জীববিজ্ঞান • জীবে পরিবহন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

জীববিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে শিক্ষক সাইফুল সাহেব একটি বোতলের পানিতে কয়েক ফোঁটা লাল কালি মিশিয়ে মূলসহ একটি সতেজ Peperomia উদ্ভিদের মূল তাতে ডুবিয়ে রাখলেন। কয়েক ঘণ্টা পর কাণ্ড কেটে দেখা গেল, ভেতরের কিছু নালি লাল রঙে রঞ্জিত এবং পাতার শিরাতেও লাল রং পৌঁছেছে। তিনি আরও বললেন, মাটি থেকে উদ্ভিদ যে খনিজ লবণ নেয় তা আয়ন হিসেবে শোষিত হয় এবং কখনো কখনো এজন্য কোষে উৎপন্ন শক্তি খরচ হয়।

  1. ক)

    কোষরস কী?

    (1)
  2. খ)

    নিষ্ক্রিয় শোষণ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পরীক্ষায় রঙিন পানি পাতা পর্যন্ত পৌঁছানোর পেছনে কোন কোন বিষয় কাজ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পরীক্ষায় মাটির পানি ও খনিজ লবণ মূলরোম থেকে শুরু করে জাইলেমে পৌঁছানোর ধাপগুলো এবং খনিজ লবণ শোষণের উপায় বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোষের ভিতরের পানি এবং তাতে দ্রবীভূত খনিজ লবণকে একত্রে কোষরস (cell sap) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের মূলরোম ইমবাইবিশন ও অভিস্রবণের মাধ্যমে কোনো বিপাকীয় শক্তি খরচ না করেই খনিজ লবণ শোষণ করে, তাকে নিষ্ক্রিয় শোষণ (Passive absorption) বলে। এখানে কোষে উৎপন্ন কোনো শক্তির প্রয়োজন হয় না। এর বিপরীতে সক্রিয় শোষণে বিপাকীয় শক্তি লাগে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের পরীক্ষায় রঙিন পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে পাতায় পৌঁছেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী তিনটি বিষয় এজন্য দায়ী।

    ১. প্রস্বেদন টান: পাতা প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি হারালে জাইলেম বাহিকায় টান পড়ে। এই টানে মূলরোম দিয়ে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ উপরের দিকে উঠে পাতায় পৌঁছায়।

    ২. কৈশিক শক্তি: জাইলেম ভেসেল অত্যন্ত সরু নলের মতো হওয়ায় কৈশিক শক্তির কারণে কোষরস নালির গা বেয়ে উপরে ওঠে।

    ৩. মূলজ চাপ: মূলের কোষে অভিস্রবণের ফলে সৃষ্ট চাপ কোষরসকে জাইলেমের মধ্য দিয়ে ঠেলে উপরের দিকে পাঠায়।

    এই তিনটি বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে রঙিন পানি জাইলেমের পথে পাতার শিরায় পৌঁছেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত Peperomia উদ্ভিদটি মূলের মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণ নিয়েছে। প্রক্রিয়াটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    পানি শোষণ ও জাইলেমে পৌঁছানোর ধাপ:
    ১. প্রস্বেদনের ফলে পাতার কোষে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়। এই ঘাটতি পাশের কোষ থেকে ক্রমান্বয়ে মূলরোম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে চোষক শক্তি সৃষ্টি করে।
    ২. এই চোষক শক্তির টানে মাটির কৈশিক পানি অভিস্রবণ ও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় মূলরোমে ঢোকে।
    ৩. মূলরোম থেকে পানি কোষ থেকে কোষান্তরে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের কর্টেক্সে প্রবেশ করে।
    ৪. কর্টেক্স থেকে পানি অন্তঃত্বক ও পরিচক্র পেরিয়ে পরিবহন কলাগুচ্ছে (জাইলেম) পৌঁছায়।
    ৫. জাইলেম কলায় পৌঁছানোর পর পানি উপরের দিকে ও পাশের দিকে প্রবাহিত হয়ে শাখা-প্রশাখা হয়ে পাতায় যায়।

    খনিজ লবণ শোষণ: খনিজ লবণ আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। মূলের অগ্রভাগের কোষ বিভাজন অঞ্চল প্রধান শোষণ অঞ্চল হিসেবে কাজ করে। নিষ্ক্রিয় শোষণে ইমবাইবিশন ও অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শক্তি ছাড়াই লবণ শোষিত হয়। সক্রিয় শোষণে কোষে উৎপন্ন বিপাকীয় শক্তি ব্যয় করে লবণ পরিবহন করা হয়। উদ্দীপকে শক্তি খরচের কথা বলা হয়েছে, তাই সেটি সক্রিয় শোষণকে নির্দেশ করে।

    এভাবে অভিস্রবণ, ব্যাপন ও প্রস্বেদন টানের সমন্বয়ে পানি ও খনিজ লবণ জাইলেমে পৌঁছে পাতায় যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও