বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের স্বাধীনতা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

সুমি ঢাকার একটি জাদুঘরে ১৯৭১ সালের একটি সরকারের পদ-তালিকা দেখতে পেল। সেখানে লেখা ছিল: রাষ্ট্রপতি – শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী – তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী – A, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী – B। তালিকার নিচে আরও লেখা ছিল, এই সরকার বিভিন্ন দেশে মিশন স্থাপন করেছিল, একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছিল এবং সমগ্র দেশকে ১১টি ভাগে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।

  1. ক)

    মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের A ও B কারা ছিলেন? উক্ত সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় কতটা সহায়ক ছিল? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং নির্দেশনা সুসংহত করার জন্য মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করাও ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৭০-এর নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের একটি বৈধ ও সুসংগঠিত নেতৃত্ব দাঁড়ায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের A হলেন এম. মনসুর আলী, যিনি মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। B হলেন এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান, যিনি স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন।

    স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে উপদেশ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এর সদস্যরা ছিলেন—ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ভাসানী ন্যাপ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (যদিও তাঁকে কলকাতায় গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (মোজাফফর ন্যাপ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড মণি সিংহ, জাতীয় কংগ্রেসের শ্রী মনোরঞ্জন ধর, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারটি হলো মুজিবনগর সরকার। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় এর কার্যক্রম অত্যন্ত সহায়ক ছিল।

    ১. প্রশাসন পরিচালনা: বাঙালি কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সরকার প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য, ত্রাণ ও পুনর্বাসনসহ মোট ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজ চালায়।

    ২. আন্তর্জাতিক সমর্থন: কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম প্রভৃতি শহরে মিশন স্থাপন করে বাংলাদেশের পক্ষে প্রচার ও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বিশেষ দূত হিসেবে বিশ্বনেতৃত্ব ও জনমতের সমর্থন আদায়ে কাজ করেন।

    ৩. সামরিক সংগঠন: সরকার বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করে। সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়। বাঙালি সেনা, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক ও শ্রমিকরা মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়।

    ৪. রণক্ষেত্রে নেতৃত্ব: প্রশিক্ষণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি ছাউনিতে হামলা চালান।

    ৫. বৈধতা: সরকার ১০ই এপ্রিল গঠিত ও ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করায় মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিক ও সুসংগঠিত রূপ পায়।

    উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, প্রশাসন, কূটনীতি ও সামরিক সংগঠন—তিন ক্ষেত্রেই মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় এবং বিজয় অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও