সাহিত্য পাঠ • যৌবনের গান
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
রায়পুর গ্রামের কাঠের সাঁকোটি বহু বছর ধরে জরাজীর্ণ। বয়স্করা বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে এভাবেই চলছে, নতুন কিছু করার দরকার নেই; আল্লাহ ভরসা।’ একদিন সাঁকো ভেঙে এক শিশু নদীতে পড়ে গেলে ‘তারুণ্য ক্লাব’-এর সদস্য বিপ্লব ও তুহিন ঝাঁপ দিয়ে তাকে বাঁচায়। পরদিনই তারা চাঁদা তুলে এবং নিজেরা শ্রম দিয়ে নতুন সাঁকো গড়ার কাজ শুরু করে। ক্লাবের সভাপতি ষাটোর্ধ্ব হামিদ মাস্টারও তাদের সঙ্গে মাটি কাটেন।
- ক)(1)
‘যৌবনের গান’ রচনাটি কোথায় প্রদত্ত ভাষণের পরিমার্জিত লিখিত রূপ?
- খ)(2)
“বার্ধক্য তাহাই—যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে।”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তারুণ্য ক্লাবের সদস্যদের কাজে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের কোন রূপ প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“খোদা হাত দিয়াছেন বেহেশত ও বেহেশতি চিজ অর্জন করিয়া লইবার জন্য, ভিখারির মতো হাত তুলিয়া ভিক্ষা করিবার জন্য নয়।”—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘যৌবনের গান’ রচনাটি ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে প্রদত্ত ভাষণের পরিমার্জিত লিখিত রূপ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম বার্ধক্যকে বয়সের হিসাবে না দেখে মানসিকতার দিক থেকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যারা জীর্ণ সংস্কার, অচল প্রথা ও মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে থাকে এবং নতুনকে গ্রহণ করতে ভয় পায়, তারাই প্রকৃত বৃদ্ধ। এরা নব যাত্রীদের জয়যাত্রায় বোঝা ও বিঘ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই লেখকের মতে, বার্ধক্য হলো জড়তা ও পশ্চাৎপদতা, বয়স তার মাপকাঠি নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তারুণ্য ক্লাবের সদস্যদের কাজে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে বর্ণিত দুঃসাহসী ও মৃত্যুকে তুচ্ছ করা সেবাপরায়ণ রূপ এবং জীর্ণ পুরাতন ভেঙে নতুন করে গড়ার সাহসী রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
প্রবন্ধে নজরুল বলেছেন, যৌবন মৃত্যুকে মুষ্ঠিতলে রাখে এবং বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তিনি আরও বলেছেন, যে ঘর মাথায় পড়ার উপক্রম করে তাকে ভেঙে নতুন করে গড়ার দুঃসাহস একা তরুণেরই আছে। উদ্দীপকে বিপ্লব ও তুহিন নদীতে ঝাঁপ দিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচায়; নিজের ঝুঁকির কথা ভাবেনি। এরপর তারা জরাজীর্ণ সাঁকোর বদলে বয়স্কদের ‘যেমন চলছে চলুক’ মনোভাবকে উপেক্ষা করে নিজেরা শ্রম ও চাঁদা দিয়ে নতুন সাঁকো গড়তে শুরু করে। এতে বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক রূপ এবং পুরোনো ব্যবস্থা বদলে নতুন কিছু গড়ার সাহস—যৌবনের এই দুটি রূপই ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটির মাধ্যমে নজরুল বুঝিয়েছেন, মানুষকে স্রষ্টা কর্মক্ষম হাত দিয়েছেন নিজের চেষ্টায় কল্যাণ ও সুন্দর জীবন অর্জনের জন্য; কর্মহীন হয়ে শুধু প্রার্থনার ওপর নির্ভর করে বসে থাকার জন্য নয়। যারা পৃথিবীর নিয়ামত অর্জনের চেষ্টা না করে কেবল মোনাজাত করে, তাদের প্রার্থনা খোদা কবুল করবেন না।
উদ্দীপকে রায়পুরের বয়স্করা জরাজীর্ণ সাঁকোর বিপদ দেখেও সংস্কারের চেষ্টা না করে বলেন, ‘আল্লাহ ভরসা’। এটি নজরুলের বর্ণিত নিষ্ক্রিয়, অদৃষ্টনির্ভর ও ভিক্ষাপ্রার্থী মনোভাবের প্রতিফলন। এর ফল হলো সাঁকো ভেঙে শিশুটির নদীতে পড়ে যাওয়ার বিপদ। অন্যদিকে তারুণ্য ক্লাবের সদস্যরা হাত গুটিয়ে বসে না থেকে চাঁদা তুলে ও শ্রম দিয়ে নতুন সাঁকো গড়ে। এখানে ‘আমাদের পৃথিবী আমরা আমাদের মনের মতো করিয়া গড়িয়া লইব’—নজরুলের এই আহ্বানই কার্যকর হয়েছে। সভাপতি হামিদ মাস্টার বয়সে প্রবীণ হয়েও তরুণদের সঙ্গে মাটি কাটেন; এতে প্রমাণ হয় নজরুলের কথা অনুযায়ী যৌবন বয়সের নয়, মনের ধর্ম।
সুতরাং উক্তিটি উদ্দীপকের বয়স্কদের নিষ্ক্রিয় মোনাজাত-নির্ভরতার সমালোচনা করে এবং কর্মোদ্যমী তরুণদের উদ্যোগের যথার্থতা প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও