সাহিত্য পাঠ • নেকলেস
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তুলি বান্ধবী সাবিনার বিয়েতে পরার জন্য তার কাছ থেকে একটি দামি সোনার চেইন ধার নিয়েছিল। অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে চেইনটি হারিয়ে যায়। সাবিনাকে কিছু না জানিয়ে তুলি ও তার মা ঋণ করে হুবহু একই রকম চেইন কিনে ফেরত দেন। এই ঋণ শোধ করতে তুলির মা বছরের পর বছর অতিরিক্ত কাজ করেছেন। পরে জানা যায়, সাবিনা চেইনটির দাম নিয়ে কখনোই চিন্তা করত না এবং সত্যিটা জানালে সে তুলিকে ক্ষমাই করে দিত।
- ক)(1)
ম্যাডাম লোইসেল কার কাছ থেকে হীরার হার ধার করেছিলেন?
- খ)(2)
“এবার ম্যাডাম লোইসেল দরিদ্র জীবনের ভয়াবহতা বুঝতে পারে।”—কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তুলির কাজের সঙ্গে ‘নেকলেস’ গল্পের ম্যাডাম লোইসেলের কোন কাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সত্য গোপন না করলে ম্যাডাম লোইসেলকে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”—উদ্দীপক ও ‘নেকলেস’ গল্পের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ম্যাডাম লোইসেল তাঁর কনভেন্টের সহপাঠিনী ধনী বান্ধবী ম্যাডাম ফোরসাটিয়ারের কাছ থেকে হীরার হার ধার করেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হারানো হারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছত্রিশ হাজার ফ্রঁ দিয়ে নতুন হার কিনতে গিয়ে লোইসেল দম্পতি বিপুল ঋণে জড়িয়ে পড়ে। সেই ঋণ শোধ করার জন্য তারা দাসীকে বিদায় দেয়, নিচু ছাদের ছোট কামরায় ওঠে এবং ম্যাডাম লোইসেল নিজ হাতে সব কঠিন গৃহকর্ম করতে শুরু করে। স্বামী রাতে অতিরিক্ত কাজ করে। দশ বছর ধরে এই কঠোর পরিশ্রমে তারা অভাব ও কষ্টের বাস্তব রূপ হাড়ে হাড়ে অনুভব করে। তাই সে দরিদ্র জীবনের ভয়াবহতা বুঝতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তুলির কাজের সঙ্গে ‘নেকলেস’ গল্পের ম্যাডাম লোইসেলের হারানো গহনার কথা বান্ধবীকে না জানিয়ে ঋণ করে অনুরূপ গহনা কিনে ফেরত দেওয়ার কাজের মিল রয়েছে।
গল্পে ম্যাডাম লোইসেল বান্ধবী ম্যাডাম ফোরসাটিয়ারের কাছ থেকে হীরার হার ধার করে ‘বল’ নাচে যায়। ফেরার পথে হারটি হারিয়ে গেলে সে সত্য প্রকাশ না করে স্বামীর পরামর্শে বান্ধবীকে লিখে জানায় যে হারের আটা ভেঙে গেছে বলে মেরামত করতে দিয়েছে। পরে প্যালেস রয়েলে হুবহু একটি হার ছত্রিশ হাজার ফ্রঁ-তে কিনে ঋণ করে ফেরত দেয়।
উদ্দীপকে তুলিও সাবিনার কাছ থেকে ধার করা চেইন হারিয়ে ফেলে এবং কিছু না জানিয়ে ঋণ করে একই রকম চেইন কিনে ফেরত দেয়। সত্য গোপন করে ঋণের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের এই কাজেই উদ্দীপক ও গল্পের মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ‘নেকলেস’ গল্পের পাঠ-পরিচিতিতেও বলা হয়েছে, সত্যকে গোপন না করে খোলাখুলি প্রকাশ করলে অনেক দুর্ভোগ থেকে উত্তরণ সম্ভব।
গল্পে ম্যাডাম লোইসেল হার হারানোর পর বান্ধবীকে সত্য জানায়নি। সে মিথ্যা কথা লিখে সময় নিয়েছে এবং অনুরূপ হার কিনে ফেরত দিয়েছে। ফলে ছত্রিশ হাজার ফ্রঁ-র হার কিনতে নেওয়া বিপুল ঋণ শোধ করতে তাদের দাসী বিদায় দিতে হয়েছে, নিচু ছাদের ঘরে উঠতে হয়েছে এবং দশ বছর ধরে অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে। ম্যাডাম লোইসেল অকালে বয়স্কা, রুক্ষ ও কর্কশ হয়ে গেছে। অথচ দশ বছর পর দেখা যায়, হারটি ছিল নকল এবং তার দাম মাত্র পাঁচশত ফ্রঁ।
উদ্দীপকেও তুলি সত্য গোপন করে ঋণ করেছে। তার মা বছরের পর বছর অতিরিক্ত কাজ করেছেন। অথচ সাবিনা দামের কথা ভাবত না এবং সত্য জানালে ক্ষমাই করে দিত। এর অর্থ, সত্য বললে ঋণ ও দুর্ভোগ এড়ানো যেত।
উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সত্য প্রকাশের সৎসাহস থাকলে একটি সামান্য ঘটনা জীবনব্যাপী দুর্ভোগে পরিণত হতো না। তাই উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও