তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
কৃষি গবেষক ড. রহমান একটি ধানের জাত থেকে একটি অংশ কেটে আলাদা করে সেখানে অন্য একটি জীবের কীটপ্রতিরোধী অংশ জুড়ে দিয়ে নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এতে ধানের ফলন অনেক বেড়েছে। এলাকার কৃষক করিম ভয় পাচ্ছেন যে এমন ধান খেলে মানুষের অ্যালার্জি হতে পারে এবং প্রকৃতিতেও ক্ষতি হতে পারে।
- ক)(1)
GMO-এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
জিনোমকে জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ড. রহমান যে প্রক্রিয়ায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন তা ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
করিমের আশঙ্কা কতটা যৌক্তিক? দেশের খাদ্য সমস্যা সমাধানে এ প্রযুক্তি গ্রহণযোগ্য কি না, বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর GMO-এর পূর্ণরূপ Genetically Modified Organism।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জীবদেহের ডিএনএ-র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ জিন প্রাণীর বৈশিষ্ট্য বহন করে। এক সেট জিনকে জিনোম বলা হয়। জিনোম সিকোয়েন্স বলতে কোষের সম্পূর্ণ ডিএনএ বিন্যাসের ক্রম বোঝায় এবং জিনোম যত দীর্ঘ হয়, তার ধারণ করা তথ্যও তত বেশি হয়। জিনোমের ওপর নির্ভর করেই ঐ প্রাণী বা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে তা নির্ধারিত হয়। তাই জিনোমকে জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ড. রহমান জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ায় নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। ধাপগুলো নিম্নরূপ।
১. কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য নির্বাচন: জিন হলো প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের বাহক, তাই কীটপ্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের জিন নির্বাচন করা হয়।
২. জিন পৃথক করা: ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ-র সংশ্লিষ্ট অংশ কেটে আলাদা করা হয়।
৩. জিন সংযোজন: অন্য জীব (প্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া) থেকে কাঙ্ক্ষিত জিন কেটে এনে ধানের জিনোমের কাটা অংশে লাগিয়ে দেওয়া হয়।
৪. rDNA গঠন: এভাবে জিন পরিবর্তন করে যে নতুন ডিএনএ তৈরি হয় তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বা rDNA বলে।
৫. GMO তৈরি: rDNA সমৃদ্ধ জীবকোষকে Genetically Modified Organism (GMO) বলা হয়। এভাবে কীটপ্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল ধান পাওয়া যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর করিমের আশঙ্কা আংশিকভাবে যৌক্তিক। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন: অ্যালার্জির উদ্ভব, মানবদেহে প্রয়োগযোগ্য অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস, অযাচিত জিন স্থানান্তর এবং জীববৈচিত্র্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে বিপর্যয়। সুতরাং অ্যালার্জি ও প্রকৃতির ক্ষতির আশঙ্কা অমূলক নয়।
তবে এর সুবিধাও অনেক। বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য ঘাটতি থাকায় খাদ্য আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। উচ্চফলনশীল, রোগ ও পোকা প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বহুগুণ উৎপাদন করা যায়। প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিতে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে স্থানান্তর করা যায়। আমাদের ধান, পাট ও আখ গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যে এ প্রযুক্তিতে সফল হয়েছে।
আমার মতে, খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে এ প্রযুক্তি গ্রহণযোগ্য, তবে বাজারে ছাড়ার আগে কঠোর পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ক্ষতির ঝুঁকি কমে এবং সুফল পাওয়া যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও