রসায়ন • আমাদের জীবনে রসায়ন (Chemistry in Our Lives)
রসায়ন প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্রী রুমির সাদা স্কুল ড্রেসে বলপেনের কালির দাগ লেগে গেছে। সাবান দিয়ে ঘষেও দাগ উঠল না। তার মা একটি সাদা গুঁড়ো পদার্থ দাগের উপর রেখে সামান্য পানি দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে দাগ মিলিয়ে গেল। পরে মা একই গুঁড়ো বাথরুমের মেঝেতেও ছিটিয়ে দিলেন। গুঁড়ো পদার্থটি 40°C তাপমাত্রায় কঠিন ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস চালনা করে প্রস্তুত করা হয়।
- ক)(1)
ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক নাম কী?
- খ)(2)
ব্লিচিং পাউডারকে বিরঞ্জক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গুঁড়ো পদার্থটি প্রস্তুতির সমীকরণ লেখো এবং এটি দিয়ে রুমির ড্রেসের দাগ ওঠার কৌশল সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সাবান দিয়ে দাগ উঠল না, অথচ একই গুঁড়ো পদার্থ কাপড়ের দাগ তোলা ও মেঝের জীবাণু ধ্বংস দুই কাজই করল। রাসায়নিক বিক্রিয়ার আলোকে এর কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট, যার সংকেত ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্লিচিং পাউডার পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড () তৈরি করে। ভেঙে জায়মান অক্সিজেন [O] উৎপন্ন হয়। এই জায়মান অক্সিজেন কাপড়ের রঙিন পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে তাকে বর্ণহীন পদার্থে পরিণত করে। রঙিন দাগকে বর্ণহীন করার এই ক্ষমতার জন্যই ব্লিচিং পাউডারকে বিরঞ্জক বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গুঁড়ো পদার্থটি ব্লিচিং পাউডার। প্রস্তুতি: ।
দাগ ওঠার কৌশল: দাগের উপর ব্লিচিং পাউডার রেখে পানি দিলে এটি প্রথমে পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড উৎপন্ন করে।
হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড ভেঙে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও জায়মান অক্সিজেন [O] তৈরি করে।
জায়মান অক্সিজেন কালির রঙিন পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে তাকে বর্ণহীন করে ফেলে।
রঙিন পদার্থ + [O] বর্ণহীন পদার্থ। ফলে দাগ মিলিয়ে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাবান তেল-চর্বি জাতীয় ময়লাকে পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বলপেনের কালির রঙিন পদার্থ সাবানের মাধ্যমে এভাবে উঠে আসে না, তাই সাবানে দাগ ওঠেনি।
ব্লিচিং পাউডার ভিন্নভাবে কাজ করে। এটি পানির সাথে বিক্রিয়া করে তৈরি করে এবং ভেঙে জায়মান অক্সিজেন [O] দেয়:
কাপড়ের ক্ষেত্রে এই [O] রঙিন পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে তাকে বর্ণহীন করে (রঙিন পদার্থ + [O] বর্ণহীন পদার্থ)।
মেঝের ক্ষেত্রে একই [O] জীবাণুর সাথে বিক্রিয়া করে জীবাণুকে মেরে ফেলে (জীবাণু + [O] মৃত জীবাণু)।
অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই কার্যকরী উপাদান একই, জায়মান অক্সিজেন, যার জারণ ক্ষমতা আছে। পানির সংস্পর্শে একই বিক্রিয়া ঘটে বলে একটিমাত্র পদার্থ বিরঞ্জন ও জীবাণুনাশ দুই কাজই করতে পারে। সাবানে এই ধরনের জায়মান অক্সিজেন উৎপন্ন হয় না, তাই সে এ কাজ করতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও