সাহিত্য পাঠ • ভুলের মূল্য

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

কঠোর শৃঙ্খলার জন্য বিখ্যাত প্রধান শিক্ষক হাফিজ সাহেব সামান্য ভুলেও ছাত্রদের কঠিন শাস্তি দিতেন। তাঁর মতে, ভুল মানেই অপরাধ। কিছুদিন আগে তাঁর একমাত্র ছেলে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বড় ভুল করে বসলে হাফিজ সাহেব নিজের বিচার-ব্যবস্থার মাপকাঠিতে তাকে বিচার করতে গিয়ে ভেঙে পড়েন। সেই রাতে তিনি অনুশোচনায় দগ্ধ হলেন এবং পরদিন থেকে ছাত্রদের ভুল ক্ষমার চোখে দেখতে শুরু করলেন।

  1. ক)

    ‘নীতিবাগীশ’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “ভুল করে যে দুঃখ পায়, তাহার ভুল করা সার্থক।”—কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    হাফিজ সাহেবের আচরণের পরিবর্তনের সাথে ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের সংযোগ রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।”—মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নীতিবাগীশ’ শব্দের অর্থ নীতিনিষ্ঠা সম্পর্কে দাম্ভিক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দুঃখ মানুষের মনে যত প্রবলভাবে আঘাত করে, সুখ তত করে না। ভুল করে যে দুঃখ পায়, তার সমস্ত অনুভূতি সজাগ ও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। সে অনুশোচনায় দগ্ধ হয় এবং আত্ম-বিচারের সুযোগ পায়। এই দুঃখ ও অনুশোচনার আগুনে পুড়ে সে বিশুদ্ধ হয় এবং মনুষ্যত্ব-সাধনের দিকে এগিয়ে যায়। এজন্যই লেখকের মতে, ভুল করে যে দুঃখ পায় তার ভুল করা সার্থক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাফিজ সাহেবের আচরণের পরিবর্তনের সাথে ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের এই বক্তব্যের সংযোগ রয়েছে যে, নিজের বা প্রিয়জনের জীবন যাচাই করার সময় এলেই মানুষ বুঝতে পারে ভুল করা কত স্বাভাবিক, ফলে সে সহানুভূতিশীল ও প্রেমময় হয়।

    প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, গোঁড়া নীতিবাগীশের দল অন্যের প্রতি কঠোর বিচার প্রয়োগ করেন। কিন্তু যখন নিজের বা প্রিয়জনের জীবন যাচাই করার সময় আসে, তখন তাঁদের দৃষ্টি বদলে যায়, করুণায় প্রাণ-মন ভরে ওঠে এবং কল্পনার মোহ ভেঙে যায়।

    উদ্দীপকে হাফিজ সাহেব আগে ভুলকে অপরাধ মনে করে কঠোর শাস্তি দিতেন। কিন্তু নিজের ছেলের ভুলের মুখোমুখি হয়ে তিনি অনুশোচনায় দগ্ধ হন এবং ছাত্রদের ক্ষমার চোখে দেখেন। এ পরিবর্তন প্রবন্ধের উল্লিখিত বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে হাফিজ সাহেবের ভুল থেকে সহানুভূতি ও ক্ষমার শিক্ষা লাভের দিকটি এসেছে, যা প্রবন্ধের একটি অংশমাত্র। প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাব আরও ব্যাপক, তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নিজের ছেলের ভুলে হাফিজ সাহেব দুঃখ ও অনুশোচনায় বদলে যান এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হন। প্রবন্ধেও লেখক বলেছেন, নিজের ভুলে যার অহংকার চূর্ণ হয়, সে প্রেমময় হতে শেখে এবং সকল মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তা অনুভব করে। এছাড়া ভুল মানুষকে দুঃখ ও অনুশোচনার আগুনে পুড়িয়ে বিশুদ্ধ করে।

    কিন্তু ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত। এখানে ভুলকে মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক ও অপরিহার্য বলা হয়েছে, কারণ মানুষ দুর্বল ও তার জ্ঞান সংকীর্ণ। বলা হয়েছে, ভুলের মধ্য দিয়েই মানুষ সত্যের সন্ধান পায় এবং নানা ঘটনার ভেতর দিয়ে পরখ করেই সত্যের সমগ্র রূপ ধরা পড়ে। এছাড়া ভুল আছে বলেই দয়া, ক্ষমা, ভালোবাসা প্রভৃতি কোমল গুণের বিকাশ ঘটে এবং ভুল না থাকলে মানুষের প্রচেষ্টা ও অগ্রগতি রুদ্ধ হয়ে যেত। মানবসভ্যতার ইতিহাসে ভুলের কার্যকারিতা সত্যোদ্ঘাটনের প্রচেষ্টার চেয়েও কল্যাণপ্রসূ বলে লেখক মত দিয়েছেন। উদ্দীপকে জ্ঞান, সত্য ও সভ্যতার অগ্রগতির সাথে ভুলের সম্পর্কের দিকগুলো অনুপস্থিত।

    সুতরাং উদ্দীপকে প্রবন্ধের আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে, সামগ্রিক নয়। মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও