সাহিত্য পাঠ • তাজমহল
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
আরিফ হোসেন তাঁর গল্পে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। কেবল কথোপকথন ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন। গল্পের এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক প্রতিদিন রাস্তার ধারে একটি সরকারি স্কুলের সামনে বসে থাকত। শেষ বাক্যে জানা যায়, এই স্কুলের জন্য জমিটি সে-ই দান করেছিল। এই বাক্যটি না পড়লে গল্পের আসল তাৎপর্য বোঝা যায় না।
- ক)(1)
‘তাজমহল’ গল্পটি বনফুলের কোন গল্প-সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে?
- খ)(2)
“এ গল্পের শেষ বাক্য না পড়লে গল্পের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ধরা পড়ে না”—কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের গল্প রচনার কৌশলের সঙ্গে ‘তাজমহল’ গল্পের কোন বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“‘তাজমহল’ গল্পে লেখক নিরাসক্ত বর্ণনায় ঘটনা সাজিয়ে জীবনসত্যকে পাঠকের উপলব্ধির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন”—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘তাজমহল’ গল্পটি বনফুলের ‘অদৃশ্যলোকে’ গল্প-সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘তাজমহল’ গল্পে বৃদ্ধ ভিখারিকে সাধারণ গরিব মানুষ বলেই মনে হয়। শেষ বাক্যে সে নিজের পরিচয় দেয় ‘ফকির শাহজাহান’। এই নামটি জানার পরই পাঠক বুঝতে পারেন সম্রাট শাহজাহানের তাজমহলের সঙ্গে বৃদ্ধের কবর গাঁথার অন্তর্নিহিত সাদৃশ্য রয়েছে। এই চমকের ভেতর দিয়েই গভীর জীবনসত্য প্রকাশ পায়। তাই শেষ বাক্য না পড়লে গল্পের আসল তাৎপর্য বোঝা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গল্প রচনার কৌশলের সঙ্গে ‘তাজমহল’ গল্পের সংহত শিল্পবিন্যাস, লেখকের মন্তব্যহীন বর্ণনা এবং শেষ বাক্যের চমকের মিল রয়েছে। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ‘তাজমহল’ গল্পটি বিস্তৃত পরিসরের নয়; বনফুল অত্যন্ত মিতবাক। গল্পের শেষ বাক্যে ‘ফকির শাহজাহান’ নামটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে এক গভীর জীবনসত্যের উন্মোচন ঘটে। উদ্দীপকের লেখকও কোনো মন্তব্য না করে কেবল ঘটনা ও সংলাপ দিয়ে গল্প এগিয়েছেন এবং শেষ বাক্যে জমিদানের তথ্য জানিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। উভয় গল্পেই জীবনসত্য সরাসরি না বলে ঘটনার মধ্য দিয়ে পাঠককে উপলব্ধি করানো হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ‘তাজমহল’ গল্পটি উত্তম পুরুষে বর্ণিত। কথক ডাক্তার নিরপেক্ষ দর্শকের মতো ঘটনা বর্ণনা করেছেন; কাহিনি, ঘটনা বা চরিত্র নিয়ে কোনো মন্তব্য বা বিশ্লেষণ যোগ করেননি। নিতান্ত প্রয়োজনীয় বর্ণনা ও সংলাপের বাইরে কোনো বাহুল্য নেই। বৃদ্ধের পিঠে বুড়িতে করে বেগমকে আনা, বৃষ্টিতে চাদর ধরে দাঁড়ানো, কবর গাঁথা—সবই কেবল দৃশ্যের মতো তুলে ধরা হয়েছে। বৃদ্ধের প্রেম মহৎ, এ কথা লেখক বলেননি; ‘ফকির শাহজাহান’ নামটি শুনেই পাঠক তা উপলব্ধি করেন।
উদ্দীপকের লেখকও কোনো মন্তব্য না করে ভিক্ষুকের বর্ণনা ও শেষ বাক্যের তথ্যের মাধ্যমে পাঠককে নিজে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে দিয়েছেন।
এভাবে মিতবাক ও নিরাসক্ত বর্ণনা গল্পকে ভারাক্রান্ত না করে বরং পাঠকের হৃদয়ে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও