জীববিজ্ঞান • জীবনীশক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

একটি গ্রিনহাউসে একই জাতের টমেটো গাছ বিভিন্ন তাপমাত্রায় রেখে, অন্য সব অবস্থা অভিন্ন রেখে, সালোকসংশ্লেষণের হার মাপা হলো। ফলাফল নিচের ছকে দেওয়া হলো।

তাপমাত্রা (°C)সালোকসংশ্লেষণের হার (একক)
81.5
2810.0
386.5
480.8

গ্রিনহাউসের মালিক রাহাত চান উৎপাদন আরও বাড়াতে।

  1. ক)

    সালোকসংশ্লেষণের জন্য পরিমিত তাপমাত্রা কত?

    (1)
  2. খ)

    পানির ঘাটতি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছকে 28°C তাপমাত্রার তুলনায় 48°C তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণের হার অতি কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রাহাত গ্রিনহাউসে তাপমাত্রা অপরিবর্তিত রেখেও কীভাবে টমেটোর সালোকসংশ্লেষণ বাড়াতে পারেন— পাঠ্যবইয়ের প্রভাবকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সালোকসংশ্লেষণের জন্য পরিমিত তাপমাত্রা 22° সেলসিয়াস থেকে 35° সেলসিয়াস পর্যন্ত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সালোকসংশ্লেষণে CO₂ বিজারণের জন্য প্রয়োজনীয় H⁺ পানি থেকে আসে। পানির ঘাটতি হলে পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষ স্ফীতি হারায় এবং রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাতাস থেকে CO₂ প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত ঘাটতিতে এনজাইমের সক্রিয়তাও নষ্ট হয়। এসব কারণে হার কমে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 28°C তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণের পরিমিত তাপমাত্রার (22°C-35°C) মধ্যে পড়ে। এ তাপমাত্রায় এনজাইম সবচেয়ে সক্রিয় থাকে, তাই হার সর্বোচ্চ (10.0 একক)।
    কিন্তু 48°C তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণের জন্য অতি উচ্চ, কারণ 45°C-এর উপরে এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। এ তাপমাত্রায় পাতার ভেতরের এনজাইম নষ্ট বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং ক্লোরোফিল উৎপাদনও ব্যাহত হয়। এছাড়া অধিক তাপে পানির ঘাটতি দেখা দেয় ও পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে CO₂ প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে 48°C তাপমাত্রায় হার মাত্র 0.8 এককে নেমে এসেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপক অনুযায়ী 28°C পরিমিত তাপমাত্রায় হার সর্বোচ্চ। তাই তাপমাত্রা ঠিক রেখে অন্য প্রভাবকগুলো নিয়ন্ত্রণ করে রাহাত সালোকসংশ্লেষণ বাড়াতে পারেন।
    ১. CO₂: বায়ুতে CO₂ আছে মাত্র 0.03 ভাগ, কিন্তু উদ্ভিদ শতকরা এক ভাগ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে। তাই গ্রিনহাউসে CO₂ কিছুটা বাড়ালে হার বাড়বে। তবে অতিরিক্ত হলে মেসোফিল কোষের অম্লত্ব বেড়ে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয় ও হার কমে, তাই মাত্রা সীমিত রাখতে হবে।
    ২. আলো: নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলো বাড়ালে হার বাড়ে। লাল ও নীল আলো সবচেয়ে কার্যকর। অতিরিক্ত আলোতে এনজাইম নষ্ট হয়, তাই পরিমিত আলো দিতে হবে।
    ৩. পানি: নিয়মিত সেচ দিয়ে পাতার রক্ষীকোষ স্ফীত রাখলে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকে ও CO₂ ঢুকতে পারে।
    ৪. খনিজ: ক্লোরোফিলের জন্য নাইট্রোজেন ও ম্যাগনেসিয়াম এবং লোহা ও পটাশিয়াম সার প্রয়োগ করলে ক্লোরোফিল ও এনজাইম ঠিক থাকে।
    ৫. বিষাক্ত গ্যাস: ক্লোরোফর্ম, হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো গ্যাস গ্রিনহাউসে থাকতে দেওয়া যাবে না।
    অতএব, এসব প্রভাবক পরিমিত মাত্রায় রাখলে তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও সালোকসংশ্লেষণ ও ফলন বাড়বে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও