ভূগোল ১ম পত্র • বারিমণ্ডল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
ভূগোলের ক্লাসে শিক্ষক রিমিদের একটি মহাসাগরের মানচিত্র দেখালেন। মানচিত্রের পশ্চিম প্রান্তে জাপান, ফিলিপাইন ও কিউরাইল দ্বীপপুঞ্জ বক্রাকারে সারিবদ্ধভাবে অবস্থিত এবং এগুলোর পাশেই অনেকগুলো সংকীর্ণ ও গভীর খাত রয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব প্রান্তে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের কাছে মাত্র একটি উল্লেখযোগ্য খাত আছে।
| খাত | অবস্থান | গভীরতা |
|---|---|---|
| মারিয়ানা | পশ্চিম প্রান্ত | ১০.৮৬ কিমি |
| জাপান | পশ্চিম প্রান্ত | ১০,৫৫৪ মিটার |
| আতাকামা | পূর্ব প্রান্ত | ৭,৬৪০ মিটার |
- ক)(1)
পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোনটি?
- খ)(2)
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে মহীঢালের পরিমাণ বেশি কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বীপপুঞ্জগুলোর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী মহাসাগরটির পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তের খাতের সংখ্যা ও গভীরতার পার্থক্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবীর গভীরতম স্থান হলো মারিয়ানা খাতের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত চ্যালেঞ্জার ডিপ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে মহীসোপান খুবই অপ্রশস্ত। এ মহাসাগরের কোনো কোনো স্থানে সমুদ্রের তীরস্থ অংশ খাড়াভাবে গভীর সমুদ্রে প্রবেশ করেছে। পূর্ব তীর বরাবর রকি ও আন্দিজ পর্বতশ্রেণি এবং অস্ট্রেলিয়ার পূর্বে উচ্চভূমি থাকায় সেখানে মহীসোপান গড়ে ওঠেনি। মহীসোপান কম থাকায় স্বভাবতই মহীঢালের পরিমাণ বেশি হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত জাপান, ফিলিপাইন ও কিউরাইল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তের আগ্নেয় দ্বীপবলয়ের অংশ। এগুলোর উৎপত্তির কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
১. পাত সীমানা বরাবর লাভা নির্গমন: প্রশান্ত মহাসাগরের পাত সীমানা বরাবর ভূঅভ্যন্তরস্থ লাভা নির্গত হয়ে সমুদ্রগর্ভে জমা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে জমতে জমতে ছোট-বড় অসংখ্য দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে।
২. বৃত্তচাপের আকৃতি: এশিয়া পাতের আঘাতে এ দ্বীপমালাগুলো প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে উত্তল বৃত্তচাপের আকৃতিতে সজ্জিত হয়ে আগ্নেয় দ্বীপবলয় গঠন করেছে।
৩. মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্নতা: মহাসাগরীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে মহাদেশের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়েও এ ধরনের দ্বীপের আকার ধারণ করেছে। জাপান ও ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ এ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
সুতরাং আগ্নেয় কার্যক্রম ও পাতের সংঘর্ষের ফলেই উদ্দীপকের দ্বীপপুঞ্জগুলোর উৎপত্তি হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মহাসাগরটি হলো প্রশান্ত মহাসাগর। এর পশ্চিম প্রান্তে বহুসংখ্যক গভীর খাত থাকলেও পূর্ব প্রান্তে কেবল আতাকামা খাত উল্লেখযোগ্য। এ পার্থক্যের কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. খাত সৃষ্টির কারণ: পাত সীমানা বরাবর পাতগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলেই সমুদ্রখাত সৃষ্টি হয়। এ কারণে খাতগুলো আগ্নেয় পর্বত ও আগ্নেয় দ্বীপমালার সমান্তরালে অবস্থিত।
২. পশ্চিম প্রান্তের অবস্থা: পশ্চিমে এশিয়া পাতের সাথে মহাসাগরীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে মারিয়ানা (১০.৮৬ কিমি), জাপান (১০,৫৫৪ মিটার), এমডেন, মিন্দানাও, কিউরাইল, অ্যালুশিয়ান ইত্যাদি অনেক গভীর খাত সারিবদ্ধভাবে সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর গভীরতা ১০ কিলোমিটারের বেশি।
৩. পূর্ব প্রান্তের অবস্থা: পূর্ব দিকে খাতের সংখ্যা কম এবং তাদের গভীরতাও কম। দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে আতাকামা খাতের গভীরতা মাত্র ৭,৬৪০ মিটার, যা মারিয়ানার চেয়ে প্রায় ৩.২ কিলোমিটার কম।
৪. তুলনামূলক সিদ্ধান্ত: উদ্দীপকের সারণি থেকে স্পষ্ট যে পশ্চিম প্রান্তের খাতগুলো সংখ্যায় বেশি ও অধিক গভীর, আর পূর্ব প্রান্তে সংখ্যা ও গভীরতা উভয়ই কম।
অতএব পাত সীমানা বরাবর সংঘর্ষজনিত খাত সৃষ্টির পার্থক্যের কারণেই প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তের খাতের এ ভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও