সাহিত্য পাঠ • নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারির রাতে শহিদ মিনারে ফুলের পাপড়ি আর মোমের আলো জ্বলে ওঠে। গ্রামের বৃদ্ধ ইলিয়াস সাহেব তখন নাতি-নাতনিদের গোল করে বসিয়ে বলেন, “সালাম, বরকত, রফিকের কথা আজ মনে পড়ে যায়। ওরা প্রাণ দিয়েছিল বলেই আমরা মুখের ভাষা পেয়েছি।” তাঁর কথা শুনে শিশুদের চোখেও যেন নতুন স্বপ্ন জেগে ওঠে।
- ক)(1)
সৈয়দ শামসুল হক কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
“অতীত হঠাৎ হানা দেয় মানুষের বন্ধ দরোজায়।”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ইলিয়াস সাহেবের কথায় ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার সমগ্র ভাব ফুটে ওঠেনি।”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এখানে কবি বোঝাতে চেয়েছেন, বর্তমানের সংকটকালে অতীতের গৌরবময় ইতিহাস হঠাৎ করেই মানুষের চেতনায় সাড়া দেয়। মানুষ যখন ভয়, হতাশা ও নীরবতায় নিজেকে বন্ধ করে রাখে, তখন ইতিহাসের প্রতিবাদী চরিত্র নুরলদীনের স্মৃতি তার মনের দরজায় আঘাত করে। পূর্ণিমার স্বচ্ছ আলোয় কবির মনে নুরলদীনের কথা জেগে ওঠে। এভাবে অতীত বর্তমানকে জাগরণের প্রেরণা জোগায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ইলিয়াস সাহেবের কথায় ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার অতীত ইতিহাসের বীরদের স্মরণের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মকে জাগিয়ে তোলার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
কবিতায় কবি সৈয়দ শামসুল হক পূর্ণিমার রাতে অতীতের কৃষক নেতা নুরলদীনকে স্মরণ করেছেন। ১১৮৯ সনে নুরলদীন ডাক দিয়েছিলেন এবং মানুষ জেগে উঠেছিল। কবি সেই স্মৃতি জাগিয়ে বলেছেন, সংকটের দিনে নুরলদীনের কথা বারবার মনে পড়ে। কবি সকলকে গোল হয়ে বসার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সবাই এই স্মৃতি থেকে শক্তি পায়।
উদ্দীপকে ইলিয়াস সাহেব ভাষাশহিদদের কথা স্মরণ করেছেন এবং শিশুদের গোল করে বসিয়ে তাদের ত্যাগের কাহিনি শুনিয়েছেন। এতে শিশুদের মনে নতুন স্বপ্ন জাগে। কবিতার মতোই এখানে অতীতের আত্মত্যাগী মানুষের স্মৃতি বর্তমান প্রজন্মের জন্য প্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে কবিতার এই দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকে ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার সমগ্র ভাব ফুটে ওঠেনি”—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে ইলিয়াস সাহেব ভাষাশহিদদের স্মরণ করে শিশুদের মধ্যে স্বপ্ন ও প্রেরণা সঞ্চারের কথা বলেছেন। এখানে অতীত স্মরণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জেগে ওঠার ইঙ্গিত আছে। কবিতার এই অংশের সঙ্গে উদ্দীপকের মিল রয়েছে।
কিন্তু কবিতার ভাব আরও বিস্তৃত। কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, যখন শকুন নেমে আসে সোনার বাংলায়, দেশ ছেয়ে যায় দালালদের আলখাল্লায়, স্বপ্ন লুট হয়ে যায় এবং কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত হয়, তখনই নুরলদীনকে মনে পড়ে। কবিতায় ১৯৭১-এর কালরাত, দালালদের দৌরাত্ম্য ও বাক-স্বাধীনতা হারানোর বেদনা এবং নুরলদীন যে চিরায়ত প্রতিবাদের প্রতীক, সে বিষয়গুলো রয়েছে। কবির বিশ্বাস, নুরলদীন আবার ডাক দেবেন—“জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”—এবং অভাগা মানুষ পাহাড়ি ঢলের মতো সব অন্যায় ভাসিয়ে দেবে।
উদ্দীপকে শোষণ, দালালদের উপস্থিতি, কণ্ঠরোধ বা নুরলদীনের আহ্বানের মতো প্রতিরোধের এই চিত্র নেই। কেবল স্মৃতিচারণ ও প্রেরণার দিকটি আছে। তাই উদ্দীপকে কবিতার সমগ্র ভাব প্রতিফলিত হয়নি; মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও