বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নিচের ছকে বাংলাদেশে কর্মরত জাতিসংঘের চারটি অঙ্গ সংস্থার কাজ দেওয়া হলো:
| সংস্থা | কাজের ক্ষেত্র |
|---|---|
| ক | সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা |
| খ | মিয়ানমারের রাখাইন থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় ও প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ |
| গ | দারিদ্র্য ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন |
| ঘ | স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা; ২০১৪ সালে বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা |
- ক)(1)
ইউনিসেফের পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক', 'খ' ও 'ঘ' সংস্থা তিনটি চিহ্নিত করে বাংলাদেশে এদের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনটির কার্যক্রম বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইউনিসেফের পূর্ণরূপ United Nations Children's Fund বা জাতিসংঘ শিশু তহবিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হয়। এরপর ১৯৭৯-৮০ মেয়াদে বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী অঙ্গ। এটি জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভূমিকার স্বীকৃতি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থার প্রমাণ। তাই এ ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সংস্থাগুলো হলো:
'ক' = ইউনিসেফ (UNICEF): এটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক অধিকার আদায়ে কাজ করে, বিশেষ করে শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে।
'খ' = ইউএনএইচসিআর (UNHCR): এটি উদ্বাস্তুবিষয়ক জাতিসংঘ হাইকমিশনারের কার্যালয়। এটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার ইস্যুতে মধ্যস্থতা করছে এবং রাখাইন থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় ও নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছে। বিহারী জনগোষ্ঠীর আবাসনসহ অন্যান্য ইস্যুতেও এর অবদান আছে।
'ঘ' = ডব্লিউএইচও (WHO): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি পালন করছে। ২০১৪ সালে এ সংস্থা বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের চারটি সংস্থাই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার মতে 'গ' সংস্থা, অর্থাৎ ইউএনডিপির (UNDP) কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
যুক্তি:
১. বহুমুখী প্রভাব: ইউএনডিপি দারিদ্র্য হ্রাস, শিশুমৃত্যু কমানো, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে, যা একসাথে অনেক খাতকে স্পর্শ করে।
২. এসডিজি অর্জন: সংস্থাটি টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কাঠামোর সাথে যুক্ত।
৩. অন্য সংস্থার পরিপূরক: দারিদ্র্য কমলে শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসা (ক) এবং স্বাস্থ্যসেবার (ঘ) চাহিদা পূরণ সহজ হয়।তুলনামূলক বিশ্লেষণ: 'ক' ও 'ঘ' নির্দিষ্ট খাতে কাজ করে এবং 'খ' একটি বিশেষ সংকটে কাজ করে। কিন্তু দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর কাজ দেশের মূল ভিত্তি গড়ে তোলে।
তবে বাস্তবে সব সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও