সাহিত্য পাঠ • মৌসুম
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
নদীভাঙা চরের কৃষকেরা প্রতি বছর মহাজন হাশেম মোড়লের কাছ থেকে চড়া সুদে ধান কর্জ নিত। এবার কৃষক সমিতির সদস্য আজাদ সবাইকে বলে, ‘আর কর্জ নয়, আমরা নিজেরা মিলে শস্যভান্ডার গড়ব।’ মোড়ল লোক পাঠিয়ে সবাইকে ডাকলে কেউ যায়নি। আজাদ সোজা বলে দেয়, ‘আমরা আর কারও দয়ায় বাঁচব না।’ মোড়ল রাগে ফেটে পড়লেও লোকজনের ঐক্য দেখে কিছু বলতে সাহস পায় না।
- ক)(1)
‘মৌসুম’ গল্পটি কোন দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী কালের কাহিনি নিয়ে রচিত?
- খ)(2)
“ওদের সুখ-দুঃখ হাসি-কান্নার সঙ্গে তাদের আসমান-জমিন ফারাক।”—কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ‘মৌসুম’ গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ঘটনা ও ‘মৌসুম’ গল্পের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও পার্থক্যও রয়েছে।”—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মৌসুম’ গল্পটি ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী কালের কাহিনি নিয়ে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মৌসুম’ গল্পে জমিদার ও প্রজা দুটি ভিন্ন শ্রেণির মানুষ, যাদের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী। জমিদাররা প্রজার দুঃখের কারণ হয়েও তাদের কান্নার মর্ম বোঝে না। সখানাথ যখন বৃষ্টির অভাবে ফসল না হওয়ার আশঙ্কার কথা বলে, তখন সেই কান্না জমিদারদের কানে পৌঁছায় না, তারা একে অভদ্রতা মনে করে। জমিদারের সুখ ও আয় প্রজার শ্রমের ওপর নির্ভরশীল হলেও তাদের জীবনযাত্রা, অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। তাই তাদের মধ্যে আসমান-জমিন ফারাক বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ‘মৌসুম’ গল্পের শোষকের প্রতি কৃষকের সচেতন ও সংঘবদ্ধ প্রতিবাদী মনোভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘মৌসুম’ গল্পে কমিউনিস্ট ও স্বদেশিওয়ালাদের প্রভাবে সখানাথ, রমানাথ প্রমুখ কৃষকদের মধ্যে নতুন চেতনা জাগে। আগে যে প্রজারা জমিদারের হুকুমে বিনা বাক্যব্যয়ে সব মেনে নিত, তারা এখন জমিদারের ডাকে সাড়া দেয় না, পাইক-পেয়াদাকে হাঁকিয়ে দেয়, খাজনা দিতে অস্বীকার করে। রমানাথ স্পষ্ট বলে দেয়, ‘আমি যাইতে পারমু না।’ উদ্দীপকেও কৃষকেরা মহাজনের কর্জের ওপর নির্ভর না করে সংঘবদ্ধ হয়ে নিজেদের উদ্যোগে শস্যভান্ডার গড়তে চায়। মোড়লের ডাকে কেউ সাড়া দেয় না এবং আজাদ তাদের পক্ষে সাহসের সঙ্গে কথা বলে। ফলে মোড়লও তাদের ঐক্যের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। শোষক শ্রেণির আধিপত্যকে অস্বীকার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এই চেতনাই উদ্দীপক ও গল্পের মিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকের ঘটনা ও ‘মৌসুম’ গল্পের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও পার্থক্যও রয়েছে”—মন্তব্যটি যথার্থ।
সাদৃশ্যের দিক হলো, উভয় ক্ষেত্রেই শোষক ও শোষিতের দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং কৃষকেরা আর আগের মতো নতজানু নেই। উদ্দীপকের কৃষকেরা মোড়লের ডাক উপেক্ষা করে, গল্পের কৃষকেরাও দ্বারিকানাথের ডাক উপেক্ষা করে। উভয় জায়গায় শোষকগোষ্ঠী কৃষকদের ঐক্যের সামনে সরাসরি আঘাত হানতে সাহস পায় না, যেমন গল্পে নায়েব মামলা-মারামারির বিরুদ্ধে পরামর্শ দেয়।
পার্থক্যও স্পষ্ট। উদ্দীপকের কৃষকেরা নিজেদের উদ্যোগে শস্যভান্ডার গড়ে স্বনির্ভর হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে এবং ঘটনার শেষে শোষক অসহায়। কিন্তু ‘মৌসুম’ গল্পের কৃষকেরা তেমন কোনো স্বনির্ভর ব্যবস্থা গড়তে পারেনি; ঘরে তাদের ধান-চাল নেই, সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তাদের জাগরণের পেছনে কমিউনিস্ট ও স্বদেশিওয়ালাদের মতো বাইরের সংগঠকদের প্রভাব আছে। তাছাড়া গল্পের জমিদার হার মানেননি; তিনি চাল মজুত করে দাম বাড়িয়ে সংকট সৃষ্টি, সংগঠকদের জেলে পাঠানো এবং প্রজাদের জব্দ করার পরিকল্পনা করেন। কৃষকদের আনন্দও আসন্ন ফসলের স্বপ্নের ওপর দাঁড়ানো, আর বাস্তব সংকট তখনও কাটেনি।
সুতরাং কৃষকের জাগরণ ও প্রতিবাদী মনোভাবে সাদৃশ্য থাকলেও পরিস্থিতির জটিলতা, কৃষকদের প্রস্তুতি ও শোষকের পাল্টা কৌশলের দিক থেকে গল্পটি উদ্দীপকের চেয়ে আলাদা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও