কৃষিশিক্ষা • কৃষি ও জলবায়ু
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ের দুই প্রতিবেশী কৃষক করিম ও রহিম প্রত্যেকে ২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। করিম সাধারণ জাতের ধান লাগান। ধানের পরাগায়নের সময় টানা কয়েক দিন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ায় তার ধানে প্রচুর চিটা হয় এবং হেক্টরপ্রতি ফলন হয় মাত্র ৪ টন। রহিম কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ২০১১ সালে অনুমোদিত একটি আগাম ও উচ্চফলনশীল জাত লাগান। জাতটি মাঝারি শৈত্য সহ্য করতে পারে এবং এর জীবনকাল ১৪৫ দিন। রহিম হেক্টরপ্রতি গড়ে ৭ টন ফলন পান। এ বছর প্রতি টন ধানের দাম ছিল ৩০,০০০ টাকা।
- ক)(1)
শৈত্য-সহিষ্ণু ধানের দুটি জাতের নাম লেখো।
- খ)(2)
রোপণ আমন ও বোরো ধানের পরাগায়নের সময় শৈত্য বেশি পড়লে ফলন কমে যায় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রহিম ও করিমের মোট ধান উৎপাদনের পার্থক্য এবং তার আর্থিক মূল্য নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
রহিমের নির্বাচিত জাতটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে শৈত্যপ্রবণ এলাকার কৃষকদের জন্য জাতটি কতটা উপযোগী তা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শৈত্য-সহিষ্ণু ধানের দুটি জাত হলো ব্রি ধান ৫৫ ও ব্রি ধান ৫৬।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ধানের পরাগায়ন ও দানা গঠনের সময় গাছ তাপমাত্রার প্রতি খুব সংবেদনশীল থাকে। এ সময় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে এবং কয়েক দিন তা স্থায়ী হলে পরাগায়ন ঠিকমতো হয় না। ফলে দানা পুষ্ট না হয়ে চিটা হয়ে যায়। চিটার পরিমাণ বাড়ার কারণে ধানের ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপক অনুযায়ী, প্রত্যেকের জমির পরিমাণ ২ হেক্টর।
করিমের মোট উৎপাদন = ২ × ৪ = ৮ টন।
রহিমের মোট উৎপাদন = ২ × ৭ = ১৪ টন।
উৎপাদনের পার্থক্য = ১৪ − ৮ = ৬ টন।
প্রতি টন ধানের দাম ৩০,০০০ টাকা হলে আর্থিক মূল্যের পার্থক্য = ৬ × ৩০,০০০ = ১,৮০,০০০ টাকা।
অতএব, রহিম করিমের চেয়ে ৬ টন বেশি ধান পেয়েছেন, যার মূল্য ১,৮০,০০০ টাকা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিমের নির্বাচিত জাতটি ব্রি ধান ৫৫, যা ২০১১ সালে অনুমোদিত আগাম, উচ্চফলনশীল ও শৈত্য-সহিষ্ণু জাত। শৈত্যপ্রবণ এলাকার কৃষকদের জন্য এটি যথেষ্ট উপযোগী। যুক্তিগুলো হলো:
১. শৈত্য সহনশীলতা: বোরো মৌসুমে জাতটি মাঝারি শৈত্য সহ্য করতে পারে। তাই পরাগায়নের সময় তাপমাত্রা কমে গেলেও চিটা কম হয়। করিমের জাতে এ ক্ষমতা না থাকায় তার ফলন ৪ টনে নেমে গেছে।
২. উচ্চ ফলন: বোরো মৌসুমে এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ টন, যা রহিম পেয়েছেন। এতে করিমের চেয়ে তার ২ হেক্টরে ৬ টন বেশি ধান হয়েছে।
৩. আগাম জাত: জাতটি আগাম হওয়ায় জমি তাড়াতাড়ি খালি হয়, ফলে পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগ থাকে।
৪. বহুমুখী সহনশীলতা: জাতটি মাঝারি লবণাক্ততা ও খরাও সহ্য করতে পারে, তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অন্যান্য বিরূপ অবস্থাতেও এটি নির্ভরযোগ্য।
সুতরাং, ব্রি ধান ৫৫ শৈত্যপ্রবণ এলাকায় চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং রহিমের জাত নির্বাচন যথার্থ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও