সাহিত্য পাঠ • গহন কোন বনের ধারে

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

নব্বই বছরের বৃদ্ধ কালু মাঝি দীর্ঘদিন নদীর পাড়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে আসছেন। একদিন নদীভাঙনে সব হারিয়ে তিনি বললেন, 'আমি দেশে ফিরে যাব।' তাঁর দেশ কোথায় তা কেউ জানে না, কেউ নামও শোনেনি। ছেলেরা বোঝাল, ওখানে এতদিনে কেউ বেঁচে নেই, থাকলেও চিনবে না। কালু মাঝি কোনো যুক্তি মানলেন না। শেষে ভোরের ট্রেনে উঠে তিনি হাসিমুখে হাত নাড়লেন। তারপর আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

  1. ক)

    শোভা বুড়ো ট্রেনে চেপে কোথাকার একটি স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    "মা চোখ মুছলেন। কিন্তু শোভা বুড়োর মুখে উজ্জ্বল আনন্দ।"- কেন?

    (2)
  3. গ)

    কালু মাঝির সিদ্ধান্তের পেছনের মনস্তত্ত্ব শোভা বুড়োর ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "শোভা বুড়োর প্রস্থান পলায়ন নয়, বরং শেকড়ে ফেরার আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ।"- উদ্দীপক ও 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার আলোকে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোভা বুড়ো ট্রেনে চেপে মধ্যপ্রদেশের কোনো প্রত্যন্ত এলাকার একটি স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোভা বুড়ো দীর্ঘদিন বাগানে থেকে লেখকদের পরিবারের স্নেহের পাত্র হয়ে গিয়েছিল। তাই তার বিদায়ে মা বেদনায় চোখ মুছলেন। কিন্তু শোভা বুড়োর মন পড়ে ছিল তার ফেলে আসা দেশে। বহু খোঁজাখুঁজির পর সেই নামের স্টেশনের সন্ধান পাওয়ায় এবং দেশে ফিরতে পারার আশায় সে খুশিতে উজ্জ্বল ছিল। ফলে বিচ্ছেদের বেদনা ও ঘরে ফেরার আনন্দের এই বৈপরীত্য দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কালু মাঝির সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে শেকড়ের টান ও জন্মস্থানে ফেরার তীব্র আকুলতা, যা শোভা বুড়োর ক্ষেত্রেও সমানভাবে কার্যকর ছিল। উদ্দীপকে কালু মাঝি নদীভাঙনে সব হারিয়ে অজানা, অচেনা দেশে ফিরে যেতে চান। ছেলেদের যুক্তি তিনি শোনেননি। রচনায়ও শোভা বুড়ো একদিন বাহানা ধরে দেশে যাবে। কোথায় দেশ, কেউ জানে না। মা ও বড়দা তাকে বোঝান যে এতদিনে সেখানে কেউ বেঁচে নেই, আত্মীয় থাকলেও চিনবে না, কিন্তু সে একটাই কথা বলে, টিকিট কিনে দাও। শেষ পর্যন্ত স্টেশনমাস্টার পুঁথি ঘেঁটে মধ্যপ্রদেশের একটি স্টেশনের নাম খুঁজে পেলে সে আনন্দে ট্রেনে চেপে বসে। অর্থাৎ বয়স ও বাস্তবতার কোনো যুক্তি নয়, জন্মভূমির প্রতি আবেগই উভয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি মনে করি, শোভা বুড়োর প্রস্থান পলায়ন নয়, বরং শেকড়ে ফেরার আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ। রচনায় শোভা বুড়ো ছিল বাগানের দলছুট কুলি; তার আদি পরিচয় কেউ জানত না। পাঠ-পরিচিতি অনুসারে বনের একটি অংশ পুড়িয়ে ফেলার পর সে দুঃখ পায় এবং দীর্ঘকাল আগে ফেলে আসা পরিবারের কাছে ফিরে যায়। কেউ তাকে বোঝাতে পারেনি যে সেখানে কেউ নেই; তার একটাই দাবি ছিল টিকিট। মধ্যপ্রদেশের স্টেশনের সন্ধান পেয়ে সে উজ্জ্বল আনন্দে বিদায় নেয় এবং লেখকদের ঠিকানা লেখা পোস্টকার্ড নেড়ে ট্রেনে চড়ে। এতে পালানোর ভয় নেই, আছে ঘরে ফেরার আনন্দ। উদ্দীপকে কালু মাঝিও সব হারিয়ে হাসিমুখে অজানা দেশের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর যাত্রায় হতাশা নয়, আকাঙ্ক্ষাই প্রধান। তাই দুজনের প্রস্থানই আত্মপরিচয় ও শেকড়ের সন্ধান। যদিও প্রকৃতির সন্তান শোভা বুড়োর কাছে বনের ধ্বংসও এই প্রস্থানের কারণ হতে পারে, তবু তার আচরণে আশাবাদ ও আনন্দই প্রধান। অতএব মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও