বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
রতনপুর গ্রামের মানুষ ধর্ম, পেশা ও আর্থিক অবস্থায় আলাদা হলেও সবাই একই ভাষায় কথা বলে। বাইরের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ করতে থাকে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে গ্রামবাসীকে বঞ্চিত করে। তখন গ্রামবাসী ধর্ম-বর্ণ ভুলে একজোট হয়ে নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলন গড়ে তোলে। এতে তারা নিজেদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় অনুভব করে এবং নিজেদের শিক্ষা ও অর্থনীতি নিজেরাই গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হয়।
- ক)(1)
পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ বাংলাভাষী ছিল?
- খ)(2)
পাকিস্তানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য জাতীয়তাবাদের ধারণা জরুরি হয়ে পড়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
রতনপুর গ্রামবাসীর ঐক্য বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষের কোন বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
‘ভাষাকেন্দ্রিক ঐক্যই পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল’—রতনপুর গ্রামের ঘটনাপ্রবাহ ও পূর্ববাংলার অভিজ্ঞতার আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ বাংলাভাষী ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের, বিশেষ করে পাঞ্জাবি শাসকগোষ্ঠীর হাতে। জনসংখ্যায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও বাঙালিরা প্রশাসন, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বঞ্চিত হচ্ছিল। এই শক্তির বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের জাতীয় সংহতি গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল। সেই ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে জাতীয়তাবাদের ধারণা জরুরি হয়ে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রতনপুর গ্রামবাসীর ঐক্য ভাষাকেন্দ্রিক ঐক্যের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষের মূল ভিত্তি।
পূর্ববাংলার হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বেশির ভাগ মানুষ ছিল বাংলাভাষী। পাকিস্তানি শাসকরা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করলে ভাষা আন্দোলন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে। এতে দেশের অন্য ভাষা ও জাতির মানুষও যোগ দেয়। উদ্দীপকের গ্রামবাসীও ধর্ম-বর্ণ ভুলে ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনে এক হয়েছে।
ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব স্পষ্ট হওয়ায় পূর্ববাংলার মানুষ বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন উপলব্ধি করে। উদ্দীপকে গ্রামবাসীর স্বতন্ত্র পরিচয় অনুভব করা এবং নিজেদের শিক্ষা ও অর্থনীতি গড়ার প্রেরণা পাওয়া এই বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাইরের গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ ও বঞ্চনার মুখে গ্রামবাসী ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং স্বতন্ত্র পরিচয় অনুভব করেছে। পূর্ববাংলার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া ঘটেছিল।
পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতি নিজেদের করায়ত্ত করে বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল। বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ভাষা আন্দোলন শুরু হলে সব ধর্মের বাংলাভাষী মানুষ এক হয়। ১৯৫২ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফলে সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়; ১৯৫৬ সালের সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই আন্দোলন বাঙালিকে নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আত্মপ্রত্যয় দেয় এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। পরবর্তী সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয় ভাষা আন্দোলন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার চেতনা থেকে জনগণ রাজনৈতিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টকে ও ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়ী করে মানুষ সেই ঐক্যেরই প্রমাণ দেয়। এই ধারাবাহিকতায় নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাই বলা যায়, ভাষাকেন্দ্রিক ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করেছিল এবং স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল; উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও