সাহিত্য পাঠ • ভুলের মূল্য

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া সাইকেল চালানো শিখতে চায়। কিন্তু তার বাবা পড়ে গিয়ে ব্যথা পাওয়ার ভয়ে তাকে কখনো সাইকেলে বসতে দেননি। তিনি বলেন, “অন্যকে পড়তে দেখেই শিখে নাও, নিজে ঠেকে শিখতে হবে কেন?” একদিন তানিয়ার বান্ধবী রিমা পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেল, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সে নিজের চেষ্টায় সাইকেল চালাতে শিখে গেল। তানিয়া বুঝতে পারল, দেখে শেখা আর নিজে শেখার মধ্যে বিস্তর ফারাক।

  1. ক)

    মানুষের প্রকৃত জ্ঞান কীসের ভিতর দিয়ে আসে?

    (1)
  2. খ)

    “যে কোনো দিন পথ ভোলার কষ্ট ভোগ করে নাই, সে কখনো ঠিক পথে চলার আনন্দ উপভোগ করতে পারে না।”—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তানিয়ার বাবার মনোভাব ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের সাথে বিপরীতধর্মী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রবন্ধের আলোকে ‘ঠেকে শেখা’ ও ‘দেখে শেখা’র মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে তানিয়ার বাবার জন্য কী করণীয় তা সুপারিশ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষের প্রকৃত জ্ঞান ইন্দ্রিয়ের দ্বার দিয়ে, অর্থাৎ অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে আসে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখক এখানে বুঝিয়েছেন, কষ্ট ও ভুলের অভিজ্ঞতা ছাড়া সাফল্যের প্রকৃত আনন্দ বোঝা যায় না। যে মানুষ কখনো পথ হারিয়ে দিশেহারা হয়নি, সে সঠিক পথে চলার মূল্য অনুভব করতে পারে না। একইভাবে যে পানিতে হাবুডুবু খায়নি, সে নিরাপদে নৌকায় চড়ার সুখ বোঝে না। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলে জ্ঞান অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এ কারণেই লেখক জীবনে ভুল করা ও ঠেকে শেখার মূল্য তুলে ধরেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানিয়ার বাবার মনোভাব ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের এই বক্তব্যের বিপরীতধর্মী যে, জীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিলব্ধ জ্ঞানের তুলনা নেই এবং শিশুকে সব বিপদ থেকে আড়াল করে রাখা যায় না।

    প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, শিশুকে আগুনের শিখা, ছুরির ধার, মরিচের ঝাল থেকে বাঁচিয়ে রাখা গেলে সে চিরকাল শিশুই থেকে যেত। তাঁর মতে, স্বল্প পরিসর টবের ভেতরে বাঁচার চেয়ে বাইরের বিস্তৃতিতে আনন্দে বিকশিত হওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। অথচ উদ্দীপকের বাবা পড়ে যাওয়ার ভয়ে মেয়েকে সাইকেলেই বসতে দেননি এবং অভিজ্ঞতার সুযোগ বন্ধ করে রেখেছেন। অন্যদিকে রিমা পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েও চেষ্টা করে শিখেছে। তাই বাবার মনোভাব প্রবন্ধের বক্তব্যের বিপরীত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রবন্ধে লেখক ঠেকে শেখার ওপর জোর দিলেও অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শেখাকেও অস্বীকার করেননি। তাই তানিয়ার বাবার জন্য উভয়ের সমন্বয়ই করণীয়।

    প্রথমত, লেখকের মতে সাধারণের ধারণা, ‘ঠেকে শেখার চেয়ে দেখে শেখাই’ বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান আসে ইন্দ্রিয় বা অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে এবং নিরুদ্বেগ আপদহীনতার ভেতরেই অনেক সময় বিপদের বীজ লুকিয়ে থাকে। সুতরাং তানিয়াকে নিজে সাইকেলে বসার সুযোগ দিতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, লেখক বলেছেন, একজনের পক্ষে সব রকম অভিজ্ঞতা লাভ করা অসম্ভব, তাই অন্যের দুর্দশা দেখেও শিক্ষা নিতে হবে। রিমার পড়ে যাওয়া ও সামলে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে তানিয়া সতর্ক হয়ে শিখতে পারে, যেমন কোথায় ব্যালান্স রাখতে হবে।

    তৃতীয়ত, অন্যের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা নিজের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাচাই করে নিজস্ব করে নেওয়াই সুস্থ জীবনের ধারা।

    অতএব, বাবার উচিত অতিরিক্ত ভয় পরিহার করে তানিয়াকে সাইকেল চালানোর সুযোগ দেওয়া, একই সঙ্গে সতর্কতার জন্য রিমার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার পরামর্শ দেওয়া। এভাবেই প্রবন্ধের নির্দেশিত সমন্বয় ঘটবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও