ভূগোল ১ম পত্র • ব্যবহারিক: মানচিত্র ও স্কেল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

বিদেশি পর্যটক মিস লিসা বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় তিনটি মানচিত্র পেলেন। প্রথম মানচিত্রে স্কেল লেখা আছে ‘১ ইঞ্চি = ১০ মাইল’। দ্বিতীয় মানচিত্রে একটি রেখার ওপর ভাগ দেওয়া আছে ও প্রতিটি ভাগের পাশে দূরত্ব লেখা আছে। তৃতীয় মানচিত্রে স্কেল লেখা আছে ১ : ৫০,০০০। তিনি তৃতীয় মানচিত্রে দুটি স্থানের মধ্যকার দূরত্ব মেপে পেলেন ৮ সে.মি.।

  1. ক)

    প্রতিভূ অনুপাত কী?

    (1)
  2. খ)

    বর্ণনার সাহায্যে প্রকাশিত স্কেল সব দেশের মানুষের কাছে বোধগম্য হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তৃতীয় মানচিত্রে দুটি স্থানের প্রকৃত দূরত্ব কত কিলোমিটার, নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তিনটি মানচিত্রের স্কেল প্রকাশের পদ্ধতির মধ্যে মিস লিসার মতো বিদেশি পর্যটকের জন্য কোনটি অধিক উপযোগী? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানচিত্রের দূরত্ব এবং ভূমির প্রকৃত দূরত্বের অনুপাতকে প্রতিভূ অনুপাত (R.F.) বলে, যেখানে লব ১ ও হর একটি বৃহৎ সংখ্যা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বর্ণনার সাহায্যে স্কেল প্রকাশে ইঞ্চি, মাইল, সেন্টিমিটার, কিলোমিটার প্রভৃতি একক ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন দেশে দূরত্ব মাপার একক বিভিন্ন হওয়ায় এক দেশের বর্ণনামূলক স্কেল অন্য দেশের মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে। যেমন রাশিয়ায় প্রচলিত ‘১ মাগেনিয়াম = ১০০০ ভাটস’ স্কেল বাংলাদেশি বা ভারতীয়দের কাছে বোধগম্য নয়। তাই বর্ণনামূলক স্কেল সব দেশের মানুষের কাছে সমানভাবে বোধগম্য হয় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেওয়া আছে, প্রতিভূ অনুপাত ১ : ৫০,০০০।
    অর্থাৎ মানচিত্রে ১ সে.মি. = ভূমিতে ৫০,০০০ সে.মি.
    মানচিত্রে ৮ সে.মি. = ভূমিতে ৮ × ৫০,০০০ = ৪,০০,০০০ সে.মি.
    আমরা জানি, ১ কি.মি. = ১,০০,০০০ সে.মি.
    সুতরাং ৪,০০,০০০ সে.মি. = ৪,০০,০০০ ÷ ১,০০,০০০ = ৪ কি.মি.

    অতএব, দুটি স্থানের প্রকৃত দূরত্ব ৪ কিলোমিটার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে প্রথম মানচিত্রে স্কেল বর্ণনার সাহায্যে, দ্বিতীয়টিতে রেখাচিত্র অঙ্কনের সাহায্যে এবং তৃতীয়টিতে প্রতিভূ অনুপাতের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়েছে। বিদেশি পর্যটকের জন্য তৃতীয় পদ্ধতি অর্থাৎ প্রতিভূ অনুপাত অধিক উপযোগী। এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রথম মানচিত্র (বর্ণনা): ‘১ ইঞ্চি = ১০ মাইল’ লেখা মানচিত্র শুধু সেই দেশের মানুষের কাছে সহজবোধ্য, যেখানে ইঞ্চি-মাইল পদ্ধতি প্রচলিত। যে দেশে মিটার-কিলোমিটার ব্যবহৃত হয়, সেখানকার পর্যটকের কাছে এটি বোঝা কঠিন হতে পারে।

    ২. দ্বিতীয় মানচিত্র (রেখাচিত্র): রেখা মাপনীতে লেখা দূরত্বের একক থাকে। এটি কেবল সেই জাতীয় দৈর্ঘ্য পরিমাপ পদ্ধতি প্রচলিত দেশেই সহজে ব্যবহারযোগ্য। অচেনা এককের কারণে বিদেশির বুঝতে সমস্যা হতে পারে।

    ৩. তৃতীয় মানচিত্র (প্রতিভূ অনুপাত): ১ : ৫০,০০০ লেখায় কোনো একক উল্লেখ করতে হয় না। লবের একক যা-ই হোক, হরের একক তা-ই হয়। ১ সে.মি. হলে ভূমিতে ৫০,০০০ সে.মি., ১ ইঞ্চি হলে ভূমিতে ৫০,০০০ ইঞ্চি। তাই যেকোনো দেশের মানুষ নিজের পরিচিত এককে সহজে দূরত্ব নির্ণয় করতে পারে।

    উপসংহারে বলা যায়, প্রতিভূ অনুপাত যেকোনো দেশে ব্যবহার করা যায় বলে মিস লিসার মতো বিদেশি পর্যটকের জন্য তৃতীয় মানচিত্রটিই সবচেয়ে উপযোগী। এজন্যই অধিকাংশ মানচিত্রে প্রতিভূ অনুপাত ব্যবহৃত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও