তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন

একটি কলেজের কম্পিউটার ল্যাবে ২০টি কম্পিউটার একটি নেটওয়ার্ক ডিভাইসের পোর্টে যুক্ত আছে। কোনো একটি কম্পিউটার থেকে ডেটা পাঠালে তা ডিভাইসটির মাধ্যমে সংযুক্ত সবগুলো কম্পিউটারের কাছে পৌঁছে যায়, তবে শুধু গন্তব্য কম্পিউটারটিই ডেটা গ্রহণ করে। একসাথে অনেকে ডেটা পাঠালে ল্যাবে প্রায়ই ডেটা সংঘর্ষ ঘটে এবং নেটওয়ার্ক ধীর হয়ে যায়। নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী ডিভাইসটি পরিবর্তন করে এমন একটি ডিভাইস বসানোর পরামর্শ দিলেন যা প্রতিটি কম্পিউটারের MAC অ্যাড্রেস চিনে শুধু নির্দিষ্ট পোর্টে সংকেত পাঠায়।

  1. ক)

    MAC অ্যাড্রেস কী?

    (1)
  2. খ)

    হাবকে বুদ্ধিমত্তাহীন ডিভাইস বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ল্যাবে বর্তমানে কোন ডিভাইসটি ব্যবহৃত হচ্ছে? এর কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রকৌশলীর প্রস্তাবিত ডিভাইসটি উদ্দীপকের সমস্যা কীভাবে সমাধান করবে এবং এর কোনো সীমাবদ্ধতা আছে কি? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার বা ডিভাইসের নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডের যে অনন্য ভৌত ঠিকানা থাকে, তাকে MAC (Media Access Control) অ্যাড্রেস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাবের ভেতরে ডেটা বিশ্লেষণ বা গন্তব্য শনাক্ত করার কোনো ক্ষমতা নেই। এটি শুধু সংযুক্ত ডিভাইসগুলোর নেটওয়ার্কিং পোর্টের মধ্যে এক ধরনের পরিবাহিক যোগাযোগ তৈরি করে। হাবে প্রেরিত সংকেত কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসে ব্রডকাস্ট হয়ে যায়। সংকেতটি কার জন্য এবং কোন পোর্টে পাঠানো উচিত তা হাব নির্ধারণ করতে পারে না। এ কারণেই হাবকে বুদ্ধিমত্তাহীন ডিভাইস বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী ল্যাবে বর্তমানে হাব (HUB) ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ এখানে একটি কম্পিউটার ডেটা পাঠালে তা সংযুক্ত সবগুলো কম্পিউটারের কাছে যায় এবং শুধু গন্তব্য কম্পিউটারটি তা গ্রহণ করে, যা হাবের বৈশিষ্ট্য।

    হাবের কার্যপদ্ধতি:
    ১. হাবের পোর্টগুলোতে কম্পিউটারের নেটওয়ার্কিং পোর্টগুলো যুক্ত করলে একটি LAN তৈরি হয়।
    ২. কোনো কম্পিউটার সংকেত পাঠালে হাব সেটিকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসে ব্রডকাস্ট করে।
    ৩. যে ডিভাইসের জন্য সংকেতটি পাঠানো হয়েছে শুধু সেই ডিভাইসটিই তা গ্রহণ করে, বাকিরা গ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
    ৪. সব সংকেত সবার কাছে যাওয়ায় একসাথে অনেকে ডেটা পাঠালে ডেটা কলিশন বা সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে এবং নেটওয়ার্কে ট্রাফিক জ্যাম বেড়ে যায়, যা উদ্দীপকের ল্যাবে ঘটছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রকৌশলীর প্রস্তাবিত ডিভাইসটি হলো সুইচ (Switch), কারণ সুইচ প্রতিটি কম্পিউটারের MAC অ্যাড্রেস ব্যবহার করে শুধু নির্দিষ্ট পোর্টে সংকেত পাঠায়।

    সমস্যা সমাধান:
    ১. সুইচের বুদ্ধিমত্তা আছে। সংকেত ব্রডকাস্ট না করে এটি MAC অ্যাড্রেস দেখে শুধু গন্তব্য কম্পিউটারের পোর্টে পাঠায়। ফলে অন্য কম্পিউটারগুলো অকারণে সংকেত পায় না এবং ডেটা সংঘর্ষের আশঙ্কা কমে যায়।
    ২. অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক কমায় ল্যাবের নেটওয়ার্কের গতি বাড়বে।
    ৩. সুইচ দুর্বল হয়ে পড়া সংকেতকে অ্যাম্পলিফাই করে গন্তব্যে পাঠায় এবং ডেটা ফিল্টারিং করে প্রকৃত সিগন্যাল থেকে নয়েজ বাদ দিতে পারে, ফলে ডেটা আদান-প্রদান নির্ভরযোগ্য হবে।
    ৪. সুইচে ৮, ১৬, ২৪ থেকে ৪৮টি পর্যন্ত পোর্ট থাকে, তাই ২০টি কম্পিউটার সহজেই যুক্ত করা যাবে।

    সীমাবদ্ধতা: সুইচ ব্যবহার একটু জটিল এবং একটি সুইচ দিয়ে একটি LAN তৈরি করা যায়, একাধিক LAN তৈরি সম্ভব নয়। ল্যাবটিকে অন্য নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করতে চাইলে রাউটার লাগবে।

    সুতরাং সীমাবদ্ধতা থাকলেও একটি ল্যাবের জন্য হাবের পরিবর্তে সুইচ বসানোর প্রকৌশলীর পরামর্শ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও