পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র • ভৌত জগৎ ও পরিমাপ

পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ঝিনাইদহের একটি গ্রামের উপজেলা হাসপাতালে ডা. সালমা রোগীর বুকের ছবি তুলতে এক্স-রে এবং হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করতে ইসিজি ব্যবহার করেন; ক্যান্সার রোগীর জন্য রেডিওথেরাপিও দেওয়া হয়। একই গ্রামের কৃষক করিম ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করেন। গ্রামে বিদ্যুৎ আসে একটি জেনারেটরভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এবং সেই বিদ্যুতে চলে টেলিভিশন, রেডিও ও কলকারখানা।

  1. ক)

    জেনারেটর, মোটর ও ট্রান্সফরমার আবিষ্কারের মূলে পদার্থবিজ্ঞানের কোন আবিষ্কার রয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    পদার্থবিজ্ঞানকে বিজ্ঞানের চাবিকাঠি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত চিকিৎসা ও কৃষি ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞানের অবদান ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের গ্রামে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শক্তি রূপান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি উল্লেখ করে গ্রামীণ জীবনে বিদ্যুতের প্রভাব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জেনারেটর, মোটর ও ট্রান্সফরমার আবিষ্কারের মূলে রয়েছে ফ্যারাডের আবিষ্কৃত তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পদার্থবিজ্ঞান অন্যান্য বিজ্ঞানের মৌলিক শাখা, কারণ এর নীতিগুলোই বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার ভিত্তি রচনা করেছে। রসায়নে পরমাণুর গঠন ও রাসায়নিক বন্ধন, জীববিদ্যায় মাইক্রোস্কোপ ও এক্স-রের ব্যবহার, জ্যোতির্বিদ্যায় টেলিস্কোপ সবই পদার্থবিজ্ঞানের নীতির ওপর নির্ভরশীল। এর পরিসর অণু-পরমাণু থেকে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস পর্যন্ত বিস্তৃত। এজন্য পদার্থবিজ্ঞানকে বিজ্ঞানের চাবিকাঠি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর চিকিৎসা ক্ষেত্রে: পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবিত যন্ত্র সঠিক রোগ নির্ণয়ে অবদান রাখছে। এক্স-রে দিয়ে দেহের ভেতরের ছবি তুলে রোগ নির্ণয় করা হয় এবং ইসিজি দিয়ে হৃদযন্ত্রের কার্যকলাপ পরীক্ষা করা হয়। ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপিতে রেডিও আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

    কৃষি ক্ষেত্রে: কৃষি প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন এসেছে নতুন কৃষি যন্ত্রের উদ্ভাবন ও কৃষিকাজের যান্ত্রিকীকরণের ফলে। করিমের ট্রাক্টর এমনই একটি যন্ত্র। এসব যন্ত্রপাতি পদার্থবিজ্ঞানের অবদান, যার ফলে কৃষির ব্যাপক অগ্রগতি বা কৃষি বিপ্লব ঘটেছে।

    অতএব, চিকিৎসা ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই পদার্থবিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিভিন্ন শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। যেমন:
    (১) তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তাপ শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
    (২) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পানির বিভব শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
    (৩) পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়ায় সৃষ্ট নিউক্লিয় শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
    এসব ক্ষেত্রে জেনারেটর তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশের নীতিতে কাজ করে।

    গ্রামীণ জীবনে প্রভাব: বিদ্যুৎ আসার ফলে বৈদ্যুতিক পাখা, বাতি, টেলিভিশন, রেডিও ও কলকারখানা চালু হয়েছে। স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বের খবর মুহূর্তে পাচ্ছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসও জানতে পারছে। হাসপাতালের এক্স-রে, ইসিজির মতো যন্ত্র বিদ্যুতে চলে বলে চিকিৎসাসেবা উন্নত হয়েছে। কলকারখানায় কর্মসংস্থান ও শিল্পের উন্নয়ন ঘটছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে।

    সুতরাং শক্তি রূপান্তরের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ গ্রামীণ জীবনকে আরামদায়ক, নিরাপদ ও অধিক সমৃদ্ধ করেছে। এজন্যই আধুনিক যুগকে বৈদ্যুতিক যুগ বলা হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও