সাহিত্য পাঠ • তোমার আপন পতাকা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধের সময় সালেহা বেগমের দুই ছেলে যুদ্ধে চলে যায়। পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, তবু তিনি ছেলেদের খোঁজ দেননি। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিতে এলে তিনি বলেন, “আমার ছেলেরা যদি ফিরে না-ও আসে, দেশ তো স্বাধীন হবে। তখন আমার চোখের জলও সার্থক।” দেশ স্বাধীন হলে তিনি পতাকার দিকে চেয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

  1. ক)

    ‘গিরিবর্ত্ম’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “সাত কোটি মুখ হাসে মৃত্যুর রঙিন তীর হাতে নিয়ে।”—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সালেহা বেগমের সঙ্গে ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার ‘মাতা’র যে পার্থক্য রয়েছে তা আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “সন্তানদের আত্মত্যাগেই মায়ের মুখের গ্লানি মুছে যায়—উদ্দীপক ও ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার এই ভাবটি যুক্তিসহ বিচার করো।”

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘গিরিবর্ত্ম’ শব্দের অর্থ পাহাড়ি পথ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাত কোটি বাঙালি মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে নেমেছিল। ‘মৃত্যুর রঙিন তীর’ বলতে কবি মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ সংগ্রামের প্রস্তুতিকে বুঝিয়েছেন। মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এত তীব্র যে মৃত্যুর সম্ভাবনাও তাদের মুখের হাসি কেড়ে নিতে পারেনি। এখানে মানুষের নির্ভীকতা ও আত্মত্যাগের মনোভাব ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সালেহা বেগম একজন ব্যক্তি-মা, আর ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার ‘মাতা’ হলো সমগ্র দেশ বা বঙ্গজননী। এখানেই মূল পার্থক্য।

    উদ্দীপকে সালেহা বেগমের দুই ছেলে যুদ্ধে যায়, তাঁর ঘর পোড়ে এবং তিনি ব্যক্তিগত ক্ষতি সয়েও দেশের স্বাধীনতাকে বড় করে দেখেন। অর্থাৎ তাঁর ত্যাগ ও বেদনা একটি পরিবারকেন্দ্রিক।

    কবিতায় ‘মাতা’ বলতে কবি স্বদেশ বাংলাকে বুঝিয়েছেন, যিনি ‘শুচিস্নিগ্ধ মাতা’, যাঁর ‘সাত কোটি সংশপ্তক সন্তান’। শত কোটি লাঞ্ছনার তিক্ত দাগ সারা দেহে সয়েও তিনি অমলিন। যুগে যুগে বহিঃশত্রুর আক্রমণে তাঁর বুক বিদীর্ণ হয়েছে, আবার তাঁর সন্তানেরা কোটি হাত এক করে তাঁর মুখের সব গ্লানি মুছে দিয়েছে। এই মাতা সমগ্র জাতির প্রতীক এবং তাঁর বেদনাও সমষ্টিগত ও ঐতিহাসিক।

    অতএব সালেহা বেগম ব্যক্তিগত পর্যায়ের মা, আর কবিতার মাতা সমগ্র জাতির প্রতিনিধি—এটিই দুয়ের পার্থক্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সন্তানদের আত্মত্যাগেই মায়ের গ্লানি মুছে যায়—উদ্দীপক ও কবিতা উভয়েই এই ভাব প্রতিফলিত হয়েছে; তাই কথাটি যুক্তিসংগত।

    কবিতায় বঙ্গজননী যুগে যুগে আক্রান্ত হয়েছেন। ‘ক্রূর পদাতিক’ ও ‘অশ্বারোহী’র খুরে তাঁর কোমল পলির বুক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, তাঁর মুখ ক্ষোভ ও লজ্জায় নত হয়েছে। কিন্তু ‘সাত কোটি সংশপ্তক সন্তান’ মৃত্যুর পরোয়া না করে একসঙ্গে মিছিলে নেমেছে, ‘কোটি হাত এক হাত হয়ে’ তাঁর মুখ আপন পতাকায় মুছিয়ে দিয়েছে। শত্রু পালিয়েছে এবং ‘প্রেম অবারিত হবে বিজয়ের ধারাজলে’—এভাবেই মায়ের বেদনা ঘুচেছে।

    উদ্দীপকে সালেহা বেগমের দুই ছেলে যুদ্ধে যায়। তাঁদের ঘর পুড়ে গেলেও তিনি ছেলেদের খবর দেননি। ছেলেরা ফিরুক বা না ফিরুক, দেশ স্বাধীন হলেই তাঁর চোখের জল সার্থক—এই বিশ্বাসে স্বাধীন পতাকার দিকে তাকিয়ে তিনি শান্ত হন। এখানেও সন্তানের ত্যাগ ও স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে মায়ের বেদনার মুক্তি ঘটেছে।

    তবে কবিতায় ‘মা’ সমগ্র দেশ, আর উদ্দীপকে মা একটি পরিবারের প্রতিনিধি; তাই পরিসরে পার্থক্য আছে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই সন্তানের আত্মত্যাগ ও পতাকার মধ্য দিয়ে মায়ের গ্লানি মোচনের মূল ভাবটি অভিন্ন। সুতরাং বক্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও