্থাপন করতে পারে না। ফলে উদ্যোক্তা ও শ্রমিকের মধ্যে বেশি উৎপাদনের প্রণোদনা ও উদ্যম হ্রাস পায়। ব্যক্তির সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগানো যায় না। ভোক্তাও নিজের পছন্দমতো দ্রব্য ভোগ করতে পারে না।
    অতএব, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা কর্মসংস্থান ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করলেও ব্যক্তির প্রণোদনা ও উদ্যোগের সুযোগ না থাকায় সম্পদের কাম্য ব্যবহার ও সৃজনশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন, বক্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও