সাহিত্য পাঠ • কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

নাট্যদল ‘মাটির টান’ উত্তরবঙ্গের এক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন নিয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ করেছে। নাটকে চরিত্ররা তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে, মাদল ও বাঁশির সুরে গান গায় এবং জমি হারানোর আশঙ্কায় একজন বৃদ্ধ সবার অজান্তে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। দর্শকরা বলাবলি করছিল, নাটকটি বাস্তব জীবনের এত কাছাকাছি যে সংলাপ ও পরিবেশ দুই-ই তাদের মুগ্ধ করেছে।

  1. ক)

    ‘লেলিহান সাধ’ গ্রন্থটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    “ভূমি তাদের অস্তিত্বেরই অপর নাম।”—সাঁওতালদের ক্ষেত্রে কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নাটকের ভাষা ও সংস্কৃতির যে দিকটি ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পে ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “সাঁওতালি কথনভঙ্গি, শব্দযোজনা ও যথোপযুক্ত প্রেক্ষাপট সৃজন গল্পটির শিল্পসাফল্য বাড়িয়েছে।”—উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘লেলিহান সাধ’ গ্রন্থটি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাঁওতালরা মূলত কৃষি ও প্রকৃতিনির্ভর জনগোষ্ঠী। তাদের বসতবাটি, আবাদি জমি, জীবিকা ও সংস্কৃতি সবই ভূমিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। ভূমির অধিকার নিয়ে তাদের রক্তে রঞ্জিত গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। তাই ভূমি হারানো মানে তাদের কাছে জীবন, পরিচয় ও অস্তিত্ব হারানো। এ কারণেই বলা হয়েছে, ভূমি তাদের অস্তিত্বেরই অপর নাম।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নাটকের আঞ্চলিক ভাষা, মাদল ও বাঁশির সুর এবং আদিবাসী সংস্কৃতির বাস্তব রূপ গল্পে ফুটে উঠেছে। গল্পে লেখক সাঁওতালি কথনভঙ্গি ব্যবহার করেছেন, যেমন ‘পুছে দেখ’, ‘ফম’, ‘ইব্ছর’, ‘জাড়’, ‘হামরা’, ‘কুনো’। এর মধ্য দিয়ে চরিত্রগুলোর স্বাভাবিক সংলাপ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। কপিলদাসের স্মৃতিতে পশনা পরবে গলায় মাদল বেঁধে নাচ, তির-ধনুক নিয়ে শিকার এবং বাঁশি বাজিয়ে ‘ফকির বলে চুলুক বাজে’ গানের চিত্রও আছে। উদ্দীপকেও ভাষা, গান ও বাদ্যযন্ত্রের মধ্য দিয়ে আদিবাসী জীবনের বাস্তবতা এসেছে। এভাবে উদ্দীপক ও গল্প উভয়ই সংস্কৃতিনির্ভর জীবনচিত্রের সাদৃশ্য প্রকাশ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে নাটকের সাফল্যের পেছনে আছে নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা, মাদল-বাঁশির সুর এবং বাস্তবসম্মত পরিবেশ, যা দর্শককে মুগ্ধ করে। গল্পেও লেখক শওকত আলী একই পথে এগিয়েছেন। প্রথমত, সাঁওতালি কথনভঙ্গি ব্যবহার করে ‘হামরা মহাজনের সঙ্গে নাই’, ‘তুই বুড়া মানুষ, তোর কিছু ফম থাকে না’ প্রভৃতি সংলাপ রচনা করেছেন, ফলে চরিত্রগুলো প্রাণবন্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ‘মড়ল’, ‘কান্দর’, ‘জাড়’, ‘আধিয়ার’-এর মতো শব্দ আদিবাসী ও কৃষিজীবনের পরিবেশ তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, টাঙনের শান্ত স্রোত, শীতের রোদ ও রাতের আগুনের পরিবেশ কপিলদাসের মনোজগৎ ও শেষ প্রতিরোধের পটভূমি রচনা করেছে। শওকত আলীর নৃ-তত্ত্ব ও সমাজবিজ্ঞানে আগ্রহের কারণে এ উপস্থাপন প্রামাণ্য ও জীবন্ত হয়েছে। উদ্দীপকের মতোই গল্পে ভাষা ও পরিবেশের এই বাস্তবতা পাঠকের কাছে বক্তব্যকে সহজেই পৌঁছে দিয়েছে। অতএব মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও