ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
কৃষক করিম মিয়া বছরের পর বছর একই জমিতে শুধু ধান চাষ করেন এবং প্রতিবার প্রচুর ইউরিয়া সার ব্যবহার করেন। তবুও জমির ফলন ক্রমশ কমছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাঁকে পরামর্শ দিলেন, এক মৌসুমে জমিতে মুগডাল বা মসুরডাল চাষ করতে, এতে সারের খরচ কমবে এবং জমির উর্বরতা বাড়বে। তিনি আরও বললেন, ডালের শিকড়ে বিশেষ ধরনের জীবাণু বাস করে এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সময়ও মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু নাইট্রোজেন যুক্ত হয়।
- ক)(1)
নাইট্রোজেন সংবন্ধন কী?
- খ)(2)
বজ্রপাতের সময় কীভাবে মাটিতে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডাল চাষ করলে জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কীভাবে বাড়বে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নাইট্রোজেন চক্রের ধাপগুলো বিবেচনায় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ কতটা যৌক্তিক? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন গ্যাসকে উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যবহার উপযোগী যৌগে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বজ্রপাত ও বিদ্যুৎক্ষরণের সময় বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) তৈরি করে। নাইট্রিক অক্সাইড আবার অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেন পারঅক্সাইড (NO₂) গঠন করে। এই NO₂ বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নাইট্রিক এসিড (HNO₃) ও নাইট্রাস এসিডে (HNO₂) পরিণত হয়ে মাটিতে পড়ে। মাটির ক্ষারীয় মূলকের উপস্থিতিতে এসিড নাইট্রেটে পরিণত হয় এবং উদ্ভিদ তা শোষণ করে। এটি ভৌত রাসায়নিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডাল জাতীয় ফসল শিম্বি গোত্রের উদ্ভিদ। এদের শিকড়ের গুটিতে রাইজোবিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া মিথোজীবী সম্পর্কে বাস করে। এই প্রক্রিয়াকে জৈবিক নাইট্রোজেন সংবন্ধন বলে। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
১. রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করে তাকে অ্যামোনিয়া জাতীয় যৌগে রূপান্তরিত করে।
২. এর একটি অংশ ডাল গাছ নিজে ব্যবহার করে। ব্যাকটেরিয়া গাছ থেকে খাদ্য ও আশ্রয় পায়, ফলে উভয়ই উপকৃত হয়।
৩. ফসল তোলার পর ডাল গাছের মূল ও অবশিষ্টাংশ মাটিতে মিশে পচে গেলে বিয়োজকদের মাধ্যমে নাইট্রোজেন যৌগ মাটিতে যুক্ত হয় এবং ক্রমে নাইট্রেটে রূপান্তরিত হয়।
এভাবে ডাল চাষে মাটির নাইট্রোজেন যৌগের পরিমাণ বাড়ে, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তী ধান চাষে কম সার লাগে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাইট্রোজেন চক্রে নাইট্রোজেন সংবন্ধন, অ্যামোনিফিকেশন, নাইট্রিফিকেশন ও ডিনাইট্রিফিকেশনের মতো ধাপ রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ এই ধাপগুলোর আলোকে যৌক্তিক, কারণ:
১. সংবন্ধনের সুযোগ: ডাল চাষে শিকড়ের রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বায়ুর মুক্ত নাইট্রোজেনকে মিথোজীবী পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য যৌগে রূপান্তর করে। ফলে মাটিতে বাইরে থেকে সার না দিয়েও নাইট্রোজেন যুক্ত হয়।
২. অ্যামোনিফিকেশন ও নাইট্রিফিকেশন: ডাল গাছের অবশিষ্টাংশ ও মৃত দেহ বিয়োজকদের মাধ্যমে অ্যামোনিয়ায় পরিণত হয় (অ্যামোনিফিকেশন)। পরে ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইট ও নাইট্রেটে রূপান্তর করে (নাইট্রিফিকেশন), যা পরবর্তী ধান গাছ সহজেই শোষণ করতে পারে।
৩. ডিনাইট্রিফিকেশন কমানো: অতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োগ করলে নাইট্রেটের একটি বড় অংশ ডিনাইট্রিফিকেশনের মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস হয়ে বায়ুতে ফিরে যায় এবং কিছু অংশ ধুয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে সারের অপচয় হয়। ডাল চাষে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেন যুক্ত হওয়ায় এ অপচয় কমে।
৪. পরিবেশ ও অর্থনীতি: রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমলে খরচ কমে এবং মাটি ও পানি দূষণের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
অতএব, নাইট্রোজেন চক্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানোর কারণে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শটি বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক ও কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও