বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
১৯৭১ সালে চাঁদপুরের এক গ্রামের কৃষক করিম মিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের ঘরে আশ্রয় দিতেন এবং হানাদারদের চলাচলের খবর পৌঁছে দিতেন। কলকাতায় অবস্থানরত চিকিৎসক ড. আনোয়ার মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা সেলে কাজ করে বিশ্ববাসীর কাছে যুদ্ধের তথ্য পাঠাতেন। লন্ডনে প্রবাসী বাঙালি জনাব হাসান বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ সংগ্রহ করতেন এবং পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে দেখা করতেন।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধকে আর কী নামে অভিহিত করা যায়?
- খ)(2)
‘মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ’ – ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ড. আনোয়ার ও জনাব হাসানের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধের কোন কোন গোষ্ঠীর ভূমিকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘উদ্দীপকের চরিত্রগুলোর কর্মকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধকে গণযুদ্ধ বলার যথার্থতা প্রমাণ করে’ – বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধকে ‘গণযুদ্ধ’ বা ‘জনযুদ্ধ’ নামেও অভিহিত করা যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, পেশাজীবী, রাজনৈতিক কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেয়। সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাবার, ওষুধ ও শত্রুর তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। জনগণের সহযোগিতা ও স্বাধীনতার প্রতি আকাঙ্ক্ষার ফলেই মাত্র নয় মাসে বিজয় সম্ভব হয়েছে। তাই জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ড. আনোয়ারের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধে পেশাজীবীদের ভূমিকার সাথে এবং জনাব হাসানের ভূমিকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও সাংবাদিকের মতো পেশাজীবীরা মুজিবনগর সরকারের অধীনে পরিকল্পনা সেল গঠন করেন। তাঁরা বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সরবরাহ, সাহায্যের আবেদন, আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য প্রদান এবং শরণার্থীদের উৎসাহ প্রদানের কাজ করেন। ড. আনোয়ারও তেমন তথ্য পাঠিয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন, পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে সমর্থন চান এবং পাকিস্তানকে অস্ত্র না দিতে বিভিন্ন সরকারের কাছে আবেদন করেন। জনাব হাসানের অর্থ সংগ্রহ ও পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে যোগাযোগ এ ভূমিকারই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুক্তিযুদ্ধে সমাজের সকল স্তরের মানুষ অংশ নেওয়ায় একে গণযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ বলা হয়। উদ্দীপকের চরিত্রগুলোর কর্মকাণ্ড এই বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করে।
১. সাধারণ মানুষ: কৃষক করিম মিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং শত্রুর চলাচলের তথ্য দিয়েছেন। বাস্তবে সাধারণ মানুষ আশ্রয়, খাদ্য, ওষুধ ও খবরাখবর দিয়ে যোদ্ধাদের সহায়তা করেছে। ত্রিশ লাখ শহীদের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি।
২. পেশাজীবী: ড. আনোয়ার পরিকল্পনা সেলে কাজ করে বিশ্বের কাছে তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন। পেশাজীবীদের বড়ো অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
৩. প্রবাসী বাংলাদেশি: জনাব হাসান দেশের বাইরে থেকে অর্থ ও জনমত সংগ্রহ করেছেন। ব্রিটেন ও আমেরিকার প্রবাসীদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল।
৪. অন্যান্য অংশগ্রহণ: এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র, নারী, শ্রমিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন।
কেউ সরাসরি রণাঙ্গনে, কেউ তথ্য, আশ্রয়, অর্থ ও কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধে অবদান রেখেছেন। জনগণের এই সর্বাত্মক অংশগ্রহণের কারণেই মুক্তিযুদ্ধকে গণযুদ্ধ বলা যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও