ভূগোল ২য় পত্র • মানব ভূগোল

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' দেশটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন হলেও শাসনতন্ত্র অনুযায়ী সার্বভৌম নয় এবং এর রাষ্ট্রপ্রধান যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রপ্রধান। অন্যদিকে 'Y' একটি ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্র, যা দুটি শক্তিশালী রাষ্ট্র 'P' ও 'Q'-এর সীমান্তের মাঝখানে অবস্থিত। অতীতে উপনিবেশ নিয়ে 'P' ও 'Q' রাষ্ট্র দুটির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।

  1. ক)

    কনফেডারেশন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    উপনিবেশের ওপর ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সর্বাধিক— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'X' ও 'Y' দেশ দুটি রাজনৈতিক অঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'Y'-জাতীয় রাষ্ট্র সৃষ্টি হলে 'P' ও 'Q'-এর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কয়েকটি স্বাধীন রাজনৈতিক অঞ্চলের এক শিথিল বন্ধনাবদ্ধ রাষ্ট্রকে কনফেডারেশন বা রাষ্ট্রীয় মিত্রসংঘ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপনিবেশ হলো পরাধীন অঞ্চল, যেখানে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে না। এখানকার প্রশাসন, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সবই ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের হাতে থাকে। উপনিবেশ ও নির্ভরশীল এলাকাসমূহের ওপর ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র সরাসরি শাসন চালায়। অন্য ধরনের রাজনৈতিক অঞ্চলগুলোর (যেমন ডোমিনিয়ন) তুলনায় এখানে স্বাধীনতা সবচেয়ে কম। তাই উপনিবেশের ওপর ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের মাত্রা সর্বাধিক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'X' দেশটি অধিরাজ্য বা ডোমিনিয়ন এবং 'Y' দেশটি বাফার রাষ্ট্র। ডোমিনিয়নে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ন্যূনতম। এগুলো প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন, তবে শাসনতন্ত্র অনুযায়ী সার্বভৌম নয় এবং এদের রাষ্ট্রপ্রধান যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রপ্রধান। উদ্দীপকের 'X' দেশের বৈশিষ্ট্য তা-ই, যেমন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে দুটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের সীমান্তে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে বাফার বা মধ্যবর্তী রাষ্ট্র বলে। 'Y' দেশটি 'P' ও 'Q' এই দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রের মাঝখানে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্র, তাই এটি বাফার রাষ্ট্র। উদাহরণ হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যবর্তী লুক্সেমবার্গের কথা বলা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'Y' একটি বাফার রাষ্ট্র। ঔপনিবেশিক যুগে উপনিবেশ স্থাপনকারী শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ রোধ করার উদ্দেশ্যেই বাফার অঞ্চল বা রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হতো। উদ্দীপকে 'P' ও 'Q' উপনিবেশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী রাষ্ট্র হওয়ায় তাদের সীমান্ত সরাসরি মিললে সংঘর্ষের ঝুঁকি বেশি থাকত। তাদের মাঝখানে 'Y' থাকায় দুই শক্তির মধ্যে একটি ভৌগোলিক ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে কোনো পক্ষ অন্য পক্ষের ভূখণ্ডে সরাসরি আক্রমণ করতে পারে না এবং উভয়ই 'Y' রাষ্ট্রের ভূখণ্ড অতিক্রম না করে অপরের মুখোমুখি হতে পারে না। ব্রিটিশ ভারত ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী আফগানিস্তান এবং ফ্রান্স ইন্দোচিন ও ব্রিটিশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যবর্তী থাইল্যান্ড এর বাস্তব উদাহরণ। তবে বাফার রাষ্ট্র দুর্বল হওয়ায় সে নিজে বড় রাষ্ট্রগুলোর চাপের মুখে থাকে। সার্বিকভাবে বলা যায়, 'Y'-জাতীয় রাষ্ট্র শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও