বাংলা ১ম পত্র • ঝরনার গান
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শীতের ছুটিতে নবম শ্রেণির ছাত্রী নন্দিতা সিলেটের জাফলংয়ে বেড়াতে গিয়ে ডায়েরিতে লিখল, “পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা পাথরে পাথরে আছড়ে পড়ে রুপালি ঝিলিক ছড়াচ্ছে। জলের ধারে শেওলার সবুজ গালিচায় পাখিরা ঠোঁট ঘষছে। পাশের ঢালে একদল হরিণ নির্ভয়ে ঘুরছে। চারদিকে যেন এক জীবন্ত ছবি।”
- ক)(1)
‘কুজন’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“শালিক শুক বুলায় মুখ / থল-ঝাঁঝির মখমলে”—চরণ দুটির তাৎপর্য লেখো।
- গ)(3)
‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার চারপাশের প্রকৃতির যে ছবি ফুটে উঠেছে তা উদ্দীপকের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
“প্রকৃতির বর্ণনায় উদ্দীপক ও ‘ঝরনার গান’ কবিতার মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও কবিতাটি কেবল প্রকৃতির বর্ণনামাত্র নয়।”—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘কুজন’ শব্দের অর্থ পাখির ডাক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঝাঁঝি হলো একপ্রকার জলজ গুল্ম বা জমে থাকা শেওলা। ঝরনার ধারের স্থলে জমে থাকা সেই ঝাঁঝি দেখতে মখমলের মতো কোমল ও মসৃণ। শালিক ও টিয়ে পাখি সেখানে আনন্দে ঠোঁট বুলায়। চরণ দুটিতে ঝরনার তীরের কোমল সৌন্দর্য ও পাখিদের সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক ফুটে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার চারপাশের প্রকৃতির এক জীবন্ত ও রঙিন ছবি আছে। বন-ঝাউয়ের ঝোপে কালসার হরিণের দল চরে বেড়ায়। তাদের শিং শিলার গায়ে ঘষা লেগে শিলা ডালচিনির রং ধরে। টিলার গায়ে ডালিম-ফাটার মতো রঙের আভা দেখা যায়। ঝাঁঝির মখমলে শালিক ও টিয়ে পাখি মুখ বুলায়। উপল-ঘায় ঝরনা ঝিলিক দেয়। উদ্দীপকে নন্দিতার ডায়েরিতেও স্বচ্ছ জলধারার পাথরে আছড়ে পড়া, রুপালি ঝিলিক, শেওলার ওপর পাখি ও নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ানো হরিণের কথা এসেছে। এই উপাদানগুলো কবিতার ছবিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নন্দিতা জলধারা, পাথর, শেওলা, পাখি ও হরিণের মাধ্যমে ঝরনার পরিবেশের বাহ্যিক ছবি এঁকেছে। কবিতাতেও এসব উপাদান আছে। তবে কবিতাটি তার চেয়েও বেশি কিছু। ১. সাদৃশ্য: কবিতায় কালসার হরিণ, শালিক-শুক, ঝাঁঝি, শিলা ও উপলের উল্লেখ আছে। নন্দিতার বর্ণনাতেও পাখি, হরিণ, শেওলা ও পাথর রয়েছে। ২. ঝরনার নিজস্ব সত্তা: কবিতায় ঝরনা নিজেই বক্তা। সে নিজের চপলতা, পুলক, নির্ভীকতা ও গানের কথা বলে। উদ্দীপকে ঝরনা কেবল পর্যবেক্ষকের দেখা একটি দৃশ্য। ৩. সৌন্দর্য-পিপাসার ভাব: কবিতায় ঝরনা সুন্দরের তৃষ্ণা মেটাতে বিরামহীন ছোটে এবং মুগ্ধ চোখ চায়। উদ্দীপকে এই ভাব নেই। ৪. ধ্বনিমাধুর্য: কবিতার ছন্দ ও শব্দের ধ্বনিই আনন্দের চঞ্চলতা তৈরি করে, যা গদ্যে লেখা ডায়েরিতে অনুপস্থিত। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ; কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনা ঝরনার প্রাণচাঞ্চল্য ও সৌন্দর্যচেতনার মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও