হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্র • ব্যয় ও ব্যয়ের শ্রেণিবিন্যাস
হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
তাসনিম ফুড প্রোডাক্টস লি. জুন মাসে ৫,০০০ একক পণ্য উৎপাদন করে এবং ৪,০০০ একক পণ্য একক প্রতি ৫৫ টাকা দরে বিক্রয় করে। মাসের শুরুতে কোনো মজুদ পণ্য ছিল না। ওই মাসের ব্যয়সমূহ নিম্নরূপ: ব্যবহৃত কাঁচামাল ১,২০,০০০ টাকা, প্রত্যক্ষ মজুরি ৫০,০০০ টাকা, কারখানা ভাড়া ১৮,০০০ টাকা, কারখানার যন্ত্রপাতির অবচয় ৬,০০০ টাকা, পরোক্ষ মজুরি ৯,০০০ টাকা, অফিস কর্মচারীর বেতন ২২,০০০ টাকা, বিজ্ঞাপন খরচ ১৫,০০০ টাকা, বিক্রয় কমিশন ৮,০০০ টাকা এবং বিতরণ গাড়ির অবচয় ৪,০০০ টাকা। প্রতিষ্ঠানের মালিক মনে করেন, মাসের সব ব্যয়ই বিক্রয় থেকে বাদ দিয়ে মুনাফা নির্ণয় করা উচিত।
- ক)(1)
পণ্য ব্যয় কী?
- খ)(2)
কালীন ব্যয় মজুদ পণ্যের ব্যয়ের অংশ হয় না কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্য থেকে মুখ্য ব্যয় ও পণ্য ব্যয় নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
মালিকের মতানুযায়ী এবং পণ্য ব্যয় ও কালীন ব্যয় পৃথকীকরণের নীতি অনুযায়ী জুন মাসের ফলাফল নির্ণয় করে কোনটি অধিক যুক্তিযুক্ত তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পণ্য উৎপাদন বা ক্রয়ের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যয়কে পণ্য ব্যয় বলে। প্রত্যক্ষ কাঁচামাল, প্রত্যক্ষ মজুরি ও কারখানা উপরিব্যয়ের সমষ্টিই পণ্য ব্যয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কালীন ব্যয় পণ্য উৎপাদনের সাথে নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পর্কিত। অফিস বেতন, বিজ্ঞাপন, বিক্রয় কমিশন ইত্যাদি উৎপাদন হোক বা না হোক সময়ের গতির সাথে সংঘটিত হয়। এসব ব্যয় পণ্যের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় না, তাই এগুলো পণ্যের মূল্যের অংশ নয়। এ কারণে এগুলোকে যে সময়ে সংঘটিত হয় সেই সময়ের আয় থেকেই বাদ দেওয়া হয় এবং সমাপনী মজুদ পণ্যের মূল্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুখ্য ব্যয় নির্ণয়:
ব্যবহৃত কাঁচামাল (প্রত্যক্ষ) ১,২০,০০০ টাকা
যোগ: প্রত্যক্ষ মজুরি ৫০,০০০ টাকা
মুখ্য ব্যয় = ১,৭০,০০০ টাকাকারখানা উপরিব্যয়:
কারখানা ভাড়া ১৮,০০০ টাকা
যন্ত্রপাতির অবচয় ৬,০০০ টাকা
পরোক্ষ মজুরি ৯,০০০ টাকা
মোট কারখানা উপরিব্যয় = ৩৩,০০০ টাকাপণ্য ব্যয় = মুখ্য ব্যয় + কারখানা উপরিব্যয় = ১,৭০,০০০ + ৩৩,০০০ = ২,০৩,০০০ টাকা।
সুতরাং মুখ্য ব্যয় ১,৭০,০০০ টাকা এবং পণ্য ব্যয় ২,০৩,০০০ টাকা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১. কালীন ব্যয় = অফিস বেতন ২২,০০০ + বিজ্ঞাপন ১৫,০০০ + বিক্রয় কমিশন ৮,০০০ + বিতরণ গাড়ির অবচয় ৪,০০০ = ৪৯,০০০ টাকা।
মোট ব্যয় = ২,০৩,০০০ + ৪৯,০০০ = ২,৫২,০০০ টাকা।
বিক্রয় = ৪,০০০ × ৫৫ = ২,২০,০০০ টাকা।২. মালিকের মতে (সব ব্যয় বাদ): ২,২০,০০০ − ২,৫২,০০০ = ৩২,০০০ টাকা ক্ষতি।
৩. পৃথকীকরণ নীতি অনুযায়ী:
একক প্রতি পণ্য ব্যয় = ২,০৩,০০০ ÷ ৫,০০০ = ৪০.৬০ টাকা।
বিক্রীত পণ্যের ব্যয় = ৪,০০০ × ৪০.৬০ = ১,৬২,৪০০ টাকা।
সমাপনী মজুদ (১,০০০ একক) = ১,০০০ × ৪০.৬০ = ৪০,৬০০ টাকা (সম্পদ হিসেবে পরবর্তী মাসে যাবে)।
বিক্রয় ২,২০,০০০ − বিক্রীত পণ্যের ব্যয় ১,৬২,৪০০ = মোট মুনাফা ৫৭,৬০০ টাকা।
বাদ: কালীন ব্যয় ৪৯,০০০ টাকা।
নিট মুনাফা = ৮,৬০০ টাকা।৪. বিশ্লেষণ: মালিকের পদ্ধতিতে ৩২,০০০ টাকা ক্ষতি দেখা যায়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ৮,৬০০ টাকা মুনাফা হয়েছে। পার্থক্য ৪০,৬০০ টাকা, যা অবিক্রীত ১,০০০ এককের পণ্য ব্যয়। এই অংশ এখনো আয় অর্জনে ব্যবহৃত হয়নি, তাই তা মজুদ পণ্য হিসেবে সম্পদরূপে স্থিতিপত্রে দেখানো এবং আগামী সময়ের বিক্রয়ের বিপরীতে বাদ দেওয়াই সঠিক। এতে আয়ের সাথে ব্যয়ের সঠিক মিলকরণ হয়। সুতরাং পণ্য ব্যয় ও কালীন ব্যয় পৃথক করে নির্ণীত ফলাফলই যুক্তিযুক্ত; মালিকের পদ্ধতি ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও