বাংলা ১ম পত্র • হামদ

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জনাব আজহার সাহেব প্রতিবছর শীতে গরিবদের কম্বল বিলি করেন। তিনি বলেন, “আমি যা কিছু পেয়েছি, সবই আল্লাহর দান। অন্ন, বস্ত্র, সুস্থ শরীর—সবই তাঁর দেওয়া। তাই এর একটা অংশ অন্যের প্রাপ্য।” একদিন তাঁর ছেলে বলল, “আব্বু, আমরা তো পরিশ্রম করে এসব পেয়েছি, তাহলে দান করব কেন?”

  1. ক)

    ‘হামদ’ শব্দের বিশেষ অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘কাকে কৈল ভিক্ষুক কাকে কৈল ধনী’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    আজহার সাহেব যেসব জিনিসকে আল্লাহর দান বলেছেন, ‘হামদ’ কবিতাংশের আলোকে মানুষের জন্য স্রষ্টার দেওয়া এ ধরনের আরও উপকরণ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আজহার সাহেব ও তাঁর ছেলের মনোভাবের মধ্যে কোনটি ‘হামদ’ কবিতাংশের ভাবের সঙ্গে অধিকতর সংগতিপূর্ণ? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘হামদ’ শব্দের বিশেষ অর্থ আল্লাহর প্রশংসা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য চরণে কবি বুঝিয়েছেন, স্রষ্টা পৃথিবীর মানুষকে একই অবস্থায় রাখেননি। তিনি কাউকে সম্পদশালী করেছেন, আবার কাউকে অভাবে ফেলে ভিক্ষা করতে বাধ্য করেছেন। এই বিভেদ স্রষ্টার ইচ্ছা ও বিধান অনুযায়ীই নির্ধারিত। কবি এভাবে মানুষের ভাগ্যের ভিন্নতার দিকটি তুলে ধরেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আজহার সাহেব অন্ন, বস্ত্র ও সুস্থ শরীরকে আল্লাহর দান বলেছেন। ‘হামদ’ কবিতাংশে কবি আলাওল দেখিয়েছেন, স্রষ্টা মানুষের জীবন বাঁচাতে ও সাজাতে নানা উপকরণ দিয়েছেন। ‘অন্ন আদি নানাবিধ দিয়াছে ভগত’ চরণে তিনি অন্ন প্রভৃতি খাদ্যের কথা বলেছেন। ‘সৃজিলেক বন তরু ফল নানা স্বাদ’ চরণে নানা স্বাদের ফল ও গাছপালার কথা আছে। ‘সৃজিলেক নানা রোগ নানান ঔষধ’ চরণ অনুযায়ী রোগের পাশাপাশি তিনি তার প্রতিকারের জন্য ঔষধও সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া সিপিতে মুক্তা-রত্ন, রৌদ্র-ছায়া ও শীত-গ্রীষ্ম সৃষ্টি করে তিনি মানুষের ভোগ ও বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়েছেন। এভাবে স্রষ্টা মানুষকে সবকিছু দিয়ে জীবন সুন্দর করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আজহার সাহেবের মনোভাবই ‘হামদ’ কবিতাংশের ভাবের সঙ্গে অধিকতর সংগতিপূর্ণ। ১. আজহার সাহেবের মনোভাব: তিনি সব প্রাপ্তিকে আল্লাহর দান মনে করেন এবং কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে গরিবদের সাহায্য করেন। কবিতাংশেও কবি জীবন, অন্ন ও নানা উপকরণের জন্য স্রষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, মানুষকে মহৎ করে সৃষ্টি করে স্রষ্টাই তাকে ভোগের সামগ্রী দিয়েছেন। ২. বৈষম্যের স্বীকৃতি: কবি দেখিয়েছেন, কাউকে স্রষ্টা ধনী, কাউকে ভিক্ষুক করেছেন। আজহার সাহেব এ বাস্তবতা বুঝে তাঁর সম্পদের অংশ অভাবীদের দেন। ৩. ছেলের মনোভাব: ছেলে সম্পদকে কেবল নিজেদের পরিশ্রমের ফল মনে করে। তার ভাবনায় স্রষ্টার দানের স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতা নেই। কবিতাংশের মূল সুর স্রষ্টার প্রতি প্রণাম ও প্রশংসা, তাই ছেলের মনোভাব এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ৪. মূল্যায়ন: কবিতাংশ শেখায়, মানুষের সুখ-সম্পদ স্রষ্টার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল এবং সব নিয়ামত তাঁর দান। এই বোধ থেকেই আজহার সাহেব দানশীল। সুতরাং, তাঁর মনোভাবই কবিতাংশের ভাবের সঙ্গে অধিকতর সংগতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও