জীববিজ্ঞান • জীবনপাঠ
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
মিতুর স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় তিনটি জীবের বৈশিষ্ট্য নিচের ছকে দেখানো হয়েছে।
| জীব | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| A | এককোষী, নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়, মাইটোকন্ড্রিয়া নেই, কিন্তু রাইবোসোম আছে; দ্বিবিভাজনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে |
| B | দেহ মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত, কোষপ্রাচীর কাইটিনের তৈরি, ক্লোরোপ্লাস্ট নেই, হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি করে |
| C | সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, সালোকসংশ্লেষণকারী, দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র আছে এবং ভ্রূণ সৃষ্টি হয় |
- ক)(1)
সুপার কিংডম বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
ছত্রাক রাজ্যের জীবের খাদ্যগ্রহণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের A জীবটি কোন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের B ও C জীবের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মারগুলিসের শ্রেণিবিন্যাস অনুসারে জীবজগৎকে যে দুটি বৃহৎ ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং যার আওতায় পাঁচটি রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাকে সুপার কিংডম বলে। এ দুটি হলো প্রোকারিওটা ও ইউক্যারিওটা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফানজাই রাজ্যের জীবের দেহে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না, তাই এরা নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এরা শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। অধিকাংশ ছত্রাক মৃতজীবী, অর্থাৎ মৃত জৈব পদার্থ থেকে এবং কিছু ছত্রাক পরজীবী হিসেবে জীবিত পোষকদেহ থেকে খাদ্য শোষণ করে। ইস্ট, Penicillium, মাশরুম এ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের A জীবটি মনেরা (Monera) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, মনেরা রাজ্যের জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো A জীবে বিদ্যমান। যেমন: ১. মনেরা রাজ্যের জীব এককোষী ও আদিকোষ বিশিষ্ট; এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়, নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাস নেই। A জীবেরও নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। ২. এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না, কিন্তু রাইবোসোম থাকে। A জীবে মাইটোকন্ড্রিয়া নেই, রাইবোসোম আছে। ৩. মনেরার কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় ঘটে। A জীবও দ্বিবিভাজনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। অতএব, A জীবটি প্রোকারিওটা সুপার কিংডমের অন্তর্ভুক্ত মনেরা রাজ্যের জীব, যেমন ব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল (Nostoc)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের B জীবটি ফানজাই রাজ্যের এবং C জীবটি প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। দুটিই ইউক্যারিওটা সুপার কিংডমের জীব এবং এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত হলেও নিচের বৈশিষ্ট্যগুলোতে পার্থক্য রয়েছে। ১. খাদ্য সংগ্রহ: B জীবে ক্লোরোপ্লাস্ট নেই বলে এটি শোষণ পদ্ধতিতে মৃতজীবী বা পরজীবী হিসেবে খাদ্যগ্রহণ করে। C জীবে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এটি সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে। ২. কোষপ্রাচীর: B জীবের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত, আর প্লানটি রাজ্যের C জীবের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। ৩. দেহগঠন: B জীবের দেহ এককোষী বা সরু সুতার মতো মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত; C জীবের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। ৪. ভ্রূণ ও বংশবৃদ্ধি: B জীব হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি করে এবং এতে কোনো ভ্রূণ সৃষ্টি হয় না। অন্যদিকে C জীবে ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। এছাড়া C জীবের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস। সুতরাং, উন্নত টিস্যুতন্ত্র, ভ্রূণ সৃষ্টি ও স্বভোজী প্রকৃতির কারণে C জীব B জীব থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও